০৮:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

শালিখায় দখলকৃত জমির অর্থ না পেয়ে তিন এতিমের কান্না

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৭:২১:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
  • /

মাগুরা প্রতিনিধিঃ
মাগুরার শালিখা উপজেলার দরিখাটর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার রাস্তা নির্মাণের নামে একটি এতিম পরিবারের জমি জবর দখল ও পাওনা টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগ উঠেছে।

সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বনি আমিন ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী একটি পরিবার। পাওনা টাকার কোনো সুরাহা না করেই সম্প্রতি ইউএনও বদলি হয়ে যাওয়ায় এতিম সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। ​

গত ১০ মাস পূর্বে উপজেলার দরিখাটর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যাতায়াতের সুবিধার্থে গ্রামের বিপ্লব হোসেন ও তার মৃত ভাইয়ের মালিকানাধীন প্রায় ৬ শতক জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন ইউএনও বনি আমিন, সহকারী শিক্ষা অফিসার এবং স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই রাস্তা তৈরি করেন।​

শুরুতে বিপ্লব হোসেন বাধা দিলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জমির দাম দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। জমির দাম হিসেবে প্রতি শতক ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবি করলেও পরবর্তীতে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় প্রতি শতক ৫০ হাজার টাকায় রফা হয়।ক্ষতিগ্রস্ত বিপ্লব হোসেন ও তার বৃদ্ধা মা জানান, জমিতে ইতিপূর্বেই ইট বিছিয়ে রাস্তা পাকা করা হয়েছে, কিন্তু আজ পর্যন্ত তারা একটি টাকাও পাননি।

বিপ্লব বলেন: ​”আমার ছোট ভাই দুইটা এতিম বাচ্চা রেখে মারা গেছে। তারা আজ খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। অথচ আমাদের পাওনা লাখ লাখ টাকার ফয়সালা না করেই ইউএনও বনি আমিন বদলি হয়ে চলে গেলেন। আমরা ন্যায়বিচার চাই, না হলে আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হব।” ​

এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষা অফিসার রুমিন ফারহানা ও শিক্ষক অঞ্জন হোসেন জমি বাবদ টাকা না দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তারা জানান, জমি কেনার উদ্দেশ্যে ৯৫ হাজার টাকা সংগ্রহ করে আড়পাড়া কৃষি ব্যাংকে ইউএনও এবং শিক্ষা অফিসারের (টিও) যৌথ অ্যাকাউন্টে রাখা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে বলেও তারা দাবি করেন।​

তবে সংগৃহীত টাকার পরিমাণ দাবিকৃত মূল্যের চেয়ে অনেক কম হওয়ায় এবং দীর্ঘ ১০ মাসেও তা হস্তান্তর না করায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি তাদের ন্যায্য পাওনা বুঝে পেতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

শালিখায় দখলকৃত জমির অর্থ না পেয়ে তিন এতিমের কান্না

আপডেট: ০৭:২১:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

মাগুরা প্রতিনিধিঃ
মাগুরার শালিখা উপজেলার দরিখাটর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার রাস্তা নির্মাণের নামে একটি এতিম পরিবারের জমি জবর দখল ও পাওনা টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগ উঠেছে।

সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বনি আমিন ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী একটি পরিবার। পাওনা টাকার কোনো সুরাহা না করেই সম্প্রতি ইউএনও বদলি হয়ে যাওয়ায় এতিম সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। ​

গত ১০ মাস পূর্বে উপজেলার দরিখাটর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যাতায়াতের সুবিধার্থে গ্রামের বিপ্লব হোসেন ও তার মৃত ভাইয়ের মালিকানাধীন প্রায় ৬ শতক জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন ইউএনও বনি আমিন, সহকারী শিক্ষা অফিসার এবং স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই রাস্তা তৈরি করেন।​

শুরুতে বিপ্লব হোসেন বাধা দিলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জমির দাম দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। জমির দাম হিসেবে প্রতি শতক ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবি করলেও পরবর্তীতে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় প্রতি শতক ৫০ হাজার টাকায় রফা হয়।ক্ষতিগ্রস্ত বিপ্লব হোসেন ও তার বৃদ্ধা মা জানান, জমিতে ইতিপূর্বেই ইট বিছিয়ে রাস্তা পাকা করা হয়েছে, কিন্তু আজ পর্যন্ত তারা একটি টাকাও পাননি।

বিপ্লব বলেন: ​”আমার ছোট ভাই দুইটা এতিম বাচ্চা রেখে মারা গেছে। তারা আজ খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। অথচ আমাদের পাওনা লাখ লাখ টাকার ফয়সালা না করেই ইউএনও বনি আমিন বদলি হয়ে চলে গেলেন। আমরা ন্যায়বিচার চাই, না হলে আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হব।” ​

এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষা অফিসার রুমিন ফারহানা ও শিক্ষক অঞ্জন হোসেন জমি বাবদ টাকা না দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তারা জানান, জমি কেনার উদ্দেশ্যে ৯৫ হাজার টাকা সংগ্রহ করে আড়পাড়া কৃষি ব্যাংকে ইউএনও এবং শিক্ষা অফিসারের (টিও) যৌথ অ্যাকাউন্টে রাখা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে বলেও তারা দাবি করেন।​

তবে সংগৃহীত টাকার পরিমাণ দাবিকৃত মূল্যের চেয়ে অনেক কম হওয়ায় এবং দীর্ঘ ১০ মাসেও তা হস্তান্তর না করায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি তাদের ন্যায্য পাওনা বুঝে পেতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।