খুলনার বস্তাবন্দি লাশের রহস্য উদ্ঘাটন, ৮ মাস পর পিবিআইয়ের জালে মূল সহযোগী গ্রেফতার
- আপডেট: ০৯:৫১:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
- / ১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক: খুলনার লবণচরা থানার চাঞ্চল্যকর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য অবশেষে উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
দীর্ঘ প্রায় আট মাস পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পিবিআই সূত্র জানায়, গত (২৬ আগস্ট ২০২৫) দুপুরে খুলনা জেলার রূপসা নৌ পুলিশ ফাঁড়ি খবর পায়—লবণচরা থানাধীন পুটিমারি দশগেট এলাকার কাজীবাছা নদীর তীরে একটি বস্তাবন্দি মরদেহ ভেসে রয়েছে। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ বস্তাটি কেটে এক অজ্ঞাতনামা পুরুষের (আনুমানিক বয়স ৪৫ বছর) পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনার পর পিবিআইয়ের ক্রাইমসিন টিম পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালালেও মরদেহের অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি অজ্ঞাতনামা হিসেবে খালিশপুরের গোয়ালখালী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় লবণচরা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হলে তদন্তকালে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হয়। তিনি যশোর জেলার অভয়নগর থানার পোতপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. শফিকুল ইসলাম (৫৪)।
মামলাটি প্রথমে নৌ পুলিশ তদন্ত করলেও আদালতের নির্দেশে ২০২৬ সালের ১৫ জানুয়ারি তা পিবিআই, খুলনার কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে পিবিআইয়ের একটি চৌকস দল ঘটনাটি পুনরায় তদন্ত শুরু করে।
তদন্তে উঠে আসে, আর্থিক লেনদেনের বিরোধের জেরে গত (২০ আগস্ট ২০২৫) রাতে শফিকুল ইসলামকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ গোপনে ভৈরব নদীতে ফেলে দেওয়া হয়, যা পরে ভেসে গিয়ে রূপসা এলাকায় উদ্ধার হয়।
পিবিআই জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানে নেমে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) দিবাগত রাত ১২টা ১৫ মিনিটে বরিশাল মহানগরীর এয়ারপোর্ট থানার শেরে-ই-বাংলা সড়ক এলাকা থেকে মো. দ্বীন ইসলাম শেখ নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামি জানান, মূলত ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে তিনি অপর দুই আসামিকে মরদেহ নদীতে ফেলে দিতে সহযোগিতা করেন। হত্যার পর মরদেহ বস্তাবন্দি করে তার মধ্যে ইট ভরে নদীর মাঝখানে ফেলে দেওয়া হয়, যাতে তা ভেসে না ওঠে।
আরও জানা যায়, নিহত শফিকুল ইসলামের সঙ্গে পলাতক এক আসামির কাঠ ব্যবসা সংক্রান্ত ১২ থেকে ১৪ লাখ টাকার লেনদেন ছিল। ওই পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করেই তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়।
গ্রেফতারের পর আসামি দ্বীন ইসলামকে খুলনার আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিবিআই জানায়, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান।





















