কম্বোডিয়ায় চাকরির প্রলোভনে মানব পাচার, পিবিআইয়ের অভিযানে দম্পতি গ্রেফতার
- আপডেট: ০৬:০২:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
- / ১২

নিজস্ব প্রতিবেদক: উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কম্বোডিয়ায় নিয়ে মানব পাচারের অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), খুলনা।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন খুলনার দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা মধ্যপাড়া এলাকার মো. জিহাদ আলী লস্কর ও তার স্ত্রী সুমাইয়া সুমি ওরফে সুমি আক্তার। গ্রেফতারের পর তারা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিবিআই সূত্র জানায়, দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা মধ্যপাড়ার বাসিন্দা মো. মোস্তাকীম হাসান কাজী ও শেখ মনিরুল ইসলাম মুকুলের প্রতিবেশী ছিলেন জিহাদ আলী লস্কর। তিনি দীর্ঘদিন কম্বোডিয়ায় অবস্থান করতেন। সেখানে থাকাকালে তিনি মোস্তাকীম, মুকুলসহ এলাকার অনেককে উচ্চ বেতনের চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখান।
জিহাদের কথায় বিশ্বাস করে কম্বোডিয়ায় যাওয়ার জন্য মোস্তাকীম ও মুকুল প্রত্যেকে ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা করে জিহাদ ও তার স্ত্রী সুমাইয়া সুমিকে দেন। টাকা নেওয়ার পর তাদের পাসপোর্ট ও ই-ভিসার ব্যবস্থা করে কম্বোডিয়ায় নিয়ে যান জিহাদ।
তবে সেখানে নেওয়ার পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো চাকরি বা কাজ দেননি তিনি। বরং ভুক্তভোগীদের বিভিন্ন ধরনের অবৈধ কাজে বাধ্য করা হয়। তদন্তে জানা গেছে, তাদের মেয়ে সাজিয়ে কণ্ঠস্বর পরিবর্তন করে ইউরোপ ও আমেরিকার মধ্যবয়সী পুরুষদের সঙ্গে অনলাইনে যৌন কথোপকথনের মাধ্যমে প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হতো।
পিবিআই জানায়, ওই কাজে ভুক্তভোগীদের কোনো বেতন দেওয়া হতো না। এমনকি তাদের ঠিকমতো খাবারও দেওয়া হতো না। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী দুজন কৌশলে জিহাদের কাছ থেকে পালিয়ে পরিবারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন। পরে পরিবারের সহায়তায় তারা বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
দেশে ফিরে মো. মোস্তাকীম হাসান কাজী গত ২৩ জুলাই দৌলতপুর থানায় জিহাদ আলী লস্কর ও সুমাইয়া সুমি ওরফে সুমি আক্তারের বিরুদ্ধে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করেন। একই দিনে শেখ মনিরুল ইসলাম মুকুলও একই আসামিদের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করেন।
পরবর্তীতে পিবিআই খুলনা স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা দুটির তদন্তভার গ্রহণ করে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রেজোয়ান ও এসআই মো. সোহানুর রহমান তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করেন। পরে (৩ আগস্ট ২০২৬) রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকার সাভার থানার হেমায়েতপুর এলাকার আলমনগর হাউজিংয়ের রোড নম্বর-৫-এর গাউছিয়া মঞ্জিল-২-এর চতুর্থ তলার সি-৩ ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে জিহাদ আলী লস্কর ও তার স্ত্রী সুমাইয়া সুমিকে গ্রেফতার করা হয়।
পিবিআই জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে তারা আদালতে হাজির হয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।





















