বসুন্দিয়ায় খেজুরের রস আহরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছীরা
- আপডেট: ০৭:২০:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
- / ৫৭

সাঈদ ইবনে হানিফ ঃ শীতের আগমন শুরু হতে না হতেই যশোরের বসুন্দিয়া এলাকায় খেজুরের রস আহরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা। তবে আবহাওয়ার প্রতিকূলতার কারণে এবছর কিছুটা দেরীতে খেজুর গাছের পরিচর্যা করতে হয়েছে। গাছিরা বলছেন, অগ্রহায়নের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে খেজুর গাছ থেকে রস পাওয়া যাবে।
খোঁজ খবর নিয়ে দেখা গেছে অন্য বছরের তুলনায় এবছর বসুন্দিয়া এলাকায় খেজুর গাছের সংখ্যা অনেক কম। গুড়, পাটালি বিক্রির জন্য এই অঞ্চলে রয়েছে দেশের অতি পরিচিত বসুন্দিয়া বাজার। যেখানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ট্রলার নৌকা যোগে এবং স্থলপথে ব্যবসায়ীরা গুড় পাটালি ক্রয়ের জন্য এই বাজারে ভিড় জমিয়ে থাকে। যে কারণে গাছিদের উৎপাদিত গুড় পাটালি বিক্রয়ের জন্য তেমন কোন বেগ পেতে হয় না।
বসুন্দিয়া ইউনিয়ন কৃষি কর্মকর্তা রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এলাকার ৫৫৫০টি খেজুর গাছ থেকে এবছর রস আহরণ করা সম্ভব হবে, এই রস জ্বালিয়ে যে গুড়, পাটালি উৎপাদন করা হবে তা থেকে প্রায় ১কোটি ৩০ লক্ষ টাকা (গড় হিসাবে) আয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
খেজুরের রস আহরণের মধ্য দিয়েই গ্রামীণ জনপদে শুরু হয় শীতের আমেজ। সেই হিসাবে বসুন্দিয়ার গ্রামে গ্রামে এখন গাছিদের খেজুর গাছ প্রস্তুত করনের তৎপরতার মাধ্যমে জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। রাস্তার ধারে বা জমির আইলের উপর দাড়িয়ে থাকা খেজুর গাছের মাথা পরিষ্কার করতে ভোরবেলা থেকেই ছুটছেন গাছিরা। তাদের ধারালো দা দিয়ে শৈল্পিক হাতে খেজুর গাছের মাথা পরিষ্কারের মাধ্যমে প্রতিটি খেজুর গাছ ধারণ করছে নতুন রুপ। এই এলাকায় খেজুরের রস সংগ্রহে তৎপর এবং ব্যস্ততম সময় পার করছেন, বসুন্দিয়া, জগন্নাথপুর, কেফায়েতনগর, সদুল্লাপুর, ঘুনি, পদ্মবিলা, গোপেরডাঙ্গা, জঙ্গলবাধাল, গাইদগাছি, জয়ন্তা ও বনগ্রামের গাছিরা।
পদ্মবিলা গ্রামের গাছি আজিজুর রহমান বলেন, বর্তমানে খেজুর গাছের মাথা পরিষ্কারের কাজ চলছে এরপর গাছগুলোকে দুই সপ্তাহের জন্য বিশ্রাম দিতে হবে। তারপর নির্দিষ্ট স্থানে বাঁশের নলী গেথে দিতে হবে। মূলত ঃ এরপরই শুরু হবে ধীরে ধীরে রস আহরণের পালা। গাছির দক্ষতার উপর নির্ভর করে রস কমবেশি হওয়া। গাছি পরিবার গুলোর আগামী কয়েক মাসের সংসারের প্রায় সব খরচ যোগান দেয় এই খেজুর গাছ।
গাছি আব্দুল লতিফ বলেন এবছর তিনি প্রায় ২০০ খেজুর গাছ প্রস্তুত করছেন। গত কয়েক বছর ধরে খেজুরের রস ও গুড়ের দাম ভালো হওয়ায় আগামী চার মাস খেজুরের রস ও গুড় বিক্রি করে যে বাড়তি আয় হবে, তা সংসারের কাজে লগিয়ে অতিরিক্ত প্রয়োজন মেটানোর আশা রয়েছে।
বসুন্দিয়া অঞ্চলের খাঁটি খেজুর গুড়ের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে
যা এই অঞ্চলের চাহিদা মিটানোর পাশাপাশি, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও গুড়ের চাহিদা পুরণে ভূমিকা রাখে।




















