১১:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রত্যন্ত এলাকায় আশার আলো: খাগড়াছড়িতে অসহায় পরিবারগুলোর হাতে হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৮:৩৮:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১০

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
প্রান্তিক পাহাড়ি জনপদের নিরব সকালে হঠাৎ যেন বদলে গেল চিত্র। পাহাড়ঘেরা পাড়ার কাঁচা পথে আজ খালি হাতে নয়, হাঁস, মুরগি, গরু আর ছাগল নিয়ে বাড়ি ফিরছেন অসহায় পরিবারের সদস্যরা। কারও চোখে আনন্দের জল, কারও মুখে নতুন জীবনের স্বপ্ন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন সহায়তার আওতায় খাগড়াছড়িতে অসহায় ও দুঃস্থ পরিবারগুলোর আত্মকর্মসংস্থান ও আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু বিতরণ করেছে পার্বত্য জেলা পরিষদ। এই উদ্যোগে প্রত্যন্ত এলাকার শতাধিক দরিদ্র পরিবার নতুন আশার আলো দেখছে।

খাগড়াছড়ি জেলার ভাইবোনছড়া ইউনিয়নের গাছবান ২নং প্রকল্প এলাকার আওতায় মঙ্গলবার (৩ফেব্রুয়ারি) সকালে কুমারধন রোয়াজা পাড়ায় আয়োজিত বিতরণ কার্যক্রমে দীঘিনালা, খাগড়াছড়ি সদর ও মাটিরাঙ্গা উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বাছাই করা শতাধিক অসহায়, গরীব ও দুঃস্থ পরিবারকে হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু প্রদান করা হয়।

এই সহায়তা কার্যক্রমে পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ধনেশ্বর ত্রিপুরা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অসহায় পরিবারগুলোর মাঝে হাঁস, মুরগি, গরু ও ছাগল বিতরণ করেন।

এই সহায়তা কেবল অনুদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি পাহাড়ি জনপদের মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদি আত্মকর্মসংস্থানের একটি বাস্তব সুযোগ। ঘরে বসেই আয় করার পথ তৈরি করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

উপকারভোগী অনিকা ত্রিপুরা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন,
“আমি গরীব মানুষ। দিনে আনি, দিনে খাই। আজ জেলা পরিষদ থেকে গবাদিপশু পেয়েছি। এটা লালন-পালন করে সামনে স্বাবলম্বী হতে পারবো। আমাদের জন্য এটা অনেক বড় সহায়তা।”

আরেক উপকারভোগী জানান,“আমাদের এলাকায় কাজের সুযোগ খুব কম। হাঁস-মুরগি পেলে ঘরে বসেই কিছু আয় করা যাবে। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ চালাতে পারবো। আগে শুধু দিন পার করতাম, এখন ভবিষ্যতের কথা ভাবতে পারছি।”

বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদের সদস্য ধনেশ্বর ত্রিপুরা বলেন,“প্রত্যন্ত এলাকার অসহায় ও দুঃস্থ নারী ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দে জেলা পরিষদের মাধ্যমে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আজ এখানে শতাধিক পরিবারকে গরু, ছাগল, হাঁস ও মুরগি বিতরণ করা হয়েছে। এগুলো লালন-পালন করে তারা স্বাবলম্বী হতে পারবে।”

খাগড়াছড়ির প্রত্যন্ত পাহাড়ি পাড়াগুলোতে জীবিকার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। ফলে জেলা পরিষদের এই উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের কাছে শুধু সহায়তা নয়, বরং একটি টেকসই জীবনের স্বপ্ন দেখার সুযোগ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়রা মনে করছেন, এ ধরনের প্রকল্প নিয়মিত বাস্তবায়ন হলে পার্বত্য অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক অবস্থায় ইতিবাচক ও স্থায়ী পরিবর্তন আসবে।

আত্মনির্ভরশীলতার পথে এগিয়ে যাবে পাহাড়ের মানুষ,যা বদলে দিতে পারে পুরো জনপদের ভবিষ্যৎ।

