০৮:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে খাগড়াছড়িতে মহান বিজয় দিবস উদযাপন

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৭:৩৭:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ৭৯

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি।।
১৬ ডিসেম্বর—মহান বিজয় দিবস। বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়।

দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ, অগণিত শহীদের আত্মত্যাগ ও মা-বোনের অসীম ত্যাগের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের এই দিনে অর্জিত হয় আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা।

বিজয়ের এই মাহেন্দ্রক্ষণে গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতায় জাতি স্মরণ করে সেই অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, যাঁদের ত্যাগের বিনিময়েই বিশ্বমানচিত্রে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

সারাদেশের ন্যায় পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতেও মহান বিজয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জেলা সদরের চেঙ্গী স্কয়ার সংলগ্ন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ক্যাপ্টেন আফতাবুল কাদের স্মৃতিসৌধে একত্রিশবার তোপধ্বনির মাধ্যমে বিজয় দিবসের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হেমদা রঞ্জন ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা, জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত, পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সর্বস্তরের মানুষ শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ঐতিহাসিক খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সমাবেশ, মনোমুগ্ধকর কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে প্রদর্শন অনুষ্ঠিত হয়। এসব আয়োজনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল বিশেষভাবে নজরকাড়া।

দুপুরে জেলা শহরের টাউন হল প্রাঙ্গণে তিন দিনব্যাপী আড়ম্বরপূর্ণ বিজয়মেলার উদ্বোধন করা হয়। মেলায় চারু ও কারুশিল্পসহ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত নানা শিল্পপণ্যের পসরা সাজানো হয়, যা দর্শনার্থীদের ব্যাপক আগ্রহ আকর্ষণ করে। মেলার শুভ উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা। এ সময় জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত, পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মেলা উদ্বোধন শেষে অফিসার্স ক্লাবে জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। একই সঙ্গে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা, জীবিত মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য এবং দেশ ও জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।

বিকেলে জেলা স্টেডিয়ামে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ একাদশ ও জেলা প্রশাসন একাদশের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। উত্তেজনাপূর্ণ এ ম্যাচে উভয় দলের মোট ৮০ জন খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করেন। খেলায় জেলা প্রশাসন একাদশ ১-০ গোলে জেলা পরিষদ একাদশকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জেলার আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র, তেরাং তৈকালাইসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটে সর্বসাধারণের জন্য বিনা টিকিটে প্রবেশের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়তি আনন্দের সৃষ্টি করে।

দিনব্যাপী এসব কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও বিজয়ের চেতনা পৌঁছে দেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।

Please Share This Post in Your Social Media

যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে খাগড়াছড়িতে মহান বিজয় দিবস উদযাপন

আপডেট: ০৭:৩৭:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি।।
১৬ ডিসেম্বর—মহান বিজয় দিবস। বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়।

দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ, অগণিত শহীদের আত্মত্যাগ ও মা-বোনের অসীম ত্যাগের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের এই দিনে অর্জিত হয় আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা।

বিজয়ের এই মাহেন্দ্রক্ষণে গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতায় জাতি স্মরণ করে সেই অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, যাঁদের ত্যাগের বিনিময়েই বিশ্বমানচিত্রে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

সারাদেশের ন্যায় পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতেও মহান বিজয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জেলা সদরের চেঙ্গী স্কয়ার সংলগ্ন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ক্যাপ্টেন আফতাবুল কাদের স্মৃতিসৌধে একত্রিশবার তোপধ্বনির মাধ্যমে বিজয় দিবসের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হেমদা রঞ্জন ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা, জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত, পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সর্বস্তরের মানুষ শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ঐতিহাসিক খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সমাবেশ, মনোমুগ্ধকর কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে প্রদর্শন অনুষ্ঠিত হয়। এসব আয়োজনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল বিশেষভাবে নজরকাড়া।

দুপুরে জেলা শহরের টাউন হল প্রাঙ্গণে তিন দিনব্যাপী আড়ম্বরপূর্ণ বিজয়মেলার উদ্বোধন করা হয়। মেলায় চারু ও কারুশিল্পসহ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত নানা শিল্পপণ্যের পসরা সাজানো হয়, যা দর্শনার্থীদের ব্যাপক আগ্রহ আকর্ষণ করে। মেলার শুভ উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা। এ সময় জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত, পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মেলা উদ্বোধন শেষে অফিসার্স ক্লাবে জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। একই সঙ্গে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা, জীবিত মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য এবং দেশ ও জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।

বিকেলে জেলা স্টেডিয়ামে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ একাদশ ও জেলা প্রশাসন একাদশের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। উত্তেজনাপূর্ণ এ ম্যাচে উভয় দলের মোট ৮০ জন খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করেন। খেলায় জেলা প্রশাসন একাদশ ১-০ গোলে জেলা পরিষদ একাদশকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জেলার আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র, তেরাং তৈকালাইসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটে সর্বসাধারণের জন্য বিনা টিকিটে প্রবেশের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়তি আনন্দের সৃষ্টি করে।

দিনব্যাপী এসব কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও বিজয়ের চেতনা পৌঁছে দেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।