১২:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬

তিন ধাপে বাছাই, ১৮ মাসের দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ-পাহাড়ে নারী ফুটবলের শক্ত ভিত গড়ার উদ্যোগ

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:৩৮:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
  • /

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: পার্বত্য চট্টগ্রামে নারী ফুটবলের বিকাশে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে খাগড়াছড়ির উন্মুক্ত প্রমিলা ফুটবল ট্রায়াল।

মঙ্গলবার সকালে খাগড়াছড়ি ঐতিহাসিক স্টেডিয়ামে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে দীর্ঘ ১৮ মাসের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া এই ট্রায়ালে অংশ নিয়েছেন বিপুল সংখ্যক উদীয়মান নারী খেলোয়াড়।

জেলা ক্রীড়া অঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করা এই উদ্যোগে মোট ১৯৮ জন প্রমিলা খেলোয়াড় অংশ নিচ্ছেন। তিনটি ধাপে বিভক্ত এই ট্রায়ালে প্রতিটি ধাপে ৬৬ জন করে খেলোয়াড় তাদের দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ পাচ্ছেন। মাঠজুড়ে দেখা গেছে তরুণীদের প্রাণচাঞ্চল্য, আত্মবিশ্বাস আর স্বপ্ন ছোঁয়ার দৃঢ় প্রত্যয়।

আয়োজকদের সূত্রে জানা যায়, পুরো কার্যক্রমটি একটি সুপরিকল্পিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হবে। প্রতি তিন মাস অন্তর অন্তর প্রতিটি ধাপ থেকে ২২ জন করে খেলোয়াড় বাছাই করা হবে। এভাবে প্রথম ৯ মাসে তিন ধাপে মোট ৬৬ জন প্রতিভাবান খেলোয়াড়কে নির্বাচিত করা হবে, যারা পরবর্তী পর্যায়ের প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন।

এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মোট মেয়াদ ১৮ মাস। এর মধ্যে প্রথম ৯ মাস প্রাথমিক প্রশিক্ষণ শেষে ৬৬ জন থেকে সেরা ও যোগ্য ২২ জন খেলোয়াড়কে চূড়ান্তভাবে বাছাই করা হবে। এরপর তাদের নিয়ে বাকি ৯ মাস নিবিড় ও উন্নত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে, যা তাদের পেশাদার ফুটবলার হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রশিক্ষণ চলাকালীন খেলোয়াড়দের জন্য থাকছে প্রশিক্ষণ ভাতা, যাতায়াত ভাতা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা। ফলে পাহাড়ি অঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকা থেকেও প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা সহজেই এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে নেতৃত্ব ও প্রধান প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন খাগড়াছড়ি জেলা প্রমিলা ফুটবল দলের কোচ জ্যোতিষ বসু ত্রিপুরা। তার তত্ত্বাবধানে খেলোয়াড়দের দক্ষতা উন্নয়ন, কৌশলগত জ্ঞান বৃদ্ধি এবং শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

ক্রীড়াবিদ ও স্থানীয়দের মতে, এমন উদ্যোগ পার্বত্য অঞ্চলের নারীদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে প্রতিভা তুলে আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অনেকেই আশা করছেন, এই ট্রায়াল থেকেই ভবিষ্যতের জাতীয় দলের তারকা ফুটবলার উঠে আসবে।

খাগড়াছড়ির সবুজ মাঠে শুরু হওয়া এই যাত্রা শুধু একটি ট্রায়াল নয়, বরং পাহাড়ের মেয়েদের স্বপ্নপূরণের এক নতুন অধ্যায়।

Please Share This Post in Your Social Media

তিন ধাপে বাছাই, ১৮ মাসের দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ-পাহাড়ে নারী ফুটবলের শক্ত ভিত গড়ার উদ্যোগ

আপডেট: ১১:৩৮:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: পার্বত্য চট্টগ্রামে নারী ফুটবলের বিকাশে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে খাগড়াছড়ির উন্মুক্ত প্রমিলা ফুটবল ট্রায়াল।

মঙ্গলবার সকালে খাগড়াছড়ি ঐতিহাসিক স্টেডিয়ামে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে দীর্ঘ ১৮ মাসের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া এই ট্রায়ালে অংশ নিয়েছেন বিপুল সংখ্যক উদীয়মান নারী খেলোয়াড়।

জেলা ক্রীড়া অঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করা এই উদ্যোগে মোট ১৯৮ জন প্রমিলা খেলোয়াড় অংশ নিচ্ছেন। তিনটি ধাপে বিভক্ত এই ট্রায়ালে প্রতিটি ধাপে ৬৬ জন করে খেলোয়াড় তাদের দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ পাচ্ছেন। মাঠজুড়ে দেখা গেছে তরুণীদের প্রাণচাঞ্চল্য, আত্মবিশ্বাস আর স্বপ্ন ছোঁয়ার দৃঢ় প্রত্যয়।

আয়োজকদের সূত্রে জানা যায়, পুরো কার্যক্রমটি একটি সুপরিকল্পিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হবে। প্রতি তিন মাস অন্তর অন্তর প্রতিটি ধাপ থেকে ২২ জন করে খেলোয়াড় বাছাই করা হবে। এভাবে প্রথম ৯ মাসে তিন ধাপে মোট ৬৬ জন প্রতিভাবান খেলোয়াড়কে নির্বাচিত করা হবে, যারা পরবর্তী পর্যায়ের প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন।

এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মোট মেয়াদ ১৮ মাস। এর মধ্যে প্রথম ৯ মাস প্রাথমিক প্রশিক্ষণ শেষে ৬৬ জন থেকে সেরা ও যোগ্য ২২ জন খেলোয়াড়কে চূড়ান্তভাবে বাছাই করা হবে। এরপর তাদের নিয়ে বাকি ৯ মাস নিবিড় ও উন্নত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে, যা তাদের পেশাদার ফুটবলার হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রশিক্ষণ চলাকালীন খেলোয়াড়দের জন্য থাকছে প্রশিক্ষণ ভাতা, যাতায়াত ভাতা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা। ফলে পাহাড়ি অঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকা থেকেও প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা সহজেই এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে নেতৃত্ব ও প্রধান প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন খাগড়াছড়ি জেলা প্রমিলা ফুটবল দলের কোচ জ্যোতিষ বসু ত্রিপুরা। তার তত্ত্বাবধানে খেলোয়াড়দের দক্ষতা উন্নয়ন, কৌশলগত জ্ঞান বৃদ্ধি এবং শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

ক্রীড়াবিদ ও স্থানীয়দের মতে, এমন উদ্যোগ পার্বত্য অঞ্চলের নারীদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে প্রতিভা তুলে আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অনেকেই আশা করছেন, এই ট্রায়াল থেকেই ভবিষ্যতের জাতীয় দলের তারকা ফুটবলার উঠে আসবে।

খাগড়াছড়ির সবুজ মাঠে শুরু হওয়া এই যাত্রা শুধু একটি ট্রায়াল নয়, বরং পাহাড়ের মেয়েদের স্বপ্নপূরণের এক নতুন অধ্যায়।