১২:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ, নিহত প্রায় ১ লাখ

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:৪৮:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
  • / ১৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে পর পর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভয়াবহ এই দুর্যোগে বহু ভবন ধসে পড়েছে এবং ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা এক লাখেরও বেশি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর কারাকাস থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার পশ্চিমে ইউমারের কাছে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরও একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল ইউমারে থেকে ২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এবং এর গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার নিচে। সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, এই ধরনের অগভীর ও উচ্চমাত্রার ভূমিকম্প ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ডেকে আনতে পারে।

প্রাথমিক মূল্যায়নে ইউএসজিএস জানিয়েছে, দুর্যোগটিতে মৃতের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা। এছাড়া পার্বত্য অঞ্চলে বড় ধরনের ভূমিধস এবং সমতল এলাকায় মাটির তারল্য বা লিকুইফেকশনের ঝুঁকিও রয়েছে।

শক্তিশালী কম্পনের পর ভেনেজুয়েলা উপকূল এবং নিকটবর্তী আরুবা ও বোনাইর দ্বীপপুঞ্জের জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়।

ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেয়ো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, রাজধানী কারাকাসের বেশ কয়েকটি বহুতল ভবন ধসে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতেও বিভিন্ন ভবনের ধস এবং বড় ধরনের ফাটলের চিত্র দেখা গেছে।

তিনি জানান, রাজধানীর পাশাপাশি ত্রুহিলিও, ইয়ারাকুই, কারাবোবো, আরাগুয়া, মিরান্দা এবং লা গুয়াইরা রাজ্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কারাকাসের লস পালোস গ্রান্দেস ও আলতামিরা এলাকাকে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপির প্রকাশিত ছবিতে রাজধানীর একটি ঐতিহ্যবাহী ব্যাংক ভবনকে সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে দেখা গেছে। ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে প্রতিবেশী কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতাতেও শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয় এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে অনেক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও বিবিসির সাংবাদিক নিকোল কোলস্টার বলেন, “এটি আমার জীবনের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। সাততলার ফ্ল্যাটে থাকার সময় মনে হচ্ছিল পুরো ভবনটি আমার ওপর ভেঙে পড়বে।”

উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম ঐতিহাসিক দিন উপলক্ষে দেশটিতে ওইদিন সরকারি ছুটি ছিল। ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন, যা হতাহতের সংখ্যা বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে দুর্যোগের পর দেশবাসীর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, “এই কঠিন সময়ে আমার হৃদয় ও প্রার্থনা ভেনেজুয়েলার প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে রয়েছে।”

উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের প্রকৃত চিত্র জানতে আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

Please Share This Post in Your Social Media

ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ, নিহত প্রায় ১ লাখ

আপডেট: ১১:৪৮:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে পর পর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভয়াবহ এই দুর্যোগে বহু ভবন ধসে পড়েছে এবং ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা এক লাখেরও বেশি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর কারাকাস থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার পশ্চিমে ইউমারের কাছে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরও একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল ইউমারে থেকে ২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এবং এর গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার নিচে। সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, এই ধরনের অগভীর ও উচ্চমাত্রার ভূমিকম্প ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ডেকে আনতে পারে।

প্রাথমিক মূল্যায়নে ইউএসজিএস জানিয়েছে, দুর্যোগটিতে মৃতের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা। এছাড়া পার্বত্য অঞ্চলে বড় ধরনের ভূমিধস এবং সমতল এলাকায় মাটির তারল্য বা লিকুইফেকশনের ঝুঁকিও রয়েছে।

শক্তিশালী কম্পনের পর ভেনেজুয়েলা উপকূল এবং নিকটবর্তী আরুবা ও বোনাইর দ্বীপপুঞ্জের জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়।

ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেয়ো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, রাজধানী কারাকাসের বেশ কয়েকটি বহুতল ভবন ধসে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতেও বিভিন্ন ভবনের ধস এবং বড় ধরনের ফাটলের চিত্র দেখা গেছে।

তিনি জানান, রাজধানীর পাশাপাশি ত্রুহিলিও, ইয়ারাকুই, কারাবোবো, আরাগুয়া, মিরান্দা এবং লা গুয়াইরা রাজ্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কারাকাসের লস পালোস গ্রান্দেস ও আলতামিরা এলাকাকে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপির প্রকাশিত ছবিতে রাজধানীর একটি ঐতিহ্যবাহী ব্যাংক ভবনকে সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে দেখা গেছে। ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে প্রতিবেশী কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতাতেও শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয় এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে অনেক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও বিবিসির সাংবাদিক নিকোল কোলস্টার বলেন, “এটি আমার জীবনের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। সাততলার ফ্ল্যাটে থাকার সময় মনে হচ্ছিল পুরো ভবনটি আমার ওপর ভেঙে পড়বে।”

উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম ঐতিহাসিক দিন উপলক্ষে দেশটিতে ওইদিন সরকারি ছুটি ছিল। ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন, যা হতাহতের সংখ্যা বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে দুর্যোগের পর দেশবাসীর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, “এই কঠিন সময়ে আমার হৃদয় ও প্রার্থনা ভেনেজুয়েলার প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে রয়েছে।”

উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের প্রকৃত চিত্র জানতে আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।