১০:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রামে কৃষি উদ্যোক্তা উন্নয়নে কুলবট কোল্ড স্টোরেজ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:০৫:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
  • / ১০

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
পার্বত্য চট্টগ্রামে কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, অপচয় রোধ এবং স্থানীয় কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে কুলবট কোল্ড স্টোরেজের সম্ভাব্যতা মূল্যায়ন বিষয়ক ভ্যালিডেশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১১ মার্চ) সকাল ১১টায় রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে জেন্ডার রেসপন্সিভ এন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড টিভিইটি সিস্টেমস (ProGRESS) প্রকল্পের আওতায় এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালাটি যৌথভাবে আয়োজন করে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ (RHDC), বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ (BHDC), খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ (KHDC) এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO)।

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর থানজামা লুসাই। অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা।

কর্মশালার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইএলও প্রকল্পের চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান অ্যালেক্স চিসাম।

এ সময় বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে ফলমূল, শাকসবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য উৎপাদিত হলেও সংরক্ষণের উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকদের অনেক সময় ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হতে হয়। উৎপাদনের মৌসুমে বাজারে পণ্যের অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে দাম কমে যায় এবং পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় বিপুল পরিমাণ পণ্য নষ্ট হয়ে যায়।
বক্তারা আরও বলেন, কুলবট প্রযুক্তি তুলনামূলকভাবে স্বল্প ব্যয়ে কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের একটি কার্যকর ও আধুনিক পদ্ধতি। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম এলাকাতেও ছোট পরিসরে কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করা সম্ভব। এর মাধ্যমে কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ সময় বৃদ্ধি পাবে, কৃষকরা প্রয়োজন অনুযায়ী বাজারে পণ্য সরবরাহ করতে পারবেন এবং ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা সহজ হবে।

তারা বলেন, কুলবট কোল্ড স্টোরেজ শুধু কৃষিপণ্য সংরক্ষণেই সহায়ক হবে না, বরং এটি স্থানীয় তরুণদের জন্য নতুন উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যবসা গড়ে তুলতে পারলে পার্বত্য অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে এবং কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে।

বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে প্রযুক্তি নির্ভর কৃষি ব্যবস্থাপনা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, কৃষি খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ—সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং কৃষকের আয়ও বৃদ্ধি পাবে।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা পার্বত্য অঞ্চলে কুলবট কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের সম্ভাবনা, প্রযুক্তিগত দিক, অর্থনৈতিক সুবিধা এবং স্থানীয় উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ নিয়ে মতামত প্রদান করেন। একই সঙ্গে এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষিপণ্যের অপচয় কমবে, বাজারজাতকরণ সহজ হবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়। কর্মশালায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, কৃষি উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশগ্রহণ করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

পার্বত্য চট্টগ্রামে কৃষি উদ্যোক্তা উন্নয়নে কুলবট কোল্ড স্টোরেজ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

আপডেট: ০৯:০৫:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
পার্বত্য চট্টগ্রামে কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, অপচয় রোধ এবং স্থানীয় কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে কুলবট কোল্ড স্টোরেজের সম্ভাব্যতা মূল্যায়ন বিষয়ক ভ্যালিডেশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১১ মার্চ) সকাল ১১টায় রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে জেন্ডার রেসপন্সিভ এন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড টিভিইটি সিস্টেমস (ProGRESS) প্রকল্পের আওতায় এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালাটি যৌথভাবে আয়োজন করে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ (RHDC), বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ (BHDC), খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ (KHDC) এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO)।

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর থানজামা লুসাই। অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা।

কর্মশালার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইএলও প্রকল্পের চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান অ্যালেক্স চিসাম।

এ সময় বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে ফলমূল, শাকসবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য উৎপাদিত হলেও সংরক্ষণের উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকদের অনেক সময় ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হতে হয়। উৎপাদনের মৌসুমে বাজারে পণ্যের অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে দাম কমে যায় এবং পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় বিপুল পরিমাণ পণ্য নষ্ট হয়ে যায়।
বক্তারা আরও বলেন, কুলবট প্রযুক্তি তুলনামূলকভাবে স্বল্প ব্যয়ে কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের একটি কার্যকর ও আধুনিক পদ্ধতি। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম এলাকাতেও ছোট পরিসরে কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করা সম্ভব। এর মাধ্যমে কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ সময় বৃদ্ধি পাবে, কৃষকরা প্রয়োজন অনুযায়ী বাজারে পণ্য সরবরাহ করতে পারবেন এবং ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা সহজ হবে।

তারা বলেন, কুলবট কোল্ড স্টোরেজ শুধু কৃষিপণ্য সংরক্ষণেই সহায়ক হবে না, বরং এটি স্থানীয় তরুণদের জন্য নতুন উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যবসা গড়ে তুলতে পারলে পার্বত্য অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে এবং কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে।

বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে প্রযুক্তি নির্ভর কৃষি ব্যবস্থাপনা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, কৃষি খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ—সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং কৃষকের আয়ও বৃদ্ধি পাবে।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা পার্বত্য অঞ্চলে কুলবট কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের সম্ভাবনা, প্রযুক্তিগত দিক, অর্থনৈতিক সুবিধা এবং স্থানীয় উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ নিয়ে মতামত প্রদান করেন। একই সঙ্গে এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষিপণ্যের অপচয় কমবে, বাজারজাতকরণ সহজ হবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়। কর্মশালায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, কৃষি উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশগ্রহণ করেন।