০৩:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

বকেয়া ৪৭৮ কোটি টাকা, ইউনাইটেড গ্রুপের বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০১:৫০:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৫
  • / ২৬০

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ৪৭৮ কোটি টাকা বিল বকেয়ার কারণে ইউনাইটেড গ্রুপের বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। ২০১৮ সাল থেকে এই বকেয়া আদায়ে বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও বিল না দেওয়ায় সোমবার দুপুরে ঢাকা ইপিজেডে অবস্থিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিতাস গ্যাস সূত্র জানিয়েছে, ইউনাইটেড গ্রুপ ২০২২ সালের দিকে বকেয়া কিস্তিতে পরিশোধ করার জন্য উচ্চ আদালতে আবেদন করেছিল। কোর্ট বকেয়া টাকা কিস্তিতে পরিশোধ করার জন্য আদেশও দিয়েছিল। কিন্তু তারপরও তারা কোনো টাকা পরিশোধ করেনি।

অভিযোগ আছে, ইউনাইটেড গ্রুপের দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের গ্যাসের দাম নিয়ে নজিরবিহীন পক্ষপাত দেখিয়েছিল বিগত আওয়ামী লীগ সরকার। বিদ্যুৎকেন্দ্র দুটির বিষয়ে সরকারের নগ্ন হস্তক্ষেপের কারণে দিনে দিনে বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল ইউনাইটেড।

জানা গেছে, ঢাকা ইপিজেড এলাকায় ৮৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রটি যেহেতু সরকারের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করে না, তাই ক্যাপটিভ বিবেচনায় গ্যাসের দাম ঘনমিটারপ্রতি ৩১.৫০ টাকা নির্ধারণ করে বিইআরসি। এ সময়ে আইপিপির (ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার) জন্য গ্যাসের দর ছিল ১৬ টাকা। ইউনাইটেড গ্রুপ কেন্দ্রের জন্য আইপিপি রেটে গ্যাস পেতে সরকারের কাছে আবেদন করে। কিন্তু রেগুলেটরি কমিশন সেই দাবি নাকচ করে দেয়। এর বিরুদ্ধে তারা হাইকোর্টে গেলেও আদালত তাদের আবেদন নাকচ করে দেন। এরপর সুপ্রিমকোর্টে গিয়েও হেরেছে ইউনাইটেড। একপর্যায়ে সব আইনকানুন উপেক্ষা করে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী আদেশে তাদের সেই চাওয়া পূরণ হয়।

যদিও তাদের শেষ রক্ষা হয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাহী আদেশে ওই পদ্ধতি বাতিল করে দিয়েছে। গত ৭ মার্চ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের চিঠিতে বলা হয়েছে, ইউনাইটেড গ্রুপকে ক্যাপটিভ রেটেই গ্যাসের দাম দিতে হবে। এরপরই বকেয়া আদায়ে তৎপর হয়ে ওঠে তিতাস গ্যাস। দফায় দফায় যোগাযোগ করলেও ইউনাইটেড গ্রুপ সাড়া না দেওয়ায় অবশেষে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।

তবে ইউনাইটেড গ্রুপের হেড অব রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স ও প্রাইভেট সেক্রেটারি শামীম মিয়া গণমাধ্যমকে বলেছেন, তাদের কোনো বিল বকেয়া নেই। তিতাস যে রেটে বিল দাবি করেছে সেটা অযৌক্তিক। তাদের গ্যাস বিল আইপিপি দরেই হওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, ইপিজেডে অবস্থিত কারখানায় ইউনাইটেড বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে।

Please Share This Post in Your Social Media

বকেয়া ৪৭৮ কোটি টাকা, ইউনাইটেড গ্রুপের বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন

আপডেট: ০১:৫০:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ৪৭৮ কোটি টাকা বিল বকেয়ার কারণে ইউনাইটেড গ্রুপের বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। ২০১৮ সাল থেকে এই বকেয়া আদায়ে বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও বিল না দেওয়ায় সোমবার দুপুরে ঢাকা ইপিজেডে অবস্থিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিতাস গ্যাস সূত্র জানিয়েছে, ইউনাইটেড গ্রুপ ২০২২ সালের দিকে বকেয়া কিস্তিতে পরিশোধ করার জন্য উচ্চ আদালতে আবেদন করেছিল। কোর্ট বকেয়া টাকা কিস্তিতে পরিশোধ করার জন্য আদেশও দিয়েছিল। কিন্তু তারপরও তারা কোনো টাকা পরিশোধ করেনি।

অভিযোগ আছে, ইউনাইটেড গ্রুপের দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের গ্যাসের দাম নিয়ে নজিরবিহীন পক্ষপাত দেখিয়েছিল বিগত আওয়ামী লীগ সরকার। বিদ্যুৎকেন্দ্র দুটির বিষয়ে সরকারের নগ্ন হস্তক্ষেপের কারণে দিনে দিনে বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল ইউনাইটেড।

জানা গেছে, ঢাকা ইপিজেড এলাকায় ৮৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রটি যেহেতু সরকারের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করে না, তাই ক্যাপটিভ বিবেচনায় গ্যাসের দাম ঘনমিটারপ্রতি ৩১.৫০ টাকা নির্ধারণ করে বিইআরসি। এ সময়ে আইপিপির (ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার) জন্য গ্যাসের দর ছিল ১৬ টাকা। ইউনাইটেড গ্রুপ কেন্দ্রের জন্য আইপিপি রেটে গ্যাস পেতে সরকারের কাছে আবেদন করে। কিন্তু রেগুলেটরি কমিশন সেই দাবি নাকচ করে দেয়। এর বিরুদ্ধে তারা হাইকোর্টে গেলেও আদালত তাদের আবেদন নাকচ করে দেন। এরপর সুপ্রিমকোর্টে গিয়েও হেরেছে ইউনাইটেড। একপর্যায়ে সব আইনকানুন উপেক্ষা করে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী আদেশে তাদের সেই চাওয়া পূরণ হয়।

যদিও তাদের শেষ রক্ষা হয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাহী আদেশে ওই পদ্ধতি বাতিল করে দিয়েছে। গত ৭ মার্চ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের চিঠিতে বলা হয়েছে, ইউনাইটেড গ্রুপকে ক্যাপটিভ রেটেই গ্যাসের দাম দিতে হবে। এরপরই বকেয়া আদায়ে তৎপর হয়ে ওঠে তিতাস গ্যাস। দফায় দফায় যোগাযোগ করলেও ইউনাইটেড গ্রুপ সাড়া না দেওয়ায় অবশেষে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।

তবে ইউনাইটেড গ্রুপের হেড অব রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স ও প্রাইভেট সেক্রেটারি শামীম মিয়া গণমাধ্যমকে বলেছেন, তাদের কোনো বিল বকেয়া নেই। তিতাস যে রেটে বিল দাবি করেছে সেটা অযৌক্তিক। তাদের গ্যাস বিল আইপিপি দরেই হওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, ইপিজেডে অবস্থিত কারখানায় ইউনাইটেড বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে।