১১:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মাগুরায় ১৪ শতাব্দী পূর্বের ধোপাখালী গ্রামে আজও কালের সাক্ষী চন্ডীদাস ও রজকিনীর কিংবদন্তি প্রেম কাহিনী ইতিহাস।

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:৪৩:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • /

শালিখা (মাগুরা) প্রতিনিধি লক্ষণ কুমার মন্ডল।
চণ্ডীদাস আর রজকিনীর অমর প্রেমকাহিনীর কথা আমরা মোটামুটি সবাই জানি। প্রেমিক প্রেমিকার পবিত্র মনের ভালোবাসার বন্ধন যে কেমন হতে পারে তা এরা শিখিয়ে গেছেন।

এই চণ্ডীদাস আর রজকিনীর প্রেমকাহিনী কোনো কিংবদন্তি নয়, এটি একটি সত্য ঘটনা যা এখানেই শুরু হয়েছিল। মাগুরা সদর উপজেলা থেকে ২৫ কিলোমিটার দক্ষিণে শালিখা উপজেলার শতখালি ইউনিয়নের ধোপাখালী গ্রাম। চণ্ডীদাস-রজকিনীর স্মৃতিঘেরা ধোপাখালী গ্রামটা পাখ-পাখালির ডাকে ছায়া সুনিবিড় সত্যিকারের বাংলার গ্রাম।

জনশ্রুতি আছে ১৪ শতকের শেষ ভাগের দিকের ঘটনা। চণ্ডীদাসের বাবা ছিলেন এই এলাকার একজন ছোটখাটো ব্রাহ্মণ জমিদার আর রজকিনী ছিল ধোপার মেয়ে।

অপরূপা রজকিনী কন্যা কে দেখে চণ্ডীদাস জাতপাত ভুলে তার প্রেমে পড়ে যায়। তাদের দুজনের বাড়ির মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে বেগবতী নদী। রজকিনী ওপারের ঘাটে কাপড় ধুতে আসলে চণ্ডীদাস মাছ ধরার ছলে বড়শি নিয়ে এপারে বসে তাকে দেখত। এভাবে চলতে থাকে ১২ বছর। ১২ বছর পর একদিন রজকিনী এসে চণ্ডীদাসকে জিজ্ঞেস করে, ‘বরশিতে কি মাছ ধরে’ আর তখনই শুরু হয় তাদের কথোপকথন। কিন্তু সমাজ তাদের এ প্রেম মেনে নেয় না। নানা অপবাদে জর্জরিত হয়ে প্রেমিক-প্রেমিকা একদিন সব ছেড়ে পালিয়ে যায় ভারতের বাকুরা ছাতনা গ্রামে। সেখানেও সুখ না মিললে তারা বৃন্দাবনে চলে যান, তারপর তাদের কোনো খোঁজ আর পাওয়া যায়নি।

ঘটনার বিস্তারিত জানালেন ধোপাখালী গ্রামের মানবাধিকার সদস্য ও সাপ্তাহিক সন্ধ্যা বাণী পত্রিকার সাংবাদিক আতিয়ার রহমান। সে জানায় দূর দুরান্ত থেকে লোকজন এখানে এসে মান্নত করে তাদের মনোবাসনা পূর্ণ করে থাকে। তিনি আরও বলেন এখানে একটা অলৌকিক অদৃশ্য পবিত্র শক্তি আছে ভালো মনে সৎ বিশ্বাস করে আসলে মানুষের মনবাসনা পূর্ণ হয়। তিনি সরকারের কাছে জায়গাট খনন করে সংস্কার ও মাছ চাষের আশা করেন।

নমিতা রাণী সরকার জানান, আমার বাড়ির পিছনে রজকিনী দাসীর গোপাল মন্দির অবস্থিত উচু স্তম্ভ স্মৃতি চিহ্ন। তিনি আরও বলেন ভারত থেকে ও বাংলাদেশের খুলনা বিভাগীয় সাংবাদিক আইয়ুব হোসেন গত ৭ বছর পূর্বে এখানে এসেছিলেন। আর আইয়ুব হোসেন সাংবাদিকের পরিচয় হলো শালিখা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোজাফফর হোসেন টুকুর আপন ভাই।

শিলা বিশ্বাস জানান, আমার বাড়ির সামনে উচু ঢিবিটা চণ্ডিদাসের ঘর ও পানিতে নামার সিড়ি ছিলো। তিনি বহু বছরের পুরনো চুন-সুরকি মিশ্রিত খন্ড ও বহু শতাব্দীর পোড়া ইটের ফলক দেখান। তিনি ছোটবেলায় নিজের চোখে দেখেছেন একবার এই বাওড়ের পানি অন্য জায়গায় দেওয়ার জন্য মেশিন লাগালে সঙ্গে সঙ্গে মেশিনের লোক র*ক্ত উঠে মারা যায়। আর তিনপাশের বিশাল এই পানিতে সোনার নৌকা ডুবে যায় বেশ কয়েক বছর পূর্বেও দেল ভেসে উঠতে দেখা যেত। মানুষের অত্যাচারে ও একবার মান্নত করা টাকা-পয়সা চুরি হওয়ার পর দেল এখন আর উঠে না। তবে মাঝখানে যেখানে সোনার নৌকা ডুবে ছিলো ও দেল উঠতো এখনও বর্তমানে পানি শুকায় না।

