০২:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

যশোরে শ্বাশুড়িকে জবাই করে হত্যার ঘটনায় পুত্রবধূ আটক

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০২:১৮:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • /

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরে নৃশংস কায়দায় ষাটোর্ধ এক নারীকে জবাই করে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত পুত্রবধূকে আটক করেছে পুলিশ। কোতয়ালী মডেল থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)-এর যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

যশোর শহরের বেজপাড়া এলাকায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডে নিহত হন সকিনা (৬০)। পারিবারিক বিরোধের জেরে পুত্রবধূ মরিয়ম বেগম (২০) তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহতের ছেলে মো. শহিদুল ইসলাম প্রথমে তার মাকে নিখোঁজ দাবি করে কোতয়ালী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পরে বাড়িতে ফিরে তিনি বাসার সামনে একটি বস্তার ভেতরে তার মায়ের মরদেহ দেখতে পান। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানো হলে কোতয়ালী থানা ও ডিবি পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও আলামত সংগ্রহের পর প্রাথমিক তদন্তে পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় নিহতের পুত্রবধূ মরিয়ম বেগমের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
প্রথমদিকে জিজ্ঞাসাবাদে মরিয়ম ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করলেও পরবর্তীতে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের মুখে একপর্যায়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।

জিজ্ঞাসাবাদে মরিয়ম জানায়, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শ্বাশুড়ি তাকে প্রায়ই বকাঝকা করতেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) আবারও বকাবকি করলে ক্ষোভে তিনি ঘরে থাকা একটি চাপাতি দিয়ে শ্বাশুড়িকে জবাই করে হত্যা করেন। পরে হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতিটি ঘরের ওয়্যারড্রপের ভেতরে লুকিয়ে রাখেন।
পরবর্তীতে অভিযুক্তের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার ঘর থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতিটি উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Please Share This Post in Your Social Media

যশোরে শ্বাশুড়িকে জবাই করে হত্যার ঘটনায় পুত্রবধূ আটক

আপডেট: ০২:১৮:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরে নৃশংস কায়দায় ষাটোর্ধ এক নারীকে জবাই করে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত পুত্রবধূকে আটক করেছে পুলিশ। কোতয়ালী মডেল থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)-এর যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

যশোর শহরের বেজপাড়া এলাকায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডে নিহত হন সকিনা (৬০)। পারিবারিক বিরোধের জেরে পুত্রবধূ মরিয়ম বেগম (২০) তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহতের ছেলে মো. শহিদুল ইসলাম প্রথমে তার মাকে নিখোঁজ দাবি করে কোতয়ালী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পরে বাড়িতে ফিরে তিনি বাসার সামনে একটি বস্তার ভেতরে তার মায়ের মরদেহ দেখতে পান। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানো হলে কোতয়ালী থানা ও ডিবি পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও আলামত সংগ্রহের পর প্রাথমিক তদন্তে পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় নিহতের পুত্রবধূ মরিয়ম বেগমের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
প্রথমদিকে জিজ্ঞাসাবাদে মরিয়ম ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করলেও পরবর্তীতে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের মুখে একপর্যায়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।

জিজ্ঞাসাবাদে মরিয়ম জানায়, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শ্বাশুড়ি তাকে প্রায়ই বকাঝকা করতেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) আবারও বকাবকি করলে ক্ষোভে তিনি ঘরে থাকা একটি চাপাতি দিয়ে শ্বাশুড়িকে জবাই করে হত্যা করেন। পরে হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতিটি ঘরের ওয়্যারড্রপের ভেতরে লুকিয়ে রাখেন।
পরবর্তীতে অভিযুক্তের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার ঘর থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতিটি উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।