১১:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

ইরানে পারমাণবিক হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের, জাতিসংঘ কূটনীতিকের পদত্যাগ

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:৫৭:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
  • / ১৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে জাতিসংঘ-সংশ্লিষ্ট এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক পদত্যাগ করেছেন। মোহাম্মদ সাফা নামের ওই কূটনীতিক দাবি করেছেন, ইরানকে ঘিরে এমন এক পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, যেখানে পারমাণবিক হামলার ঝুঁকি রয়েছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া পোস্ট ও একটি দীর্ঘ চিঠির মাধ্যমে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

মোহাম্মদ সাফা ২০১৩ সাল থেকে আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘প্যাট্রিয়টিক ভিশন’ (পিভিএ)-এর নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংস্থাটি জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের বিশেষ পরামর্শমূলক মর্যাদা অর্জন করেছে। ২০১৬ সালে তিনি জাতিসংঘে সংস্থাটির স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত হন।

পোস্টে তেহরানের একটি ছবি সংযুক্ত করে সাফা লিখেছেন, বিশ্ববাসী পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারছে না। তার দাবি, জাতিসংঘ ইরানে সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রেক্ষাপটে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে জড়িত।

যুদ্ধপন্থী অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তেহরান কোনো জনশূন্য এলাকা নয়; প্রায় এক কোটি মানুষের আবাসস্থল এই শহর। সেখানে পরিবার, শিশু ও সাধারণ মানুষ বসবাস করে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একই ধরনের হামলা যদি ওয়াশিংটন, বার্লিন, প্যারিস বা লন্ডনে ঘটত, তবে বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া কী হতো।

সাফা জানান, মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অংশ বা সাক্ষী না হওয়ার লক্ষ্যে তিনি তার কূটনৈতিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সম্ভাব্য ‘পারমাণবিক শীতকাল’ প্রতিরোধে বিশ্ববাসীকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান।

যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ‘নো কিংস’ স্লোগানের বিক্ষোভের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তিনি সাধারণ মানুষকে রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানান।

সাফা আরও জানান, তিনি ২০২৩ সালেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং গত তিন বছর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। তার অভিযোগ, জাতিসংঘের কিছু কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে অনীহা দেখাচ্ছেন।

তিনি দাবি করেন, ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার পর ভিন্নমত প্রকাশ করায় তাকে সমালোচনা ও বিভিন্ন অভিযোগের মুখোমুখি হতে হয়েছে। পাশাপাশি তিনি ও তার পরিবার হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

ইরানে পারমাণবিক হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের, জাতিসংঘ কূটনীতিকের পদত্যাগ

আপডেট: ০৯:৫৭:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে জাতিসংঘ-সংশ্লিষ্ট এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক পদত্যাগ করেছেন। মোহাম্মদ সাফা নামের ওই কূটনীতিক দাবি করেছেন, ইরানকে ঘিরে এমন এক পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, যেখানে পারমাণবিক হামলার ঝুঁকি রয়েছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া পোস্ট ও একটি দীর্ঘ চিঠির মাধ্যমে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

মোহাম্মদ সাফা ২০১৩ সাল থেকে আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘প্যাট্রিয়টিক ভিশন’ (পিভিএ)-এর নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংস্থাটি জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের বিশেষ পরামর্শমূলক মর্যাদা অর্জন করেছে। ২০১৬ সালে তিনি জাতিসংঘে সংস্থাটির স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত হন।

পোস্টে তেহরানের একটি ছবি সংযুক্ত করে সাফা লিখেছেন, বিশ্ববাসী পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারছে না। তার দাবি, জাতিসংঘ ইরানে সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রেক্ষাপটে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে জড়িত।

যুদ্ধপন্থী অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তেহরান কোনো জনশূন্য এলাকা নয়; প্রায় এক কোটি মানুষের আবাসস্থল এই শহর। সেখানে পরিবার, শিশু ও সাধারণ মানুষ বসবাস করে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একই ধরনের হামলা যদি ওয়াশিংটন, বার্লিন, প্যারিস বা লন্ডনে ঘটত, তবে বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া কী হতো।

সাফা জানান, মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অংশ বা সাক্ষী না হওয়ার লক্ষ্যে তিনি তার কূটনৈতিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সম্ভাব্য ‘পারমাণবিক শীতকাল’ প্রতিরোধে বিশ্ববাসীকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান।

যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ‘নো কিংস’ স্লোগানের বিক্ষোভের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তিনি সাধারণ মানুষকে রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানান।

সাফা আরও জানান, তিনি ২০২৩ সালেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং গত তিন বছর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। তার অভিযোগ, জাতিসংঘের কিছু কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে অনীহা দেখাচ্ছেন।

তিনি দাবি করেন, ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার পর ভিন্নমত প্রকাশ করায় তাকে সমালোচনা ও বিভিন্ন অভিযোগের মুখোমুখি হতে হয়েছে। পাশাপাশি তিনি ও তার পরিবার হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।