০২:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

স্মৃতিতে ভাস্বর, বাস্তবে অবহেলিত-শার্শার উলসীর সেই ঐতিহাসিক জিয়া খাল!

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০১:৪০:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
  • / ১৮

আসাদুজ্জামান আসাদ।। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বপ্নের ‘জিয়া খাল’ আজ মৃতপ্রায়।

পুনঃখননই পারে কৃষি ও মৎস্য চাষে নতুন জোয়ার আনতে! শার্শার উলসীতে অবহেলিত জিয়া খালের সংস্কার এখন সময়ের দাবি।

এলাকাবাসীর দাবি, জিয়াউর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত এই খালটি পুনঃখনন করা হলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, সেচ সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং মৎস্য চাষের সম্ভাবনাও তৈরি হবে।

১৯৭৬ সালে তার নিজ হাতে খনন করা এই খালটি এখন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। একসময় এই খালটি কৃষি সেচের প্রধান উৎস ছিল কিন্তু এখন তা অবৈধ দখল ও ময়লা-আবর্জনার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে।

উলাশী বাড়ি একজন সমাজকর্মী মনিরুল ইসলাম মনির বলেন, ‘জিয়া খাল’ খননের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে চেয়েছিলেন। এই খালটি খনন করা হলে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পানি নিষ্কাশন ও খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। কিন্তু এখন এই খালটির অবস্থা খুবই খারাপ। মনির মনে করেন, এই খালটি পুনরুদ্ধার করা হলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে এবং মৎস্য চাষের সম্ভাবনা তৈরি হবে।

যদুনাথপুর গ্রামের পোস্টম্যান অনিল কুমার বলেন, খননকৃত এই খালটি উলাশী ও রঘুনাথপুর গ্রামের মুখ থেকে শুরু করে যদুনাথপুর গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। আর পুরাতন বেতনা নদী উলাশী রঘুনাথপুর বাগ এর মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ঝিকরগাছা উপজেলার মুকুন্দপুর, বরুনহাল, মাটিকুমরা, পাচপোতা হয়ে দেউলি ও যদুনাথপুর পৌঁছেছে। জিয়া খাল দেউলি খাঁ পাড়া ও যদুনাথপুর গ্রামের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত মুল বেতনা নদীর সাথে মিশে গেছে। উলাশী থেকে যদুনাথপুর জিয়া খালের দৈর্ঘ্য প্রায় ৪ কিলোমিটার আর পুরাতন বেতনা নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ১৯ কিলোমিটার।

যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশী ইউনিয়নে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নিজ হাতে খননকৃত উলাশীর খাল, যা স্থানীয়ভাবে ‘জিয়া খাল’ নামেই পরিচিত। উলাশী ও রঘুনাথপুর গ্রামের মুখ থেকে শুরু হয়ে যদুনাথপুর গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত এই খালটি। পাইলট প্রকল্পের অংশ হিসেবে ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর জিয়াউর রহমান নিজেই এই খাল খনন কাজ শুরু করেছিলেন।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহির বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গৃহীত ১৯ দফা কর্মসূচির অন্যতম ছিল দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা এবং দেশে কেউ যেন অভুক্ত না থাকে তা নিশ্চিত করা। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে খাল খনন কর্মসূচি অসামান্য অবদান রাখে। প্রাকৃতিক জলাধার সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সারা দেশে এই কর্মসূচি শুরু হয়, যা সমাজকে সংগঠিত করার এক অনন্য নজির স্থাপন করে।

এই কর্মসূচির বহুমুখী উদ্দেশ্য ছিল কৃষিতে সেচ নিশ্চিত করা, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করা। সারা দেশে খাল খনন করে প্রাকৃতিক জলাধার নির্মাণের ফলে ভূগর্ভস্থ পানির পরিবর্তে উপরিভাগের পানির ব্যবহার বৃদ্ধি পায় এবং খালগুলোতে মাছের উৎপাদনও বাড়ে।

