০৩:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

এপ্রিলে সড়ক-নৌ-রেল দুর্ঘটনায় নিহত ৫৬৩ জন

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৩:১৬:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
  • /

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ এপ্রিল মাসে সারাদেশে ৫২৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫১০ জন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ১ হাজার ২৬৮ জন। একই সময়ে রেলপথে ৫৪টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪৯ জন এবং নৌপথে পাঁচটি দুর্ঘটনায় মারা গেছেন চারজন। সব মিলিয়ে সড়ক, রেল ও নৌপথে ৫৮৬টি দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৬৩ জনে, আহত হয়েছেন ১ হাজার ২৭৯ জন।

বুধবার (১৩ মে) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী গণমাধ্যমে প্রতিবেদনটি পাঠান।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকে প্রকাশিত দুর্ঘটনার সংবাদ বিশ্লেষণ করে তথ্য সংগ্রহ করেছে সংগঠনটির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল। তবে অনেক দুর্ঘটনার খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ না পাওয়ায় প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে।

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম বিভাগে। সেখানে ১৩৫টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৩৭ জন ও আহত হয়েছেন ২৬৩ জন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে। বিভাগটিতে ১৭টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৮ জন ও আহত হয়েছেন ৬৪ জন।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৯৯ জন চালক, ৮২ জন পথচারী, ৫৬ জন শিক্ষার্থী, ৫২ জন নারী, ৪৭ জন শিশু ও ২৫ জন পরিবহন শ্রমিক। এছাড়া তিনজন চিকিৎসক, দুজন বিজিবি সদস্য, একজন পুলিশ সদস্য, একজন বিমানবাহিনীর সদস্য ও একজন সাংবাদিকও দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আট নেতাকর্মীর মৃত্যুর তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, জাতীয় মহাসড়কেই সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে। মোট দুর্ঘটনার ৩৮ দশমিক ৫১ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৩১ দশমিক ৪৯ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং ২২ দশমিক ৯৬ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে। এছাড়া ঢাকা মহানগরীতে ৫ দশমিক ৬৯ শতাংশ, চট্টগ্রাম মহানগরীতে শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং রেলক্রসিংয়ে শূন্য দশমিক ৫৬ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মহাসড়কে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশার অবাধ চলাচল, রোড সাইন ও সড়কবাতির অভাব, নির্মাণ ত্রুটি, উল্টোপথে যান চলাচল, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত গতি, অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং চালকদের দীর্ঘসময় বিরতিহীন গাড়ি চালানো।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিবেদনে একাধিক সুপারিশও করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সড়কে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, স্মার্ট ভাড়া ব্যবস্থা চালু, দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ, বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ ছাড়া লাইসেন্স না দেওয়া, মহাসড়কে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, রোড সাইন ও মার্কিং স্থাপন, সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ, চালকদের কর্মঘণ্টা ও বেতন নিশ্চিত করা এবং পরিবহন খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা।

এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে সার্ভিস লেন নির্মাণ, মানসম্মত সড়ক নির্মাণ ও নিয়মিত রোড সেফটি অডিট পরিচালনার পাশাপাশি সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে পৃথক দুর্ঘটনা গবেষণা ইউনিট গঠনেরও সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

Please Share This Post in Your Social Media

এপ্রিলে সড়ক-নৌ-রেল দুর্ঘটনায় নিহত ৫৬৩ জন

আপডেট: ০৩:১৬:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ এপ্রিল মাসে সারাদেশে ৫২৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫১০ জন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ১ হাজার ২৬৮ জন। একই সময়ে রেলপথে ৫৪টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪৯ জন এবং নৌপথে পাঁচটি দুর্ঘটনায় মারা গেছেন চারজন। সব মিলিয়ে সড়ক, রেল ও নৌপথে ৫৮৬টি দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৬৩ জনে, আহত হয়েছেন ১ হাজার ২৭৯ জন।

বুধবার (১৩ মে) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী গণমাধ্যমে প্রতিবেদনটি পাঠান।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকে প্রকাশিত দুর্ঘটনার সংবাদ বিশ্লেষণ করে তথ্য সংগ্রহ করেছে সংগঠনটির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল। তবে অনেক দুর্ঘটনার খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ না পাওয়ায় প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে।

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম বিভাগে। সেখানে ১৩৫টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৩৭ জন ও আহত হয়েছেন ২৬৩ জন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে। বিভাগটিতে ১৭টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৮ জন ও আহত হয়েছেন ৬৪ জন।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৯৯ জন চালক, ৮২ জন পথচারী, ৫৬ জন শিক্ষার্থী, ৫২ জন নারী, ৪৭ জন শিশু ও ২৫ জন পরিবহন শ্রমিক। এছাড়া তিনজন চিকিৎসক, দুজন বিজিবি সদস্য, একজন পুলিশ সদস্য, একজন বিমানবাহিনীর সদস্য ও একজন সাংবাদিকও দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আট নেতাকর্মীর মৃত্যুর তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, জাতীয় মহাসড়কেই সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে। মোট দুর্ঘটনার ৩৮ দশমিক ৫১ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৩১ দশমিক ৪৯ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং ২২ দশমিক ৯৬ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে। এছাড়া ঢাকা মহানগরীতে ৫ দশমিক ৬৯ শতাংশ, চট্টগ্রাম মহানগরীতে শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং রেলক্রসিংয়ে শূন্য দশমিক ৫৬ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মহাসড়কে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশার অবাধ চলাচল, রোড সাইন ও সড়কবাতির অভাব, নির্মাণ ত্রুটি, উল্টোপথে যান চলাচল, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত গতি, অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং চালকদের দীর্ঘসময় বিরতিহীন গাড়ি চালানো।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিবেদনে একাধিক সুপারিশও করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সড়কে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, স্মার্ট ভাড়া ব্যবস্থা চালু, দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ, বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ ছাড়া লাইসেন্স না দেওয়া, মহাসড়কে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, রোড সাইন ও মার্কিং স্থাপন, সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ, চালকদের কর্মঘণ্টা ও বেতন নিশ্চিত করা এবং পরিবহন খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা।

এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে সার্ভিস লেন নির্মাণ, মানসম্মত সড়ক নির্মাণ ও নিয়মিত রোড সেফটি অডিট পরিচালনার পাশাপাশি সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে পৃথক দুর্ঘটনা গবেষণা ইউনিট গঠনেরও সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।