০১:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

খাগড়াছড়িতে খুচরা সার বিক্রেতাদের মানববন্ধন; আইডি কার্ডধারীদের টি.ও লাইসেন্স বহালের দাবি

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৫:৫৮:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫
  • / ১৭৩

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি।।
খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় “খুচরা সার বিক্রেতাদের আইডি কার্ডধারীদের বহাল রাখুন, টি.ও (ট্রেড অর্গানাইজেশন) লাইসেন্স দিন”— এই দাবিতে মানববন্ধন করেছে খুচরা সার বিক্রেতা এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, দীঘিনালা উপজেলা শাখা।

সোমবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে দীঘিনালা উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন কৃষি অফিসের সামনে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে শতাধিক খুচরা সার বিক্রেতা অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ খোকন চাকমা। তিনি বলেন, “আমরা কৃষকের সেবা করতে চাই, কিন্তু নিয়মের বারবার পরিবর্তনে আমাদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়ছে। মাঠ পর্যায়ে যারা কাজ করেন, তাদের মতামত না নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে ক্ষুদ্র সার বিক্রেতারা টিকে থাকতে পারবে না।”

এ সময় সংগঠনের সভাপতি সুসময় চাকমা বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারের অনুমোদিত আইডি কার্ড নিয়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে সার বিক্রি করে আসছি। কৃষক যেন নির্ধারিত মূল্যে সার পায়, তা নিশ্চিত করতে আমরা সবসময় সচেষ্ট ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ প্রণীত নতুন নীতিমালার কারণে আমরা অনিশ্চয়তায় পড়েছি। তাই পুরাতন আইডি কার্ডধারীদের বহাল রেখে আমাদের সবাইকে টি.ও লাইসেন্স প্রদান করার আহ্বান জানাচ্ছি।”

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, নতুন নীতিমালায় অনেক অভিজ্ঞ ও সৎ খুচরা বিক্রেতাকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে, যা কৃষকদের সার প্রাপ্তিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাদের মতে, যারা বছরের পর বছর মাঠে কাজ করে কৃষকের পাশে ছিলেন, তাদের বাদ না দিয়ে বরং স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।

এ সময় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. আক্তার হোসেন, কার্যকরী কমিটির সদস্য মো. নাঈম ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বক্তারা সতর্ক করে বলেন,“দাবি পূরণ না হলে আমরা জেলা প্রশাসক ও কৃষি কর্মকর্তার দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদানসহ বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করব।”

শেষে সভাপতি সুসময় চাকমা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা কৃষকের বন্ধু—আমাদের বাদ দিয়ে কৃষি খাত এগোবে না। তাই দ্রুত আমাদের দাবি বাস্তবায়ন করা হোক।”

মানববন্ধন শেষে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে কৃষি সচিব বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

খাগড়াছড়িতে খুচরা সার বিক্রেতাদের মানববন্ধন; আইডি কার্ডধারীদের টি.ও লাইসেন্স বহালের দাবি

আপডেট: ০৫:৫৮:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি।।
খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় “খুচরা সার বিক্রেতাদের আইডি কার্ডধারীদের বহাল রাখুন, টি.ও (ট্রেড অর্গানাইজেশন) লাইসেন্স দিন”— এই দাবিতে মানববন্ধন করেছে খুচরা সার বিক্রেতা এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, দীঘিনালা উপজেলা শাখা।

সোমবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে দীঘিনালা উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন কৃষি অফিসের সামনে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে শতাধিক খুচরা সার বিক্রেতা অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ খোকন চাকমা। তিনি বলেন, “আমরা কৃষকের সেবা করতে চাই, কিন্তু নিয়মের বারবার পরিবর্তনে আমাদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়ছে। মাঠ পর্যায়ে যারা কাজ করেন, তাদের মতামত না নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে ক্ষুদ্র সার বিক্রেতারা টিকে থাকতে পারবে না।”

এ সময় সংগঠনের সভাপতি সুসময় চাকমা বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারের অনুমোদিত আইডি কার্ড নিয়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে সার বিক্রি করে আসছি। কৃষক যেন নির্ধারিত মূল্যে সার পায়, তা নিশ্চিত করতে আমরা সবসময় সচেষ্ট ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ প্রণীত নতুন নীতিমালার কারণে আমরা অনিশ্চয়তায় পড়েছি। তাই পুরাতন আইডি কার্ডধারীদের বহাল রেখে আমাদের সবাইকে টি.ও লাইসেন্স প্রদান করার আহ্বান জানাচ্ছি।”

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, নতুন নীতিমালায় অনেক অভিজ্ঞ ও সৎ খুচরা বিক্রেতাকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে, যা কৃষকদের সার প্রাপ্তিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাদের মতে, যারা বছরের পর বছর মাঠে কাজ করে কৃষকের পাশে ছিলেন, তাদের বাদ না দিয়ে বরং স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।

এ সময় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. আক্তার হোসেন, কার্যকরী কমিটির সদস্য মো. নাঈম ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বক্তারা সতর্ক করে বলেন,“দাবি পূরণ না হলে আমরা জেলা প্রশাসক ও কৃষি কর্মকর্তার দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদানসহ বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করব।”

শেষে সভাপতি সুসময় চাকমা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা কৃষকের বন্ধু—আমাদের বাদ দিয়ে কৃষি খাত এগোবে না। তাই দ্রুত আমাদের দাবি বাস্তবায়ন করা হোক।”

মানববন্ধন শেষে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে কৃষি সচিব বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।