০৯:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬

বাঘারপাড়ার গোলাম মোর্তুজা মালয়েশিয়ায় কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় নিহত বাড়িতে শোকের মাতম

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৮:১৯:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১৪

সাঈদ ইবনে হানিফ ঃ যশোরের খাজুরা অঞ্চলের এনায়েতপুর গ্রামের মোর্ত্তুজা হোসেন (৩৮) আর ফিরবেন না নিজের ঘরে। প্রিয়জনদের কাছে ঈদের আগে ফেরার যে স্বপ্ন বুকে লালন করছিলেন, তা শেষ হয়ে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক—তার ৮ মাস বয়সী সন্তানের মুখ আর দেখা হলো না তার।

জানা গেছে, মালয়েশিয়ায় কর্মরত অবস্থায় সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে কর্মস্থলে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। সেখানে, ওয়েল্ডিং মেশিনে ঝালাই করার সময় হঠাৎ ওপর থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতরভাবে মাথায় আঘাত পান মোর্ত্তুজা। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

নিহত মোর্ত্তুজা হোসেন লেবুতলা ইউনিয়নের এনায়েতপুর গ্রামের মৃত সোয়েদ মোল্যার কনিষ্ঠ পুত্র। জীবিকার তাগিদে প্রায় এক দশক আগে পাড়ি জমান প্রবাসে। কঠোর পরিশ্রম আর ত্যাগে কাটছিল তার দীর্ঘ ১০ বছরের প্রবাস জীবন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৩ মাস আগে তিনি সর্বশেষ দেশে এসেছিলেন। আসন্ন কোরবানির ঈদে আবারও বাড়ি ফেরার পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস—সে ফেরা আর হলো না।

মোর্ত্তুজার বড় ভাই সাগর হোসেনের স্ত্রী মুঠোফোনে জানান যে, “মরদেহ দেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি চলছে। ইতোমধ্যে তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”

এই আকস্মিক মৃত্যুর খবরে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে বাতাস। একদিকে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির চলে যাওয়া, অন্যদিকে ছোট্ট সন্তানের ভবিষ্যৎ—সব মিলিয়ে এক গভীর শোক আর অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে মোর্ত্তুজার পরিবারে।

মোর্ত্তুজার এই অকাল মৃত্যু যেন আরেকটি প্রবাসী জীবনের করুণ বাস্তবতা তুলে ধরলো—স্বপ্ন নিয়ে ঘর ছাড়লেও, অনেক সময় সেই স্বপ্নই হয়ে ওঠে অসমাপ্ত গল্প।

Please Share This Post in Your Social Media

বাঘারপাড়ার গোলাম মোর্তুজা মালয়েশিয়ায় কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় নিহত বাড়িতে শোকের মাতম

আপডেট: ০৮:১৯:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

সাঈদ ইবনে হানিফ ঃ যশোরের খাজুরা অঞ্চলের এনায়েতপুর গ্রামের মোর্ত্তুজা হোসেন (৩৮) আর ফিরবেন না নিজের ঘরে। প্রিয়জনদের কাছে ঈদের আগে ফেরার যে স্বপ্ন বুকে লালন করছিলেন, তা শেষ হয়ে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক—তার ৮ মাস বয়সী সন্তানের মুখ আর দেখা হলো না তার।

জানা গেছে, মালয়েশিয়ায় কর্মরত অবস্থায় সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে কর্মস্থলে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। সেখানে, ওয়েল্ডিং মেশিনে ঝালাই করার সময় হঠাৎ ওপর থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতরভাবে মাথায় আঘাত পান মোর্ত্তুজা। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

নিহত মোর্ত্তুজা হোসেন লেবুতলা ইউনিয়নের এনায়েতপুর গ্রামের মৃত সোয়েদ মোল্যার কনিষ্ঠ পুত্র। জীবিকার তাগিদে প্রায় এক দশক আগে পাড়ি জমান প্রবাসে। কঠোর পরিশ্রম আর ত্যাগে কাটছিল তার দীর্ঘ ১০ বছরের প্রবাস জীবন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৩ মাস আগে তিনি সর্বশেষ দেশে এসেছিলেন। আসন্ন কোরবানির ঈদে আবারও বাড়ি ফেরার পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস—সে ফেরা আর হলো না।

মোর্ত্তুজার বড় ভাই সাগর হোসেনের স্ত্রী মুঠোফোনে জানান যে, “মরদেহ দেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি চলছে। ইতোমধ্যে তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”

এই আকস্মিক মৃত্যুর খবরে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে বাতাস। একদিকে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির চলে যাওয়া, অন্যদিকে ছোট্ট সন্তানের ভবিষ্যৎ—সব মিলিয়ে এক গভীর শোক আর অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে মোর্ত্তুজার পরিবারে।

মোর্ত্তুজার এই অকাল মৃত্যু যেন আরেকটি প্রবাসী জীবনের করুণ বাস্তবতা তুলে ধরলো—স্বপ্ন নিয়ে ঘর ছাড়লেও, অনেক সময় সেই স্বপ্নই হয়ে ওঠে অসমাপ্ত গল্প।