Please Share This Post in Your Social Media

প্রত্যন্ত এলাকায় আশার আলো: খাগড়াছড়িতে অসহায় পরিবারগুলোর হাতে হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু

আপডেট: ০৮:৩৮:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
প্রান্তিক পাহাড়ি জনপদের নিরব সকালে হঠাৎ যেন বদলে গেল চিত্র। পাহাড়ঘেরা পাড়ার কাঁচা পথে আজ খালি হাতে নয়, হাঁস, মুরগি, গরু আর ছাগল নিয়ে বাড়ি ফিরছেন অসহায় পরিবারের সদস্যরা। কারও চোখে আনন্দের জল, কারও মুখে নতুন জীবনের স্বপ্ন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন সহায়তার আওতায় খাগড়াছড়িতে অসহায় ও দুঃস্থ পরিবারগুলোর আত্মকর্মসংস্থান ও আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু বিতরণ করেছে পার্বত্য জেলা পরিষদ। এই উদ্যোগে প্রত্যন্ত এলাকার শতাধিক দরিদ্র পরিবার নতুন আশার আলো দেখছে।

খাগড়াছড়ি জেলার ভাইবোনছড়া ইউনিয়নের গাছবান ২নং প্রকল্প এলাকার আওতায় মঙ্গলবার (৩ফেব্রুয়ারি) সকালে কুমারধন রোয়াজা পাড়ায় আয়োজিত বিতরণ কার্যক্রমে দীঘিনালা, খাগড়াছড়ি সদর ও মাটিরাঙ্গা উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বাছাই করা শতাধিক অসহায়, গরীব ও দুঃস্থ পরিবারকে হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু প্রদান করা হয়।

এই সহায়তা কার্যক্রমে পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ধনেশ্বর ত্রিপুরা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অসহায় পরিবারগুলোর মাঝে হাঁস, মুরগি, গরু ও ছাগল বিতরণ করেন।

এই সহায়তা কেবল অনুদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি পাহাড়ি জনপদের মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদি আত্মকর্মসংস্থানের একটি বাস্তব সুযোগ। ঘরে বসেই আয় করার পথ তৈরি করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

উপকারভোগী অনিকা ত্রিপুরা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন,
“আমি গরীব মানুষ। দিনে আনি, দিনে খাই। আজ জেলা পরিষদ থেকে গবাদিপশু পেয়েছি। এটা লালন-পালন করে সামনে স্বাবলম্বী হতে পারবো। আমাদের জন্য এটা অনেক বড় সহায়তা।”

আরেক উপকারভোগী জানান,“আমাদের এলাকায় কাজের সুযোগ খুব কম। হাঁস-মুরগি পেলে ঘরে বসেই কিছু আয় করা যাবে। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ চালাতে পারবো। আগে শুধু দিন পার করতাম, এখন ভবিষ্যতের কথা ভাবতে পারছি।”

বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদের সদস্য ধনেশ্বর ত্রিপুরা বলেন,“প্রত্যন্ত এলাকার অসহায় ও দুঃস্থ নারী ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দে জেলা পরিষদের মাধ্যমে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আজ এখানে শতাধিক পরিবারকে গরু, ছাগল, হাঁস ও মুরগি বিতরণ করা হয়েছে। এগুলো লালন-পালন করে তারা স্বাবলম্বী হতে পারবে।”

খাগড়াছড়ির প্রত্যন্ত পাহাড়ি পাড়াগুলোতে জীবিকার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। ফলে জেলা পরিষদের এই উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের কাছে শুধু সহায়তা নয়, বরং একটি টেকসই জীবনের স্বপ্ন দেখার সুযোগ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়রা মনে করছেন, এ ধরনের প্রকল্প নিয়মিত বাস্তবায়ন হলে পার্বত্য অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক অবস্থায় ইতিবাচক ও স্থায়ী পরিবর্তন আসবে।

আত্মনির্ভরশীলতার পথে এগিয়ে যাবে পাহাড়ের মানুষ,যা বদলে দিতে পারে পুরো জনপদের ভবিষ্যৎ।