খাগড়াছড়িতে বন্যপ্রাণী শিকার ও পাচার রোধে মাঠে নেমেছে প্রকৃতি দল
- আপডেট: ০৭:০৩:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১৬

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়ি জেলার মাইসছড়ি বাজার এলাকায় বন্যপ্রাণী শিকার, অবৈধ ক্রয়-বিক্রয় ও পাচার প্রতিরোধে যৌথভাবে মাঠ পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে ‘প্রকৃতি দল’ ও বনবিভাগ। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।
“Biodiversity Ecosystems Restoration for Community Resilience (BERCR)” প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ কার্যক্রম চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে পরিবেশ পুনরুদ্ধার ও কমিউনিটি রেজিলিয়েন্স বৃদ্ধির বৃহত্তর কর্মসূচির অংশ।
“Ecosystems Restoration and Resilience Development in Chittagong Hill Tracts” শীর্ষক কর্মসূচির সহায়তায় এবং খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের বাস্তবায়নে উদ্যোগটি গ্রহণ করা হয়। সার্বিক সমন্বয়ে ছিলেন বিইআরসিআর প্রকল্পের উপজেলা ফ্যাসিলিটেটর নকুল ত্রিপুরা।
মাঠ পর্যায়ে নজরদারি ও জনসচেতনতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মাইসছড়ি বাজার এলাকায় যৌথ পর্যবেক্ষণ চালানো হয়। বাজারের বিভিন্ন দোকান, পশুপাখি বিক্রির সম্ভাব্য স্থান ও আশপাশের এলাকাগুলো ঘুরে দেখা হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ী, ক্রেতা-বিক্রেতা ও সাধারণ মানুষের মাঝে লিফলেট বিতরণ এবং মতবিনিময় করা হয়।
এ সময় বনবিভাগের কর্মকর্তারা বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী শিকার, আটক, হত্যা, সংরক্ষিত প্রাণী বিক্রয় বা পাচারের শাস্তিযোগ্য অপরাধ সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের জন্য বিদ্যমান জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধানও জানানো হয়।
প্রকৃতি দলের সদস্যরা স্থানীয়দের কাছে বন্যপ্রাণীর পরিবেশগত গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে বলেন, একটি প্রাণীর বিলুপ্তি পুরো বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। তাই বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় প্রত্যেক নাগরিকের সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণ অত্যন্ত জরুরি।
আয়োজকরা জানান, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল প্রাকৃতিক সম্পদ, পাহাড়ি বন ও বৈচিত্র্যময় বন্যপ্রাণীর জন্য বিশেষভাবে সমৃদ্ধ। তবে অবৈধ শিকার ও পাচারের কারণে অনেক প্রজাতি হুমকির মুখে পড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে কেবল আইন প্রয়োগ নয়, বরং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলাই হতে পারে টেকসই সমাধান।
তারা আরও বলেন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ শুধু পরিবেশ রক্ষার বিষয় নয়; এটি খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপদ জীবনযাপনের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত। বন ও বন্যপ্রাণী টিকে থাকলে পাহাড়ি অঞ্চলের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়, যা কমিউনিটি রেজিলিয়েন্স নিশ্চিত করতে সহায়ক।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এ ধরনের যৌথ পর্যবেক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও জেলার বিভিন্ন বাজার ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয় যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ জোরদার করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিজিতলা বনবিভাগের রেঞ্জ সহকারী মো. শাহজাহান শেখ, রেঞ্জ সহকারী সুজন চন্দ্র দাস, মাইসছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হেমঙ্কর তালুকদারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও প্রকৃতি দলের সদস্যরা।






















