বেনাপোল বন্দরে পুলিশের ছত্রছায়ায় বেপরোয়া প্রতারক চক্র : পাসপোর্টধারীর ৩০ হাজার টাকা লুট
- আপডেট: ০৪:৪৩:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
- / ৩১

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরের বেনাপোল চেকপোস্ট থেকে সুশান্ত কুমার মজুমদার নামে এক পাসপোর্টধারীর কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে প্রতারক চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ভুক্তভোগী পাসপোর্টধারীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আস্তানায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ আজ দুপুরে তাদের আটক করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, বেনাপোল পৌরসভার বড়আঁচড়া গ্রামের সলেমানের ছেলে হামিদ, ভবারবেড় গ্রামের মতরেবের ছেলে আতিকুর রহমান ও শাহাজানের ছেলে রুবেল হোসেন।
ভুক্তভোগী পাসপোর্টধারী জানান, তিনি চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার ভোরে বাস থেকে বেনাপোল চেকপোষ্টে নামেন। এসময় পাসপোর্টে দ্রুত কাজ করে দেওয়ার নাম করে ৪ থেকে ৫ জন তাকে ঘিরে ধরে। এক প্রকার তাদের সাথে তাদের আস্তানায় যেতে বাধ্য করে। পরে তাকে জিম্মী করে সাথে থাকা ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে তিনি থানায় উপস্থিত হয়ে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করলে পুলিশ প্রতারকদের মধ্য থেকে ৩ জনকে আটক করে।
পুলিশ জানায়, প্রতারক চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বেনাপোল ইমিগ্রেশন ও চেকপোস্ট এলাকায় যাত্রীদের টার্গেট করে নানা কৌশলে অর্থ হাতিয়ে আসছিল। সর্বশেষ এক পাসপোর্টধারীর কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের আটক করে।
তবে এ ঘটনায় নতুন করে অভিযোগ উঠেছে—পুলিশের কিছু অসাধু সদস্যের ছত্রছায়ায় এসব ছিনতাই ও প্রতারণা চলছে।
স্থানীয়দের দাবি, অসহায় পাসপোর্টধারীদের জিম্মি করে প্রতিনিয়ত লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। অনেকে এ চক্রের হাতে জীবনও হারিয়েছে। এমনকি ছিনতাইকারীদের কাছ থেকে নিয়মিত ভাগ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে পোর্ট থানা পুলিশের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী মহল বহুবার এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পুলিশকে অনুরোধ জানালেও কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। তাদের মতে, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে চক্রটি দল বদল করে একইভাবে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, প্রতারকরা প্রতিদিন পাসপোর্টধারীদের আটকে টাকা ও সাথে থাকা মুর্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নিচ্ছে। অপরাধ দমনে সীমান্তে সরকারের বিভিন্ন সংস্থ্যা ও আইন শৃঙ্খলা বাহীনির তদারকি থাকলেও তাদের দূর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা কোন কাজে আসছে না।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যে জানা যায়, বেনাপোল চেকপোষ্ট বন্দর এলাকার চিহ্নিত ছিনতাইকারীদের মধ্যে আলোচিতরা রয়েছে, পোর্টথানার বড়আঁচড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে বাবু, শাহাজামালের ছেলে মারুফ, ছোটআঁচড়া গ্রামের দাউদ হোসেনের ছেলে ইব্রাহিম হোসেন সাগর, সাদিপুর গ্রামের হারুনের ছেলে এবাদত। এছাড়া বেনাপোল চেকপোষ্টে চৌধুরী সুপার মার্কেটের রবি, সাইদুর সুপার মার্কেটের বাবুল, রেজাউল সুপার মার্কেটের হামিদ, ইউনুস সুপার মার্কেটে বরিশালের শামীম, রবি, হৃদয়, শিমুল, ইমরান ও মারুফ পেশাদার ছিনতাইকারী।
তথ্য বলছে বন্দরে ভ্রমনকারী দেশ, বিদেশী পাচপোর্টধারীদের প্রধান নিরাপত্তায় কাজ করছে পোর্টথানা পুলিশ। এছাড়া বন্দরের আনসারসহ বিভিন্ন সংস্থ্যা রয়েছে।
বেনাপোল বন্দর পরিচালক শামিম হোসেন জানান, প্রায়ই প্রতারক চক্রকে ধরে পুলিশে দেওয়া হচ্ছে। তারা আবার ফিরে ছিনতাই, প্রতারনায় জড়িয়ে পড়ছে।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন সাখাওয়াত হোসেন জানান, পাসপোর্টধারীদের কাছ থেকে প্রতিদিনই অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটছে। বিভিন্ন সভায় এসব তুলে ধরা হয়। কিন্তু কোন ভাবে থামছেনা।
জানা যায়, দেশের গুরুত্বপুর্ণ এলাকা এবং রাষ্ট্রের ভারত গমনের প্রধান ফটক বেনাপোল চেকপোষ্ট। এই পথে প্রতিদিনি ৫ থেকে ৭ হাজার দেশী বিদেশী লোক যাতায়াত করে থাকে। আর ওইসব যাত্রীদের এক শ্রেনীর ছিনতাইকারী লাইনের আগে অনলাইন ট্যাক্স, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে কষ্ট করতে হবে না এসব প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে আসে তাদের নির্দিষ্ট ঘরে। তারপর অনলাইন ফর্মপূরণ এবং টাকার নাম্বার লিখতে হবে, না লিখলে কাস্টমস আটক করবে বলে নানাভাবে দুর দুরান্ত থেকে আসা যাত্রীদের বুঝিয়ে তাদের কাছে থাকা টাকা গুনতে গুনতে পাসপোর্ট যাত্রীর অগোচরে ফেলে দেয় টেবিলের নীচে। এভাবে প্রতিনয়ত সাধারন এসব যাত্রীদের টাকা ছিনতাই করছে এই চক্রগুলো।
দিনে দুপুরে এমন ঘটনা প্রতিদিনই ঘটায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বেনাপোল পোর্টথানা পুলিশের ওসি আশরাফ হোসেন জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমনে পর্যায় ক্রমে প্রতারক চক্রের সব সদস্যদের ধরা হবে।























