১০:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

২৪টি ধারা বাস্তবায়িত, বাকিটা কাগজে’-সরকারের বিরুদ্ধে জেএসএসের ক্ষোভ : আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:৩৯:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ৪৩

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি।। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ৭২টি ধারা বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ‘ভুল তথ্য’ ও ‘মিথ্যাচার’ প্রচারের অভিযোগ তুলেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা)।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা দাবি করেছেন সরকার যেসব অগ্রগতি দেখাচ্ছে, বাস্তবে তার বড় অংশই সঠিক নয়; চুক্তির মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ বহু ধারা এখনো সম্পূর্ণ অবাস্তবায়িত।

মঙ্গলবার সকালে জেলা সদরের মারমা উন্নয়ন সংসদ চত্বরে আয়োজিত এক গণসমাবেশ ও আলোচনা সভায় এ অভিযোগ করেন জেএসএস নেতারা।

“সরকার ভুল পরিসংখ্যান দিচ্ছে”- সুধাকর ত্রিপুরা

আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুধাকর ত্রিপুরা বলেন,“সরকারি তথ্য অনুযায়ী চুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে নাকি ৪৮টি বাস্তবায়িত, ১৫টি আংশিক বাস্তবায়িত এবং ৯টি বাস্তবায়িত হয়নি। এটি পুরোপুরি মিথ্যাচার।

আমাদের গবেষণায় দেখা যায়,মাত্র ২৪টি ধারা সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হয়েছে, ১৪টি আংশিক আর ৩৪টি ধারা এখনো পুরোপুরি অবাস্তবায়িত।”

তিনি বলেন, চুক্তির মৌলিক ধারা,বিশেষ করে ভূমি কমিশনের বিধিমালা প্রণয়ন, বিচারিক কার্যক্রম শুরু, প্রশাসনিক ক্ষমতা হস্তান্তর,কোনোটিই এখনো সুবিন্যস্তভাবে বাস্তবায়িত হয়নি।

ভূমি কমিশন ও প্রশাসনিক ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি;

সুধাকর ত্রিপুরা আরও বলেন,

“চুক্তি মোতাবেক ভূমি কমিশনকে কার্যকর করতে হলে দ্রুত বিধিমালা প্রণয়ন ও বিচারিক কার্যক্রম শুরু করা জরুরি। পাশাপাশি ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি কার্যকর রাখা, আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের কাছে প্রশাসন, পুলিশ, ভূমি ব্যবস্থাপনা, উপজাতীয় আইনসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে হস্তান্তর করা সরকারের দায়িত্ব।”

‘২৮ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি’— ক্ষোভ প্রকাশ জেএসএস নেতাদের

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক সুদর্শন চাকমা বলেন, “দীর্ঘ ২৪ বছরের সংগ্রামের বিনিময়ে ১৯৯৭ সালে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। কিন্তু ২৮ বছর পার হলেও এখনো মৌলিক ধারাগুলো বাস্তবায়ন হয়নি। এটি পাহাড়ের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা।”

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন,

“সরকার যদি এখনো কার্যকর উদ্যোগ না নেয়, তবে আমরা আবারও নতুন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামতে বাধ্য হবো।”

স্থায়ী শান্তির স্বার্থে চুক্তি বাস্তবায়নের আহ্বান;

সভায় বক্তারা বলেন, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন ছাড়া পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসা সম্ভব নয়। সরকারের প্রতি তারা দ্রুত অগ্রগতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেএসএস (এমএন লারমা) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি সুভাষ কান্তি চাকমা।

এসময় আরও বক্তব্য রাখেন,কেন্দ্রীয় সভাপতি বিমল কান্তি চাকমা,কেন্দ্রীয় এবং জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা

গণসমাবেশে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিপুল সংখ্যক দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশ নেন। সমাবেশ শেষে পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ছিল।

Please Share This Post in Your Social Media

২৪টি ধারা বাস্তবায়িত, বাকিটা কাগজে’-সরকারের বিরুদ্ধে জেএসএসের ক্ষোভ : আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

আপডেট: ১০:৩৯:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি।। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ৭২টি ধারা বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ‘ভুল তথ্য’ ও ‘মিথ্যাচার’ প্রচারের অভিযোগ তুলেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা)।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা দাবি করেছেন সরকার যেসব অগ্রগতি দেখাচ্ছে, বাস্তবে তার বড় অংশই সঠিক নয়; চুক্তির মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ বহু ধারা এখনো সম্পূর্ণ অবাস্তবায়িত।

মঙ্গলবার সকালে জেলা সদরের মারমা উন্নয়ন সংসদ চত্বরে আয়োজিত এক গণসমাবেশ ও আলোচনা সভায় এ অভিযোগ করেন জেএসএস নেতারা।

“সরকার ভুল পরিসংখ্যান দিচ্ছে”- সুধাকর ত্রিপুরা

আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুধাকর ত্রিপুরা বলেন,“সরকারি তথ্য অনুযায়ী চুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে নাকি ৪৮টি বাস্তবায়িত, ১৫টি আংশিক বাস্তবায়িত এবং ৯টি বাস্তবায়িত হয়নি। এটি পুরোপুরি মিথ্যাচার।

আমাদের গবেষণায় দেখা যায়,মাত্র ২৪টি ধারা সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হয়েছে, ১৪টি আংশিক আর ৩৪টি ধারা এখনো পুরোপুরি অবাস্তবায়িত।”

তিনি বলেন, চুক্তির মৌলিক ধারা,বিশেষ করে ভূমি কমিশনের বিধিমালা প্রণয়ন, বিচারিক কার্যক্রম শুরু, প্রশাসনিক ক্ষমতা হস্তান্তর,কোনোটিই এখনো সুবিন্যস্তভাবে বাস্তবায়িত হয়নি।

ভূমি কমিশন ও প্রশাসনিক ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি;

সুধাকর ত্রিপুরা আরও বলেন,

“চুক্তি মোতাবেক ভূমি কমিশনকে কার্যকর করতে হলে দ্রুত বিধিমালা প্রণয়ন ও বিচারিক কার্যক্রম শুরু করা জরুরি। পাশাপাশি ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি কার্যকর রাখা, আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের কাছে প্রশাসন, পুলিশ, ভূমি ব্যবস্থাপনা, উপজাতীয় আইনসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে হস্তান্তর করা সরকারের দায়িত্ব।”

‘২৮ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি’— ক্ষোভ প্রকাশ জেএসএস নেতাদের

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক সুদর্শন চাকমা বলেন, “দীর্ঘ ২৪ বছরের সংগ্রামের বিনিময়ে ১৯৯৭ সালে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। কিন্তু ২৮ বছর পার হলেও এখনো মৌলিক ধারাগুলো বাস্তবায়ন হয়নি। এটি পাহাড়ের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা।”

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন,

“সরকার যদি এখনো কার্যকর উদ্যোগ না নেয়, তবে আমরা আবারও নতুন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামতে বাধ্য হবো।”

স্থায়ী শান্তির স্বার্থে চুক্তি বাস্তবায়নের আহ্বান;

সভায় বক্তারা বলেন, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন ছাড়া পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসা সম্ভব নয়। সরকারের প্রতি তারা দ্রুত অগ্রগতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেএসএস (এমএন লারমা) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি সুভাষ কান্তি চাকমা।

এসময় আরও বক্তব্য রাখেন,কেন্দ্রীয় সভাপতি বিমল কান্তি চাকমা,কেন্দ্রীয় এবং জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা

গণসমাবেশে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিপুল সংখ্যক দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশ নেন। সমাবেশ শেষে পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ছিল।