সুদানে মসজিদে ড্রোন হামলা, ৭৮ নিহত
- আপডেট: ০৩:২৩:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ১১১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সুদানের একটি মসজিদে ড্রোন হামলায় ৭৮ জনের বেশি নিহত হয়েছে। এক জ্যেষ্ঠ স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বরাতে শনিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে। দারফুর অঞ্চলের আল-ফাশির শহরে ওই হামলা সংঘটিত হয়। হামলায় আহত হয়েছে অন্তত ২০ জন। স্থানীয় এক বাসিন্দা বিবিসিকে বলেন, ‘শুক্রবার ফজরের নামাজ চলাকালে ওই হামলা চালানো হয়।’
হামলার জন্য আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে (আরএসএফ) দায়ী করা হলেও গোষ্ঠীটি এখনো নিজেদের সম্পৃক্ততা স্বীকার করেনি।
দুই বছরের বেশি সময় ধরে আরএসএফের সঙ্গে দেশটির সেনাবাহিনী যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে। আল-ফাশির শহর দখলে নিতে ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছে আরএসএফ। এটি দারফুরে সেনাবাহিনীর শেষ ঘাঁটি।
সেখানকার তিন লাখের বেশি বেসামরিক নাগরিক এ লড়াইয়ের ফাঁদে আটকা পড়েছে।
স্ত্রীর বিশ্বস্ততা প্রমাণে ফুটন্ত তেলে হাত চুবাতে বাধ্য, গ্রেপ্তার ৪
চলতি সপ্তাহে নতুন করে শহরে হামলা শুরু করেছে আরএসএফ। শহরের বাইরে অবস্থিত বাস্তুচ্যুতদের শিবিরে ভয়াবহ হামলার খবর পাওয়া গেছে।
ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের হিউম্যানিটারিয়ান রিসার্চ ল্যাবের (এইচআরএল) বিশ্লেষণ অনুযায়ী স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, শিবিরটির বড় অংশ এখন আরএসএফের নিয়ন্ত্রণে।
সুদানের বিশ্লেষক ও অধিকার কর্মীদের আশঙ্কা, সাধারণ নাগরিকরা আরএসএফের রোষের শিকার হতে পারেন। কারণ তাদের অধিকাংশই আধাসামরিক বাহিনীটির দৃষ্টিতে শত্রু জনগোষ্ঠীর অংশ।
জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়, সংঘাত ক্রমে জাতিগত রূপ নিচ্ছে এবং প্রতিপক্ষকে সহযোগিতার অভিযোগে দুই পক্ষই সাধারণ মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে।
আরএসএফ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আল-ফাশির শহরটি অবরোধ করে রেখেছে, পুরো নিয়ন্ত্রণ পেতে তারা দিনকয়েক আগে নতুন অভিযান শুরু করেছে। এরই মধ্যে তারা শহরের কাছে উদ্বাস্তুদের ক্যাম্প আবু শউকে তুমুল হামলাও চালিয়েছে।
ক্যাম্পটির বেশির ভাগ অংশই এখন আরএসএফের ইউনিটগুলোর নিয়ন্ত্রণে বলে উপগ্রহের ছবিতে ধারণা পাওয়ার কথা জানিয়েছে এইচআরএল। আরএসএফ তাদের দখলে থাকা এলাকায় পদ্ধতিগতভাবে অনারব সম্প্রদায়গুলোকে নিশ্চিহ্ন করার নীতি বাস্তবায়ন করছে বলে জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার নথিতে আভাস মিলেছে।
ডক্টরস উইদাউট বর্ডারসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে ‘আরএসএফ সেনারা আল-ফাশির থেকে অনারব সম্প্রদায়কে মুছে ফেলার পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলছে’ বলে জানানো হয়েছে।
প্যারামিলিটারি গোষ্ঠীটি এর আগে এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছিল। বলেছিল, ‘জাতিগত সংঘাতের’ সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।


























