বেনাপোল সীমান্তে মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসন, ধ্বংসের মুখে তরুণ প্রজন্ম
- আপডেট: ০৮:৩১:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
- / ১২

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বেনাপোল ও শার্শা সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবাধে প্রবেশ করছে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য, যা স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবক মহলে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বিশেষ করে নেশাজাতীয় উইনিক্স ‘এসকাপ’ও ফেনসিডিল সিরাপের চোরাচালান আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। বিজিবি সদস্যদের হাতে নিয়মিত এসব মাদকের চালান আটক হলেও এর প্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতার কারণে এলাকার উঠতি বয়সী স্কুল ও কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীরা ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
বেনাপোল পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের ভারত বলেন, “সীমান্ত দিয়ে যেভাবে নেশাজাতীয় সিরাপ ঢুকছে, তাতে আমাদের নতুন প্রজন্ম ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এই মাদক শুধু শরীরের ক্ষতি করছে না, বরং শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ও নৈতিকতাকেও বিপন্ন করছে।”
তিনি আরও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “এই মরণনেশা গ্রহণ করে ইতোমধ্যে অনেক পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে। নেশার টাকা জোগাড় করতে না পেরে অনেক সন্তান নিজ পিতা-মাতাকে হত্যার মতো নৃশংস ঘটনাও ঘটিয়েছে, যা আমাদের সমাজের জন্য চরম লজ্জাজনক ও ভীতিকর।”
মাদক নির্মূলে কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর না করে সামাজিক সচেতনতার ওপর জোর দিয়েছেন স্থানীয় বিশিষ্টজনরা। আবু তাহের ভারত বলেন, “সীমান্ত এলাকায় বিজিবি তাদের দায়িত্ব পালন করছে ঠিকই, কিন্তু আমাদের নিজ নিজ জায়গা থেকে আরও বেশি সতর্ক হতে হবে।”
তিনি এলাকার সচেতন নাগরিকসহ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে। মাদকের চোরাচালানকারীদের চিহ্নিত করে প্রশাসনকে তথ্য প্রদান করতে হবে। অভিভাবকদের সন্তানদের চলাফেরা ও আচরণের ওপর বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।
প্রতিদিনের মত আজও বিজিবি শার্শার গোগা সীমান্ত থেকে ৪২ বোতল এসকাফ সিরাপ জব্দ করতে পারলেও কোন মাদক কারবারিকে আটক করতে পারেনি। এসব নেশাজাতীয় সিরাপ্ এর সাথে মাদক কারবারী আটক হলে কিছুটা হৃাস পেত মাদক আসা এরকম মন্তব্য করেন স্থানীয় এক সাবেক জন প্রতিনিধি আশরাফ।
সীমান্তের এই মাদকের থাবা থেকে যুবসমাজকে বাঁচাতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সচেতন মহল মনে করছেন, মাদকের এই অভিশাপ রোধ করতে না পারলে অদূর ভবিষ্যতে এর মাশুল গুণতে হবে পুরো সমাজকে।





