খাল খনন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন উলাশী গিলাপোল গ্রামের বিশিষ্ট ব্যাংকার রবিউল ইসলাম।

তিনি বলেন, এই খাল খনন এর সরাসরি প্রভাব পড়েছিল কৃষিতে। কৃষকদের জন্য এটি অপেক্ষাকৃত স্বল্পমূল্যের সেচ সুবিধা ছিল, ফলে তাদের অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয় বহন করতে হয়নি। শুধু সেচের আওতা বৃদ্ধিই নয়, গ্রামীণ অঞ্চলে দারিদ্র্য বিমোচন ও খাদ্য সহায়তারও পথ খুলে দিয়েছিল খাল খনন কর্মসূচি। কার্যত, এটি ছিল একসঙ্গে অনেক সাফল্য অর্জনের একটি সুপরিকল্পিত কর্মসূচি।

শার্শা সরকারি মহিলা কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা বলেন, এই বেতনা নদীটি ঝিনাইদহ থেকে উৎপন্ন হয়ে নাভারণের মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরা ও খুলনার দিকে প্রবাহিত হয়েছে। এই জিয়া খালটি উলাশী ও রঘুনাথপুর গ্রামের মুখ থেকে শুরু করে যদুনাথপুর গ্রাম পর্যন্ত খনন করা হয়।এর ফলে শার্শা উপজেলার উত্তরাঞ্চলের ভারতীয় উজানের পানিতে সৃস্ট জলাবদ্ধতা দুর করা সম্ভব হয়।

খাল খনন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন আলি মোল্লা।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান উলাশীতে এসে নিজ হাতে মাটি কেটে আমাদের মাথায় তুলে দেন। সম্পুর্ন স্বেচ্ছাশ্রমের ভিক্তিতে এই খালটি কাটা হয়। খাল কাটার ফলে জলাবদ্ধতা নিরসন ও অনাবাদি জমিতে ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হয়।

খাল খনন প্রকল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছে জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিগত স্মৃতি ও আবেগও। স্থানীয় প্রবীণদের স্মৃতিচারণে জানা যায়, খনন কাজ চলাকালে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করতেন। এমনকি খালের পাড়ে একটি সাধারণ ভবনে রাতযাপনও করেছিলেন তিনি।

পরবর্তীতে সেই ভবনটি সরকারি কর্মকর্তা ও কৃষকদের বৈঠকের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হতো। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে ভবনটি এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ভবনের ভেতরে থাকা শহীদ জিয়ার ব্যবহৃত ফ্যান, খাট, টেবিল ও চেয়ারসহ বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন হারিয়ে গেছে। বর্তমানে সেখানে পড়ে আছে শুধু ভাঙা দেয়াল ও আগাছা।

খালের পাড়ে নির্মিত ঐতিহাসিক ‘জিয়া মঞ্চ’ও আজ বিলুপ্তির পথে। এক সময় যেখানে উন্নয়ন ও জনকল্যাণের নানা কর্মসূচি ঘোষণা করা হতো, বর্তমানে সেই জায়গার একপাশে গড়ে উঠেছে গুচ্ছগ্রাম এবং অন্য পাশে স্থাপিত হয়েছে উলাশী ইউনিয়ন ভূমি অফিস।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধের কারণে এক সময় উলাশী ইউনিয়নের কিছু আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী জিয়ার নামসংবলিত স্মৃতিফলক ভেঙে খালের ভেতর ফেলে দেন।

যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে ১৯৭৬ সালে এখান থেকেই খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। সেই চিন্তা থেকে বিএনপি এবার নির্বাচনে সারা দেশে খাল খননের প্রতিশ্রুতি দেয়। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। মৃতপ্রায় খালের তালিকা চায় মাঠ পর্যায়ে নির্দেশানুয়ায়ী যশোরের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত চার কিলোমিটার দৈঘ্যের শার্শার উলাশী ‘জিয়া খাল’ খননের মধ্যে দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু করবে পাউবোর যশোর কার্যালয়।

Please Share This Post in Your Social Media

স্মৃতিতে ভাস্বর, বাস্তবে অবহেলিত-শার্শার উলসীর সেই ঐতিহাসিক জিয়া খাল!

