চূড়ান্ত অনুমোদন পেল পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প, ব্যয় ৩৩৪৭৪ কোটি টাকা
- আপডেট: ০৩:০৬:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
- / ১৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দেশের বহুল আলোচিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।
আজ বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
একনেক সভায় মোট ১৬টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ১১ নম্বর কার্যতালিকায় ছিল পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প। এর আগে কয়েক দফা প্রকল্পটি একনেকে উপস্থাপন করা হলেও অনুমোদন পায়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ও এটি উপস্থাপন করা হয়েছিল, তবে তখন সিদ্ধান্ত হয়নি।
অনুমোদিত প্রকল্পের আওতায় শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীর পানি সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে স্বাদু পানির প্রবাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩৩ পর্যন্ত।
একনেক সভায় উপস্থিত এক কর্মকর্তা জানান, পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং এখন বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। একই সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততা কমবে, মৃতপ্রায় নদীগুলোতে প্রবাহ ফিরবে এবং কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ ও নৌ-চলাচলে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের ফারাক্কা ব্যারেজ নির্মাণের পর থেকেই বাংলাদেশের নদীগুলোতে পানিপ্রবাহ কমতে শুরু করে। ১৯৭৫ সালে ভারত গঙ্গার পানি ভাগীরথী-হুগলি নদীতে প্রবাহিত করা এবং কলকাতা বন্দরের নাব্যতা উন্নয়নের লক্ষ্যে ফারাক্কা ব্যারাজ নির্মাণ করে। এর ফলে পদ্মাসহ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বহু নদীতে শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে যায়।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হতে পারে প্রায় ৫০ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীর পানি সংরক্ষণ করে দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নদী ব্যবস্থায় স্বাদু পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা।
তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ পানি বণ্টন ইস্যুকে। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যৎ ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং পানিবণ্টন সমঝোতা প্রকল্পটির কার্যকারিতায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকদের মতে, ফারাক্কার কারণে দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদী ভরাট, কৃষি উৎপাদন হ্রাস, সুপেয় পানির সংকট এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়িত হলে এসব সমস্যার কিছুটা সমাধান হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, প্রায় ২৫ বছর আগে তৎকালীন বিএনপি সরকার প্রথমবারের মতো পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল।






















