০৬:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬

ভণ্ড কবিরাজের জাদু শেষ, যশোর ডিবি পুলিশের হাতে স্বর্ণ ও নগদ টাকাসহ আটক

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:৫৩:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫
  • / ২২২

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরে অভিনব প্রতারণার মাধ্যমে এক বিধবা নারীর কাছ থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাৎকারী কথিত এক ‘কবিরাজ’ অবশেষে ডিবি পুলিশের জালে ধরা পড়েছে।

অভিযুক্ত প্রতারকের নাম মো. ইসমাইল গাজী (৪৮)। সে অভয়নগর উপজেলার ধোপাদী গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, প্রায় ছয় মাস আগে এক মধ্যবয়স্ক বিধবার বাড়িতে গিয়ে নিজেকে ‘কবিরাজ’ পরিচয় দেয় ইসমাইল। ভণ্ড কবিরাজের দাবি—সে নাকি “যেকোনো জিনিস দ্বিগুণ করতে পারে”। প্রথমে এক টাকার নোট ‘ডাবল’ করে দেখিয়ে সরল ভিকটিমের বিশ্বাস অর্জন করে।

পরবর্তীতে গত ২৪ জুন দুপুরে ভিকটিমের ছোট বোন বেড়াতে এলে আবার হাজির হয় প্রতারক কবিরাজ। এবার দুই বোনকেই সম্পদের লোভ দেখিয়ে ফাঁদে ফেলে। কবিরাজ বলে—ঘরে থাকা নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার দিলে সে সেগুলো দ্বিগুণ করে দেবে।

প্রতারণার চূড়ান্ত ধাপে ভিকটিম ৪,২৫,০০০ টাকা ও প্রায় ৩ ভরি স্বর্ণালংকার তুলে দেয় কবিরাজের হাতে। সে এগুলো একটি কার্টুনে ভরে রেখে বলে, “দুই ঘণ্টা পর খুললে সব দ্বিগুণ পাবেন।” এরপরই সুকৌশলে সটকে পড়ে প্রতারক।

দুই ঘণ্টা পর ফোন বন্ধ পেয়ে সন্দেহ জাগে ভিকটিমের। কার্টুন খুলে দেখা যায় ভেতরে শুধু কাগজপত্র। প্রতারণা বুঝে সঙ্গে সঙ্গে জেলা পুলিশের সহায়তা চান ভুক্তভোগী।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ সুপার যশোর জেলার ডিবি শাখাকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। ডিবি’র অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে এসআই শিবু মণ্ডলের একটি দল অভিযানে নামে।

(২ জুলাই-২০২৫) রাত ২টা ৫০ মিনিটে অভয়নগরের ধোপাদী এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রতারক ইসমাইল গাজীকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করে।

পরে তার হেফাজত থেকে ৩,৪০,৫০০ টাকা এবং বিভিন্ন স্বর্ণালংকার উদ্ধার করে পুলিশ।

আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেছে ডিবি পুলিশ।

Please Share This Post in Your Social Media

ভণ্ড কবিরাজের জাদু শেষ, যশোর ডিবি পুলিশের হাতে স্বর্ণ ও নগদ টাকাসহ আটক

আপডেট: ০৯:৫৩:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরে অভিনব প্রতারণার মাধ্যমে এক বিধবা নারীর কাছ থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাৎকারী কথিত এক ‘কবিরাজ’ অবশেষে ডিবি পুলিশের জালে ধরা পড়েছে।

অভিযুক্ত প্রতারকের নাম মো. ইসমাইল গাজী (৪৮)। সে অভয়নগর উপজেলার ধোপাদী গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, প্রায় ছয় মাস আগে এক মধ্যবয়স্ক বিধবার বাড়িতে গিয়ে নিজেকে ‘কবিরাজ’ পরিচয় দেয় ইসমাইল। ভণ্ড কবিরাজের দাবি—সে নাকি “যেকোনো জিনিস দ্বিগুণ করতে পারে”। প্রথমে এক টাকার নোট ‘ডাবল’ করে দেখিয়ে সরল ভিকটিমের বিশ্বাস অর্জন করে।

পরবর্তীতে গত ২৪ জুন দুপুরে ভিকটিমের ছোট বোন বেড়াতে এলে আবার হাজির হয় প্রতারক কবিরাজ। এবার দুই বোনকেই সম্পদের লোভ দেখিয়ে ফাঁদে ফেলে। কবিরাজ বলে—ঘরে থাকা নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার দিলে সে সেগুলো দ্বিগুণ করে দেবে।

প্রতারণার চূড়ান্ত ধাপে ভিকটিম ৪,২৫,০০০ টাকা ও প্রায় ৩ ভরি স্বর্ণালংকার তুলে দেয় কবিরাজের হাতে। সে এগুলো একটি কার্টুনে ভরে রেখে বলে, “দুই ঘণ্টা পর খুললে সব দ্বিগুণ পাবেন।” এরপরই সুকৌশলে সটকে পড়ে প্রতারক।

দুই ঘণ্টা পর ফোন বন্ধ পেয়ে সন্দেহ জাগে ভিকটিমের। কার্টুন খুলে দেখা যায় ভেতরে শুধু কাগজপত্র। প্রতারণা বুঝে সঙ্গে সঙ্গে জেলা পুলিশের সহায়তা চান ভুক্তভোগী।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ সুপার যশোর জেলার ডিবি শাখাকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। ডিবি’র অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে এসআই শিবু মণ্ডলের একটি দল অভিযানে নামে।

(২ জুলাই-২০২৫) রাত ২টা ৫০ মিনিটে অভয়নগরের ধোপাদী এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রতারক ইসমাইল গাজীকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করে।

পরে তার হেফাজত থেকে ৩,৪০,৫০০ টাকা এবং বিভিন্ন স্বর্ণালংকার উদ্ধার করে পুলিশ।

আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেছে ডিবি পুলিশ।