আপডেট: ০১:৪০:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

আসাদুজ্জামান আসাদ।। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বপ্নের ‘জিয়া খাল’ আজ মৃতপ্রায়।

পুনঃখননই পারে কৃষি ও মৎস্য চাষে নতুন জোয়ার আনতে! শার্শার উলসীতে অবহেলিত জিয়া খালের সংস্কার এখন সময়ের দাবি।

এলাকাবাসীর দাবি, জিয়াউর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত এই খালটি পুনঃখনন করা হলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, সেচ সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং মৎস্য চাষের সম্ভাবনাও তৈরি হবে।

১৯৭৬ সালে তার নিজ হাতে খনন করা এই খালটি এখন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। একসময় এই খালটি কৃষি সেচের প্রধান উৎস ছিল কিন্তু এখন তা অবৈধ দখল ও ময়লা-আবর্জনার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে।

উলাশী বাড়ি একজন সমাজকর্মী মনিরুল ইসলাম মনির বলেন, ‘জিয়া খাল’ খননের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে চেয়েছিলেন। এই খালটি খনন করা হলে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পানি নিষ্কাশন ও খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। কিন্তু এখন এই খালটির অবস্থা খুবই খারাপ। মনির মনে করেন, এই খালটি পুনরুদ্ধার করা হলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে এবং মৎস্য চাষের সম্ভাবনা তৈরি হবে।

যদুনাথপুর গ্রামের পোস্টম্যান অনিল কুমার বলেন, খননকৃত এই খালটি উলাশী ও রঘুনাথপুর গ্রামের মুখ থেকে শুরু করে যদুনাথপুর গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। আর পুরাতন বেতনা নদী উলাশী রঘুনাথপুর বাগ এর মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ঝিকরগাছা উপজেলার মুকুন্দপুর, বরুনহাল, মাটিকুমরা, পাচপোতা হয়ে দেউলি ও যদুনাথপুর পৌঁছেছে। জিয়া খাল দেউলি খাঁ পাড়া ও যদুনাথপুর গ্রামের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত মুল বেতনা নদীর সাথে মিশে গেছে। উলাশী থেকে যদুনাথপুর জিয়া খালের দৈর্ঘ্য প্রায় ৪ কিলোমিটার আর পুরাতন বেতনা নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ১৯ কিলোমিটার।

যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশী ইউনিয়নে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নিজ হাতে খননকৃত উলাশীর খাল, যা স্থানীয়ভাবে ‘জিয়া খাল’ নামেই পরিচিত। উলাশী ও রঘুনাথপুর গ্রামের মুখ থেকে শুরু হয়ে যদুনাথপুর গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত এই খালটি। পাইলট প্রকল্পের অংশ হিসেবে ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর জিয়াউর রহমান নিজেই এই খাল খনন কাজ শুরু করেছিলেন।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহির বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গৃহীত ১৯ দফা কর্মসূচির অন্যতম ছিল দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা এবং দেশে কেউ যেন অভুক্ত না থাকে তা নিশ্চিত করা। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে খাল খনন কর্মসূচি অসামান্য অবদান রাখে। প্রাকৃতিক জলাধার সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সারা দেশে এই কর্মসূচি শুরু হয়, যা সমাজকে সংগঠিত করার এক অনন্য নজির স্থাপন করে।

এই কর্মসূচির বহুমুখী উদ্দেশ্য ছিল কৃষিতে সেচ নিশ্চিত করা, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করা। সারা দেশে খাল খনন করে প্রাকৃতিক জলাধার নির্মাণের ফলে ভূগর্ভস্থ পানির পরিবর্তে উপরিভাগের পানির ব্যবহার বৃদ্ধি পায় এবং খালগুলোতে মাছের উৎপাদনও বাড়ে।

