০৮:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

খাগড়াছড়িতে ঝুঁকিপূর্ণ ৭৫ নারীকে আর্থিক অনুদান প্রদান

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৮:২৬:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ৫৮

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি।।
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে পাহাড়ি অঞ্চলের নারী, শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী।

সেই বাস্তবতায় ইকোসিস্টেম পুনরুদ্ধার ও সহনশীল উন্নয়ন (ইআরআরডি)–সিএইচটি প্রকল্প এবং ইউএনডিপি’র সহযোগিতায় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের বাস্তবায়নে কমিউনিটি সহনশীলতা (CoRLIA) প্রকল্পের আওতায় জেলা সদরের তিনটি এলাকার বিপদাপন্ন নারী দলের ৭৫ জনের মাঝে আর্থিক অনুদান বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে জেলা সদরের মেহেদীবাগ এলাকায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা।

শেফালিকা ত্রিপুরা বলেন, পাহাড়ি এলাকার দরিদ্র নারী ও কন্যাশিশুরা আজও নানা ধরনের ঝুঁকি, বৈষম্য ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতার মধ্যে বাস করছে। বিশেষ করে বাল্যবিয়ে একটি ভয়াবহ সংকট। বাল্যবিয়ে একটি শিশুর স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তাকে ধ্বংস করে দেয়। তাই পরিবার, সমাজ ও কমিউনিটিকে একসঙ্গে এগিয়ে এসে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে হবে।”

তিনি আরও বলেন,“নারীর অধিকার নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। নারীরা শিক্ষিত ও সক্ষম হলে পরিবার ও সমাজে স্থায়ী উন্নয়ন নিশ্চিত হয়। জীবিকামুখী কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা নারীদের আর্থিকভাবে শক্তিশালী করতে চাই, যাতে তারা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে এবং যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম হয়ে ওঠে।”

আলোচনা সভা শেষে উত্তর মেহেদীবাগ, দক্ষিণ মেহেদীবাগ ও রুখুই চৌধুরী পাড়ার প্রতিটি পাড়া থেকে ২৫ জন করে মোট ৭৫ জন নারীকে ৪,৫০০ টাকা করে মোট ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা অনুদান দেওয়া হয়।

এই আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে তারা করাতকল, মুরগির খামার, আইডল ও নৌকা নির্মাণসহ বিভিন্ন জীবিকামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারবেন।

অধিকার ও সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতা:
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ পক্ষ উপলক্ষে ১৬ দিনের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা বলেন-নারীর প্রতি সহিংসতা, বৈষম্য ও বাল্যবিয়ে বন্ধে পরিবার-সমাজ-প্রশাসনকে একযোগে কাজ করতে হবে। নারীকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ক্ষমতায়ন ও নেতৃত্বে এগিয়ে আনা ছাড়া সহনশীল সমাজ গড়া সম্ভব নয়।

জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নোমান হোসেন, নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ, করলিয়া প্রকল্পের জেলা কর্মকর্তা নবলেশ্বর দেওয়ান (ত্রিপুরা), টেকনিক্যাল অফিসার পরিচিতা খীসা, ইউসিআরএফ প্রতিনিধি রাসেল ত্রিপুরা ও তনয়া চাকমাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

Please Share This Post in Your Social Media

খাগড়াছড়িতে ঝুঁকিপূর্ণ ৭৫ নারীকে আর্থিক অনুদান প্রদান

আপডেট: ০৮:২৬:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি।।
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে পাহাড়ি অঞ্চলের নারী, শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী।

সেই বাস্তবতায় ইকোসিস্টেম পুনরুদ্ধার ও সহনশীল উন্নয়ন (ইআরআরডি)–সিএইচটি প্রকল্প এবং ইউএনডিপি’র সহযোগিতায় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের বাস্তবায়নে কমিউনিটি সহনশীলতা (CoRLIA) প্রকল্পের আওতায় জেলা সদরের তিনটি এলাকার বিপদাপন্ন নারী দলের ৭৫ জনের মাঝে আর্থিক অনুদান বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে জেলা সদরের মেহেদীবাগ এলাকায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা।

শেফালিকা ত্রিপুরা বলেন, পাহাড়ি এলাকার দরিদ্র নারী ও কন্যাশিশুরা আজও নানা ধরনের ঝুঁকি, বৈষম্য ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতার মধ্যে বাস করছে। বিশেষ করে বাল্যবিয়ে একটি ভয়াবহ সংকট। বাল্যবিয়ে একটি শিশুর স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তাকে ধ্বংস করে দেয়। তাই পরিবার, সমাজ ও কমিউনিটিকে একসঙ্গে এগিয়ে এসে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে হবে।”

তিনি আরও বলেন,“নারীর অধিকার নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। নারীরা শিক্ষিত ও সক্ষম হলে পরিবার ও সমাজে স্থায়ী উন্নয়ন নিশ্চিত হয়। জীবিকামুখী কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা নারীদের আর্থিকভাবে শক্তিশালী করতে চাই, যাতে তারা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে এবং যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম হয়ে ওঠে।”

আলোচনা সভা শেষে উত্তর মেহেদীবাগ, দক্ষিণ মেহেদীবাগ ও রুখুই চৌধুরী পাড়ার প্রতিটি পাড়া থেকে ২৫ জন করে মোট ৭৫ জন নারীকে ৪,৫০০ টাকা করে মোট ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা অনুদান দেওয়া হয়।

এই আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে তারা করাতকল, মুরগির খামার, আইডল ও নৌকা নির্মাণসহ বিভিন্ন জীবিকামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারবেন।

অধিকার ও সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতা:
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ পক্ষ উপলক্ষে ১৬ দিনের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা বলেন-নারীর প্রতি সহিংসতা, বৈষম্য ও বাল্যবিয়ে বন্ধে পরিবার-সমাজ-প্রশাসনকে একযোগে কাজ করতে হবে। নারীকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ক্ষমতায়ন ও নেতৃত্বে এগিয়ে আনা ছাড়া সহনশীল সমাজ গড়া সম্ভব নয়।

জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নোমান হোসেন, নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ, করলিয়া প্রকল্পের জেলা কর্মকর্তা নবলেশ্বর দেওয়ান (ত্রিপুরা), টেকনিক্যাল অফিসার পরিচিতা খীসা, ইউসিআরএফ প্রতিনিধি রাসেল ত্রিপুরা ও তনয়া চাকমাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।