১২:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬

জাতির উদ্দেশে ট্রাম্পের বক্তব্য শেষ হতেই ইসরায়েলে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:২২:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • / ২৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতির উদ্দেশে ভাষণ শেষ হওয়ার পরপরই ইসরায়েলের দিকে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। খবর আল জাজিরা’র।

ট্রাম্পের ভাষণ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই নতুন করে ইসরায়েল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান। এ সময় ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করার কথা জানায় এবং হুমকি মোকাবিলায় তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়।

বুধবার (০১ এপ্রিল) ইরান প্রায় ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যার লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় অঞ্চল। ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত হওয়ার পর তেল আবিব, শেফেলা ও আশপাশের এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দারা বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন বলেও জানা গেছে।

ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, কয়েকটি এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র বা তার ধ্বংসাবশেষ আঘাত হানতে পারে। উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে। এছাড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রে ‘ক্লাস্টার ওয়ারহেড’ ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে, যা আকাশে বিস্ফোরিত হয়ে ছোট ছোট বোমা ছড়িয়ে দেয়।

এর আগে ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, চলমান যুদ্ধে ইরানের নৌ ও বিমান শক্তি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং দেশটির বহু শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর প্রশংসা করে ট্রাম্প বিশেষভাবে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর অবদানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তারা ‘অসাধারণ কাজ’ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের ব্যর্থ হতে দেবে না।

ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান বিভিন্ন দেশের ওপর হামলা চালিয়েছে, যা প্রমাণ করে তাদের কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।

ভাষণে তিনি নিকোলাস মাদুরোকে দ্রুত আটক করার ঘটনায় মার্কিন সেনাদের ধন্যবাদ জানান এবং দাবি করেন, এতে বিশ্বজুড়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার সম্পর্ক উন্নতির দিকেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদের একটি ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার অভিযানে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তাকে ‘বোমা হামলার মূল পরিকল্পনাকারী’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ইরান যুদ্ধকে যুক্তরাষ্ট্র ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, এই পদক্ষেপ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ‘সফল বিনিয়োগ’। তিনি আরও দাবি করেন, এখন মার্কিন নাগরিকরা ইরানের হামলার হুমকি বা পারমাণবিক আতঙ্কে নেই।

Please Share This Post in Your Social Media

জাতির উদ্দেশে ট্রাম্পের বক্তব্য শেষ হতেই ইসরায়েলে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের

আপডেট: ১১:২২:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতির উদ্দেশে ভাষণ শেষ হওয়ার পরপরই ইসরায়েলের দিকে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। খবর আল জাজিরা’র।

ট্রাম্পের ভাষণ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই নতুন করে ইসরায়েল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান। এ সময় ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করার কথা জানায় এবং হুমকি মোকাবিলায় তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়।

বুধবার (০১ এপ্রিল) ইরান প্রায় ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যার লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় অঞ্চল। ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত হওয়ার পর তেল আবিব, শেফেলা ও আশপাশের এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দারা বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন বলেও জানা গেছে।

ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, কয়েকটি এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র বা তার ধ্বংসাবশেষ আঘাত হানতে পারে। উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে। এছাড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রে ‘ক্লাস্টার ওয়ারহেড’ ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে, যা আকাশে বিস্ফোরিত হয়ে ছোট ছোট বোমা ছড়িয়ে দেয়।

এর আগে ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, চলমান যুদ্ধে ইরানের নৌ ও বিমান শক্তি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং দেশটির বহু শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর প্রশংসা করে ট্রাম্প বিশেষভাবে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর অবদানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তারা ‘অসাধারণ কাজ’ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের ব্যর্থ হতে দেবে না।

ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান বিভিন্ন দেশের ওপর হামলা চালিয়েছে, যা প্রমাণ করে তাদের কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।

ভাষণে তিনি নিকোলাস মাদুরোকে দ্রুত আটক করার ঘটনায় মার্কিন সেনাদের ধন্যবাদ জানান এবং দাবি করেন, এতে বিশ্বজুড়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার সম্পর্ক উন্নতির দিকেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদের একটি ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার অভিযানে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তাকে ‘বোমা হামলার মূল পরিকল্পনাকারী’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ইরান যুদ্ধকে যুক্তরাষ্ট্র ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, এই পদক্ষেপ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ‘সফল বিনিয়োগ’। তিনি আরও দাবি করেন, এখন মার্কিন নাগরিকরা ইরানের হামলার হুমকি বা পারমাণবিক আতঙ্কে নেই।