খাল খনন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন উলাশী গিলাপোল গ্রামের বিশিষ্ট ব্যাংকার রবিউল ইসলাম।

তিনি বলেন, এই খাল খনন এর সরাসরি প্রভাব পড়েছিল কৃষিতে। কৃষকদের জন্য এটি অপেক্ষাকৃত স্বল্পমূল্যের সেচ সুবিধা ছিল, ফলে তাদের অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয় বহন করতে হয়নি। শুধু সেচের আওতা বৃদ্ধিই নয়, গ্রামীণ অঞ্চলে দারিদ্র্য বিমোচন ও খাদ্য সহায়তারও পথ খুলে দিয়েছিল খাল খনন কর্মসূচি। কার্যত, এটি ছিল একসঙ্গে অনেক সাফল্য অর্জনের একটি সুপরিকল্পিত কর্মসূচি।

শার্শা সরকারি মহিলা কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা বলেন, এই বেতনা নদীটি ঝিনাইদহ থেকে উৎপন্ন হয়ে নাভারণের মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরা ও খুলনার দিকে প্রবাহিত হয়েছে। এই জিয়া খালটি উলাশী ও রঘুনাথপুর গ্রামের মুখ থেকে শুরু করে যদুনাথপুর গ্রাম পর্যন্ত খনন করা হয়।এর ফলে শার্শা উপজেলার উত্তরাঞ্চলের ভারতীয় উজানের পানিতে সৃস্ট জলাবদ্ধতা দুর করা সম্ভব হয়।

খাল খনন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন আলি মোল্লা।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান উলাশীতে এসে নিজ হাতে মাটি কেটে আমাদের মাথায় তুলে দেন। সম্পুর্ন স্বেচ্ছাশ্রমের ভিক্তিতে এই খালটি কাটা হয়। খাল কাটার ফলে জলাবদ্ধতা নিরসন ও অনাবাদি জমিতে ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হয়।

খাল খনন প্রকল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছে জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিগত স্মৃতি ও আবেগও। স্থানীয় প্রবীণদের স্মৃতিচারণে জানা যায়, খনন কাজ চলাকালে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করতেন। এমনকি খালের পাড়ে একটি সাধারণ ভবনে রাতযাপনও করেছিলেন তিনি।

পরবর্তীতে সেই ভবনটি সরকারি কর্মকর্তা ও কৃষকদের বৈঠকের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হতো। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে ভবনটি এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ভবনের ভেতরে থাকা শহীদ জিয়ার ব্যবহৃত ফ্যান, খাট, টেবিল ও চেয়ারসহ বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন হারিয়ে গেছে। বর্তমানে সেখানে পড়ে আছে শুধু ভাঙা দেয়াল ও আগাছা।

খালের পাড়ে নির্মিত ঐতিহাসিক ‘জিয়া মঞ্চ’ও আজ বিলুপ্তির পথে। এক সময় যেখানে উন্নয়ন ও জনকল্যাণের নানা কর্মসূচি ঘোষণা করা হতো, বর্তমানে সেই জায়গার একপাশে গড়ে উঠেছে গুচ্ছগ্রাম এবং অন্য পাশে স্থাপিত হয়েছে উলাশী ইউনিয়ন ভূমি অফিস।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধের কারণে এক সময় উলাশী ইউনিয়নের কিছু আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী জিয়ার নামসংবলিত স্মৃতিফলক ভেঙে খালের ভেতর ফেলে দেন।

যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে ১৯৭৬ সালে এখান থেকেই খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। সেই চিন্তা থেকে বিএনপি এবার নির্বাচনে সারা দেশে খাল খননের প্রতিশ্রুতি দেয়। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। মৃতপ্রায় খালের তালিকা চায় মাঠ পর্যায়ে নির্দেশানুয়ায়ী যশোরের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত চার কিলোমিটার দৈঘ্যের শার্শার উলাশী ‘জিয়া খাল’ খননের মধ্যে দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু করবে পাউবোর যশোর কার্যালয়।