০৫:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

ইলন মাস্ক গঠন করলেন নতুন রাজনৈতিক দল ‘আমেরিকা পার্টি’

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৬:০৯:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫
  • / ১৩৮

গ্রামের সংবাদ ডেস্ক : কয়েক সপ্তাহ আগে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের চরম সংকটের পর এবার নিজস্ব রাজনৈতিক দল গঠন করলেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক টেসলা ও স্পেসএক্স-এর মালিক ইলন মাস্ক। শনিবার, নিজের এক্স (পূর্বে টুইটার) অ্যাকাউন্টে ‘আমেরিকা পার্টি’ নামের নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগের ঘোষণা দেন এই ধনকুবের।

মাস্ক বলেন, বর্তমান রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রিত দুই-দলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে একটি গণতান্ত্রিক ও স্বাধীনচেতা দল দরকার।

“২:১ ব্যবধানে আপনারা একটি নতুন রাজনৈতিক দল চান, আর আপনাদের সেটা দেওয়া হবে!” — সামাজিক মাধ্যমে এমন বার্তা দিয়ে মাস্ক বলেন, “আজ, ‘আমেরিকা পার্টি’ গঠিত হলো আপনাদের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিতে।”

মাস্ক যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম না নেওয়ায় আইনের ভিত্তিতে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হতে পারেন না। তবে তার দলের নেতৃত্ব কে দেবেন, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানাননি তিনি। দলের সম্ভাব্য কর্মসূচি বা আদর্শ নিয়েও বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা হয়নি।

তবে ‘আমেরিকা পার্টি’ এখনো ফেডারেল ইলেক্টোরাল কমিশনে (FEC) আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয়নি বলে জানা গেছে।

ট্রাম্প থেকে বিচ্ছিন্নতা ও দ্বন্দ্ব শুরু গত বছর পর্যন্ত ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন মাস্ক। তিনি ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণায় একাধিকবার অংশগ্রহণ করেন এবং হোয়াইট হাউজে নিজ সন্তানকে নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করতেও গিয়েছিলেন।

মাস্ক ট্রাম্পকে পুনরায় প্রেসিডেন্ট বানাতে আনুমানিক ২৫০ মিলিয়ন ডলার অনুদানও দিয়েছিলেন। নির্বাচনের পর তিনি নিযুক্ত হন ‘ডিপার্টমেন্ট অফ গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি (ডজ)’–এর নেতৃত্বে, যার দায়িত্ব ছিল বাজেট খাতে অপচয়ের পর্যালোচনা করা।

তবে চলতি বছরের মে মাসে ট্রাম্প প্রশাসন ত্যাগ করার পরে, ট্রাম্পের করনীতি ও ব্যয় পরিকল্পনার কড়া সমালোচনা করে বসেন ইলন মাস্ক। ট্রাম্পের প্রস্তাবিত কর-বিলের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, এই বিল মার্কিন ঘাটতিকে আগামী দশকে অতিরিক্ত তিন ট্রিলিয়ন ডলার বাড়াতে পারে।

এই কর-বিল মাস্কের ব্যবসায় প্রভাব ফেলবে বলেও বিশ্লেষকদের ধারণা, কারণ এতে ছিল না পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও ইলেকট্রিক গাড়ির ওপর কোন বাড়তি ভর্তুকি। এ নিয়ে মাস্ক এবং ট্রাম্পের মধ্যে দ্বন্দ্ব আরও প্রকাশ্য হয়ে ওঠে।

প্রতি-উত্তরে ট্রাম্প তার সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ মাস্ককে কটাক্ষ করে বলেন, “ইলন সম্ভবত ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ভর্তুকি পাওয়া মানুষ। ভর্তুকি না থাকলে ইলনকে হয়তো দোকান বন্ধ করে দক্ষিণ আফ্রিকায় চলে যেতে হতো।”

তিনি আরও হুমকি দেন, মাস্কের কোম্পানিগুলোর জন্য সরকারি সহায়তা খতিয়ে দেখবে ‘ডজ’। ইঙ্গিতে মাস্কের নেতৃত্বাধীন স্পেসএক্স এবং স্যাটেলাইট সেবা প্রদানকারী স্টারলিংক-এর কথাও তুলে ধরেন তিনি। এ দুটি কোম্পানি বর্তমানে সরকার ও সামরিক ব্যবস্থার সাথে যুক্ত চুক্তিতে কাজ করছে।

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন দলের সম্ভাবনা কতটা? যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তৃতীয় দল গঠন এবং জাতীয়ভাবে প্রভাব ফেলাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতে গ্রিন পার্টি, লিবার্টেরিয়ান পার্টিসহ নানা উদ্যোগ দেখা গেলেও, তারা ডেমোক্র্যাট বা রিপাবলিকানদের মতো প্রভাব রাখতে পারেনি।

ইলন মাস্কের ‘আমেরিকা পার্টি’ কতদূর সফল হতে পারবে, তা এখনই বলা কঠিন। বিশ্লেষকরা বলছেন, মাস্কের বিপুল অনলাইন প্রভাব, আর্থিক সামর্থ্য ও পরিচিতি দলটিকে প্রাথমিকভাবে আলোচনায় আনলেও, নির্বাচনী রাজনীতিতে সফল হতে গেলে তাকে নীতিভিত্তিক ও সুসংগঠিত কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।

তবে মাস্কের ঘোষণা স্পষ্ট করেছে—তিনি আর শুধু প্রযুক্তি আর ব্যবসার মাঠেই নয়, রাজনীতিতেও বড় একটি পদচিহ্ন রেখে যেতে চান।

Please Share This Post in Your Social Media

ইলন মাস্ক গঠন করলেন নতুন রাজনৈতিক দল ‘আমেরিকা পার্টি’

আপডেট: ০৬:০৯:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫

গ্রামের সংবাদ ডেস্ক : কয়েক সপ্তাহ আগে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের চরম সংকটের পর এবার নিজস্ব রাজনৈতিক দল গঠন করলেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক টেসলা ও স্পেসএক্স-এর মালিক ইলন মাস্ক। শনিবার, নিজের এক্স (পূর্বে টুইটার) অ্যাকাউন্টে ‘আমেরিকা পার্টি’ নামের নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগের ঘোষণা দেন এই ধনকুবের।

মাস্ক বলেন, বর্তমান রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রিত দুই-দলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে একটি গণতান্ত্রিক ও স্বাধীনচেতা দল দরকার।

“২:১ ব্যবধানে আপনারা একটি নতুন রাজনৈতিক দল চান, আর আপনাদের সেটা দেওয়া হবে!” — সামাজিক মাধ্যমে এমন বার্তা দিয়ে মাস্ক বলেন, “আজ, ‘আমেরিকা পার্টি’ গঠিত হলো আপনাদের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিতে।”

মাস্ক যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম না নেওয়ায় আইনের ভিত্তিতে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হতে পারেন না। তবে তার দলের নেতৃত্ব কে দেবেন, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানাননি তিনি। দলের সম্ভাব্য কর্মসূচি বা আদর্শ নিয়েও বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা হয়নি।

তবে ‘আমেরিকা পার্টি’ এখনো ফেডারেল ইলেক্টোরাল কমিশনে (FEC) আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয়নি বলে জানা গেছে।

ট্রাম্প থেকে বিচ্ছিন্নতা ও দ্বন্দ্ব শুরু গত বছর পর্যন্ত ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন মাস্ক। তিনি ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণায় একাধিকবার অংশগ্রহণ করেন এবং হোয়াইট হাউজে নিজ সন্তানকে নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করতেও গিয়েছিলেন।

মাস্ক ট্রাম্পকে পুনরায় প্রেসিডেন্ট বানাতে আনুমানিক ২৫০ মিলিয়ন ডলার অনুদানও দিয়েছিলেন। নির্বাচনের পর তিনি নিযুক্ত হন ‘ডিপার্টমেন্ট অফ গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি (ডজ)’–এর নেতৃত্বে, যার দায়িত্ব ছিল বাজেট খাতে অপচয়ের পর্যালোচনা করা।

তবে চলতি বছরের মে মাসে ট্রাম্প প্রশাসন ত্যাগ করার পরে, ট্রাম্পের করনীতি ও ব্যয় পরিকল্পনার কড়া সমালোচনা করে বসেন ইলন মাস্ক। ট্রাম্পের প্রস্তাবিত কর-বিলের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, এই বিল মার্কিন ঘাটতিকে আগামী দশকে অতিরিক্ত তিন ট্রিলিয়ন ডলার বাড়াতে পারে।

এই কর-বিল মাস্কের ব্যবসায় প্রভাব ফেলবে বলেও বিশ্লেষকদের ধারণা, কারণ এতে ছিল না পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও ইলেকট্রিক গাড়ির ওপর কোন বাড়তি ভর্তুকি। এ নিয়ে মাস্ক এবং ট্রাম্পের মধ্যে দ্বন্দ্ব আরও প্রকাশ্য হয়ে ওঠে।

প্রতি-উত্তরে ট্রাম্প তার সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ মাস্ককে কটাক্ষ করে বলেন, “ইলন সম্ভবত ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ভর্তুকি পাওয়া মানুষ। ভর্তুকি না থাকলে ইলনকে হয়তো দোকান বন্ধ করে দক্ষিণ আফ্রিকায় চলে যেতে হতো।”

তিনি আরও হুমকি দেন, মাস্কের কোম্পানিগুলোর জন্য সরকারি সহায়তা খতিয়ে দেখবে ‘ডজ’। ইঙ্গিতে মাস্কের নেতৃত্বাধীন স্পেসএক্স এবং স্যাটেলাইট সেবা প্রদানকারী স্টারলিংক-এর কথাও তুলে ধরেন তিনি। এ দুটি কোম্পানি বর্তমানে সরকার ও সামরিক ব্যবস্থার সাথে যুক্ত চুক্তিতে কাজ করছে।

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন দলের সম্ভাবনা কতটা? যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তৃতীয় দল গঠন এবং জাতীয়ভাবে প্রভাব ফেলাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতে গ্রিন পার্টি, লিবার্টেরিয়ান পার্টিসহ নানা উদ্যোগ দেখা গেলেও, তারা ডেমোক্র্যাট বা রিপাবলিকানদের মতো প্রভাব রাখতে পারেনি।

ইলন মাস্কের ‘আমেরিকা পার্টি’ কতদূর সফল হতে পারবে, তা এখনই বলা কঠিন। বিশ্লেষকরা বলছেন, মাস্কের বিপুল অনলাইন প্রভাব, আর্থিক সামর্থ্য ও পরিচিতি দলটিকে প্রাথমিকভাবে আলোচনায় আনলেও, নির্বাচনী রাজনীতিতে সফল হতে গেলে তাকে নীতিভিত্তিক ও সুসংগঠিত কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।

তবে মাস্কের ঘোষণা স্পষ্ট করেছে—তিনি আর শুধু প্রযুক্তি আর ব্যবসার মাঠেই নয়, রাজনীতিতেও বড় একটি পদচিহ্ন রেখে যেতে চান।