Please Share This Post in Your Social Media

মাগুরায় ১৪ শতাব্দী পূর্বের ধোপাখালী গ্রামে আজও কালের সাক্ষী চন্ডীদাস ও রজকিনীর কিংবদন্তি প্রেম কাহিনী ইতিহাস।

আপডেট: ১১:৪৩:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শালিখা (মাগুরা) প্রতিনিধি লক্ষণ কুমার মন্ডল।
চণ্ডীদাস আর রজকিনীর অমর প্রেমকাহিনীর কথা আমরা মোটামুটি সবাই জানি। প্রেমিক প্রেমিকার পবিত্র মনের ভালোবাসার বন্ধন যে কেমন হতে পারে তা এরা শিখিয়ে গেছেন।

এই চণ্ডীদাস আর রজকিনীর প্রেমকাহিনী কোনো কিংবদন্তি নয়, এটি একটি সত্য ঘটনা যা এখানেই শুরু হয়েছিল। মাগুরা সদর উপজেলা থেকে ২৫ কিলোমিটার দক্ষিণে শালিখা উপজেলার শতখালি ইউনিয়নের ধোপাখালী গ্রাম। চণ্ডীদাস-রজকিনীর স্মৃতিঘেরা ধোপাখালী গ্রামটা পাখ-পাখালির ডাকে ছায়া সুনিবিড় সত্যিকারের বাংলার গ্রাম।

জনশ্রুতি আছে ১৪ শতকের শেষ ভাগের দিকের ঘটনা। চণ্ডীদাসের বাবা ছিলেন এই এলাকার একজন ছোটখাটো ব্রাহ্মণ জমিদার আর রজকিনী ছিল ধোপার মেয়ে।

অপরূপা রজকিনী কন্যা কে দেখে চণ্ডীদাস জাতপাত ভুলে তার প্রেমে পড়ে যায়। তাদের দুজনের বাড়ির মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে বেগবতী নদী। রজকিনী ওপারের ঘাটে কাপড় ধুতে আসলে চণ্ডীদাস মাছ ধরার ছলে বড়শি নিয়ে এপারে বসে তাকে দেখত। এভাবে চলতে থাকে ১২ বছর। ১২ বছর পর একদিন রজকিনী এসে চণ্ডীদাসকে জিজ্ঞেস করে, ‘বরশিতে কি মাছ ধরে’ আর তখনই শুরু হয় তাদের কথোপকথন। কিন্তু সমাজ তাদের এ প্রেম মেনে নেয় না। নানা অপবাদে জর্জরিত হয়ে প্রেমিক-প্রেমিকা একদিন সব ছেড়ে পালিয়ে যায় ভারতের বাকুরা ছাতনা গ্রামে। সেখানেও সুখ না মিললে তারা বৃন্দাবনে চলে যান, তারপর তাদের কোনো খোঁজ আর পাওয়া যায়নি।

ঘটনার বিস্তারিত জানালেন ধোপাখালী গ্রামের মানবাধিকার সদস্য ও সাপ্তাহিক সন্ধ্যা বাণী পত্রিকার সাংবাদিক আতিয়ার রহমান। সে জানায় দূর দুরান্ত থেকে লোকজন এখানে এসে মান্নত করে তাদের মনোবাসনা পূর্ণ করে থাকে। তিনি আরও বলেন এখানে একটা অলৌকিক অদৃশ্য পবিত্র শক্তি আছে ভালো মনে সৎ বিশ্বাস করে আসলে মানুষের মনবাসনা পূর্ণ হয়। তিনি সরকারের কাছে জায়গাট খনন করে সংস্কার ও মাছ চাষের আশা করেন।

নমিতা রাণী সরকার জানান, আমার বাড়ির পিছনে রজকিনী দাসীর গোপাল মন্দির অবস্থিত উচু স্তম্ভ স্মৃতি চিহ্ন। তিনি আরও বলেন ভারত থেকে ও বাংলাদেশের খুলনা বিভাগীয় সাংবাদিক আইয়ুব হোসেন গত ৭ বছর পূর্বে এখানে এসেছিলেন। আর আইয়ুব হোসেন সাংবাদিকের পরিচয় হলো শালিখা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোজাফফর হোসেন টুকুর আপন ভাই।

শিলা বিশ্বাস জানান, আমার বাড়ির সামনে উচু ঢিবিটা চণ্ডিদাসের ঘর ও পানিতে নামার সিড়ি ছিলো। তিনি বহু বছরের পুরনো চুন-সুরকি মিশ্রিত খন্ড ও বহু শতাব্দীর পোড়া ইটের ফলক দেখান। তিনি ছোটবেলায় নিজের চোখে দেখেছেন একবার এই বাওড়ের পানি অন্য জায়গায় দেওয়ার জন্য মেশিন লাগালে সঙ্গে সঙ্গে মেশিনের লোক র*ক্ত উঠে মারা যায়। আর তিনপাশের বিশাল এই পানিতে সোনার নৌকা ডুবে যায় বেশ কয়েক বছর পূর্বেও দেল ভেসে উঠতে দেখা যেত। মানুষের অত্যাচারে ও একবার মান্নত করা টাকা-পয়সা চুরি হওয়ার পর দেল এখন আর উঠে না। তবে মাঝখানে যেখানে সোনার নৌকা ডুবে ছিলো ও দেল উঠতো এখনও বর্তমানে পানি শুকায় না।