০৮:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

দেশের উদ্দেশে আজ লন্ডন ছাড়ছেন তারেক রহমান

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৫:৫৯:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ৯১

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর পর আজ বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) নিজ মাতৃভূমির উদ্দেশে লন্ডন ছাড়ছেন। লন্ডনের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় (বাংলাদেশ সময় রাত সোয়া ১২টা) তিনি হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২০২ ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুর প্রায় ১২টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তার পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এ সময় তার সঙ্গে থাকবেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান।

এক-এগারোর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ২০০৮ সালে কারামুক্ত হয়ে তারেক রহমান সপরিবারে যুক্তরাজ্যে যান। এরপর থেকে তিনি লন্ডনেই অবস্থান করছিলেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় বিএনপির বগুড়া জেলা কমিটির সদস্য হিসেবে।

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বিএনপি ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাকে বরণ করে নিতে ঢাকায় স্মরণকালের অন্যতম বড় গণসংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে।

গত ১৬ ডিসেম্বর লন্ডনে বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় তারেক রহমান বলেন, “আপনাদের দোয়ায় ২৫ তারিখ আমি দেশে ফিরে যাব। অনুরোধ করছি, সেদিন কেউ বিমানবন্দরে যাবেন না।” তিনি আরও বলেন, এই অনুরোধ অমান্যকারীদের ব্যক্তিগত স্বার্থান্বেষী হিসেবে গণ্য করা হবে।

দলীয় সূত্র জানায়, বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তিনি সরাসরি রাজধানীর কুড়িল সংলগ্ন পূর্বাচল হাইওয়ে এক্সপ্রেস এলাকায় যাবেন। সেখানে তার সম্মানে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে। এ আয়োজনের জন্য ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমতিও পেয়েছে বিএনপি। মঞ্চ নির্মাণসহ সার্বিক প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

বিএনপি নেতাদের প্রত্যাশা, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক এই সংবর্ধনায় অংশ নেবেন। তাদের মতে, উপস্থিতির দিক থেকে এটি অতীতের সব রাজনৈতিক সমাবেশকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।

তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পাশাপাশি দলীয় স্বেচ্ছাসেবকরাও সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে কাজ করছেন।

তারেক রহমান ১৯৮৮ সালে বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের পক্ষে জনমত গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি মায়ের পাশাপাশি দেশব্যাপী নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেন। ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ কাউন্সিলে তিনি দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

শিক্ষাজীবনে তারেক রহমান ঢাকা সেনানিবাসের শাহীন হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে পড়াশোনা করেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শেষে তিনি অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। স্নাতকোত্তর পর্যায়ে তিনি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে অধ্যয়ন করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের উদ্দেশে আজ লন্ডন ছাড়ছেন তারেক রহমান

আপডেট: ০৫:৫৯:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর পর আজ বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) নিজ মাতৃভূমির উদ্দেশে লন্ডন ছাড়ছেন। লন্ডনের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় (বাংলাদেশ সময় রাত সোয়া ১২টা) তিনি হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২০২ ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুর প্রায় ১২টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তার পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এ সময় তার সঙ্গে থাকবেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান।

এক-এগারোর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ২০০৮ সালে কারামুক্ত হয়ে তারেক রহমান সপরিবারে যুক্তরাজ্যে যান। এরপর থেকে তিনি লন্ডনেই অবস্থান করছিলেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় বিএনপির বগুড়া জেলা কমিটির সদস্য হিসেবে।

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বিএনপি ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাকে বরণ করে নিতে ঢাকায় স্মরণকালের অন্যতম বড় গণসংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে।

গত ১৬ ডিসেম্বর লন্ডনে বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় তারেক রহমান বলেন, “আপনাদের দোয়ায় ২৫ তারিখ আমি দেশে ফিরে যাব। অনুরোধ করছি, সেদিন কেউ বিমানবন্দরে যাবেন না।” তিনি আরও বলেন, এই অনুরোধ অমান্যকারীদের ব্যক্তিগত স্বার্থান্বেষী হিসেবে গণ্য করা হবে।

দলীয় সূত্র জানায়, বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তিনি সরাসরি রাজধানীর কুড়িল সংলগ্ন পূর্বাচল হাইওয়ে এক্সপ্রেস এলাকায় যাবেন। সেখানে তার সম্মানে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে। এ আয়োজনের জন্য ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমতিও পেয়েছে বিএনপি। মঞ্চ নির্মাণসহ সার্বিক প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

বিএনপি নেতাদের প্রত্যাশা, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক এই সংবর্ধনায় অংশ নেবেন। তাদের মতে, উপস্থিতির দিক থেকে এটি অতীতের সব রাজনৈতিক সমাবেশকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।

তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পাশাপাশি দলীয় স্বেচ্ছাসেবকরাও সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে কাজ করছেন।

তারেক রহমান ১৯৮৮ সালে বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের পক্ষে জনমত গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি মায়ের পাশাপাশি দেশব্যাপী নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেন। ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ কাউন্সিলে তিনি দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

শিক্ষাজীবনে তারেক রহমান ঢাকা সেনানিবাসের শাহীন হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে পড়াশোনা করেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শেষে তিনি অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। স্নাতকোত্তর পর্যায়ে তিনি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে অধ্যয়ন করেন।