০২:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

৭ দিনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা আট ইসলামি দলের

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:৩২:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৪৮

গ্রামের সংবাদ ডেস্ক : জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই গণভোট আয়োজনের দাবিতে নিজেদের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়েছে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ সমমনা ৮টি রাজনৈতিক দল। তাদের দাবি পূরণ না হওয়ায়, যৌথ উদ্যোগে আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকা বাদে দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরগুলোতে ধারাবাহিক সমাবেশ আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে এই জোট।

বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর পল্টনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ৮ দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েব আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ।

৮ দলের ঘোষিত কর্মসূচি অনুসারে, ধারাবাহিক এই সমাবেশগুলো দেশের সাতটি বিভাগীয় শহরে অনুষ্ঠিত হবে: ঘোষিত কর্মসূচি অনুসারে—৩০ নভেম্বরের সমাবেশ হবে রংপুরে। ১ ডিসেম্বরের সমাবেশ হবে রাজশাহীতে। এই ধারাবাহিকতায় ২ ডিসেম্বর খুলনায়, ৩ ডিসেম্বর বরিশালে, ৪ ডিসেম্বর ময়মনসিংহে, ৫ ডিসেম্বর সিলেটে ও ৬ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে অন্য সমাবেশগুলো অনুষ্ঠিত হবে।

এই সমাবেশগুলোতে আট দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন।

মাওলানা ইউসুফ আশরাফ বলেন, তারা এখনো নির্বাচন থেকে আলাদা দিনে গণভোট আয়োজনের দাবি জানিয়ে যাচ্ছেন এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে জনমত গঠন ও প্রচার-প্রচারণা চালানোর ঘোষণা দেন।

তিনি আরও বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশে তাদের দাবির আংশিক পূরণ হয়েছে। তবে জুলাই হত্যাকাণ্ডে অন্য অপরাধীদের বিচার, স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে জাতীয় পার্টিসহ অন্য দলগুলোকে নিষিদ্ধ করা এবং নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির দাবিগুলো এখনো পূরণ হয়নি।

ব্রিফিংয়ে উপস্থিত জামায়াতে ইসলামী সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, তারা সরকারকে (নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজনের) বিষয়টি পুনর্বিবেচনা এবং আলোচনার দরজা খোলা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের ব্যবস্থাপনার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

হামিদুর রহমান আযাদ ইঙ্গিত দেন যে আন্দোলনে থাকা আট দল সমঝোতার ভিত্তিতে আসন্ন নির্বাচনে যাবে। তিনি বলেন, “আমরা সমঝোতার ভিত্তিতে ইলেকশনে যাব—এ রকম একটা আলোচনা হয়েছে। চূড়ান্ত ফয়সালাটা শীর্ষ বৈঠকের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে আসবে।” এছাড়া ফ্যাসিবাদবিরোধী ইসলামী, গণতান্ত্রিক ও দেশপ্রেমিক সব শক্তিকে নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য আলোচনার দরজা উন্মুক্ত রাখার কথাও জানান এই জামায়াত নেতা।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে পাঁচ দফা দাবিতে যুগপৎ আন্দোলন চালিয়ে আসছে এই ৮ দল। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি এই জোটে সক্রিয় রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

৭ দিনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা আট ইসলামি দলের

আপডেট: ১১:৩২:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫

গ্রামের সংবাদ ডেস্ক : জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই গণভোট আয়োজনের দাবিতে নিজেদের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়েছে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ সমমনা ৮টি রাজনৈতিক দল। তাদের দাবি পূরণ না হওয়ায়, যৌথ উদ্যোগে আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকা বাদে দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরগুলোতে ধারাবাহিক সমাবেশ আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে এই জোট।

বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর পল্টনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ৮ দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েব আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ।

৮ দলের ঘোষিত কর্মসূচি অনুসারে, ধারাবাহিক এই সমাবেশগুলো দেশের সাতটি বিভাগীয় শহরে অনুষ্ঠিত হবে: ঘোষিত কর্মসূচি অনুসারে—৩০ নভেম্বরের সমাবেশ হবে রংপুরে। ১ ডিসেম্বরের সমাবেশ হবে রাজশাহীতে। এই ধারাবাহিকতায় ২ ডিসেম্বর খুলনায়, ৩ ডিসেম্বর বরিশালে, ৪ ডিসেম্বর ময়মনসিংহে, ৫ ডিসেম্বর সিলেটে ও ৬ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে অন্য সমাবেশগুলো অনুষ্ঠিত হবে।

এই সমাবেশগুলোতে আট দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন।

মাওলানা ইউসুফ আশরাফ বলেন, তারা এখনো নির্বাচন থেকে আলাদা দিনে গণভোট আয়োজনের দাবি জানিয়ে যাচ্ছেন এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে জনমত গঠন ও প্রচার-প্রচারণা চালানোর ঘোষণা দেন।

তিনি আরও বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশে তাদের দাবির আংশিক পূরণ হয়েছে। তবে জুলাই হত্যাকাণ্ডে অন্য অপরাধীদের বিচার, স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে জাতীয় পার্টিসহ অন্য দলগুলোকে নিষিদ্ধ করা এবং নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির দাবিগুলো এখনো পূরণ হয়নি।

ব্রিফিংয়ে উপস্থিত জামায়াতে ইসলামী সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, তারা সরকারকে (নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজনের) বিষয়টি পুনর্বিবেচনা এবং আলোচনার দরজা খোলা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের ব্যবস্থাপনার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

হামিদুর রহমান আযাদ ইঙ্গিত দেন যে আন্দোলনে থাকা আট দল সমঝোতার ভিত্তিতে আসন্ন নির্বাচনে যাবে। তিনি বলেন, “আমরা সমঝোতার ভিত্তিতে ইলেকশনে যাব—এ রকম একটা আলোচনা হয়েছে। চূড়ান্ত ফয়সালাটা শীর্ষ বৈঠকের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে আসবে।” এছাড়া ফ্যাসিবাদবিরোধী ইসলামী, গণতান্ত্রিক ও দেশপ্রেমিক সব শক্তিকে নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য আলোচনার দরজা উন্মুক্ত রাখার কথাও জানান এই জামায়াত নেতা।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে পাঁচ দফা দাবিতে যুগপৎ আন্দোলন চালিয়ে আসছে এই ৮ দল। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি এই জোটে সক্রিয় রয়েছে।