০৯:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

যশোরে বিজিবির অভিযানে প্রায় ১ কেজি স্বর্ণ ও বৈদেশিক মুদ্রাসহ ভারতীয় নাগরিক আটক

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৬:৩৫:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • /

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি)-এর বিশেষ অভিযানে যশোরের যশোর-নড়াইল মহাসড়কের তারাগঞ্জ এলাকায় প্রায় ৯০০ গ্রাম স্বর্ণজাত দ্রব্য (Gold Paste) এবং বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাসহ এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করা হয়েছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) ভোর ৫টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল যাত্রীবাহী একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে চোরাচালানের এ বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও অর্থ উদ্ধার করে।

বিজিবি সূত্র জানায়, আটক ব্যক্তির কাছ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম, আজারবাইজানের মানাত, ভারতীয় রুপি এবং বাংলাদেশি টাকাসহ বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত Gold Paste বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)-এর পরীক্ষায় খাঁটি স্বর্ণ হিসেবে নিশ্চিত হয়েছে। উদ্ধারকৃত স্বর্ণ ও বৈদেশিক মুদ্রার মোট বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৯৩ লাখ ৪২ হাজার ১১ টাকা।

আটক ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া গেছে—ওয়াজিদ আলী আমিন আহমেদ (৩১)। তিনি ভারতের মুম্বাই সংলগ্ন ভিওয়ান্দি, থানে এলাকার বাসিন্দা। তার পিতা আমিন আহমদ আনসারী এবং মাতা সারওয়ারি বানো আনসারী।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-আফ্রিকা রুটে যাতায়াত করছেন। সর্বশেষ (২০ এপ্রিল ২০২৬) তিনি মুম্বাই থেকে বিমানে দুবাই যান। সেখান থেকে ঢাকায় এসে পরে সড়কপথে সাতক্ষীরা সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন এবং ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে পুনরায় ভারতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে স্বীকার করেন।

উদ্ধারকৃত স্বর্ণ ও বৈদেশিক মুদ্রা যশোর কোতোয়ালী মডেল থানা হয়ে ট্রেজারিতে জমা দেওয়া হয়েছে। আটক ব্যক্তিকেও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য যশোর কোতোয়ালী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক, স্বর্ণসহ সকল ধরনের চোরাচালানের বিরুদ্ধে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। এ ধরনের অপরাধ দমনে যশোর ব্যাটালিয়ন সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে।

উল্লেখ্য, “Gold paste” বা গোল্ড পেস্ট মূলত সোনা চোরাচালানের জন্য ব্যবহৃত মিশ্রণ সোনাকে পাউডার বা অন্য রাসায়নিকের সাথে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করা হয়, যাতে স্ক্যানারে ধরা না পড়ে। এই পেস্ট থেকে পরে কেমিক্যাল ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে খাঁটি সোনা আলাদা করা হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

যশোরে বিজিবির অভিযানে প্রায় ১ কেজি স্বর্ণ ও বৈদেশিক মুদ্রাসহ ভারতীয় নাগরিক আটক

আপডেট: ০৬:৩৫:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি)-এর বিশেষ অভিযানে যশোরের যশোর-নড়াইল মহাসড়কের তারাগঞ্জ এলাকায় প্রায় ৯০০ গ্রাম স্বর্ণজাত দ্রব্য (Gold Paste) এবং বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাসহ এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করা হয়েছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) ভোর ৫টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল যাত্রীবাহী একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে চোরাচালানের এ বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও অর্থ উদ্ধার করে।

বিজিবি সূত্র জানায়, আটক ব্যক্তির কাছ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম, আজারবাইজানের মানাত, ভারতীয় রুপি এবং বাংলাদেশি টাকাসহ বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত Gold Paste বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)-এর পরীক্ষায় খাঁটি স্বর্ণ হিসেবে নিশ্চিত হয়েছে। উদ্ধারকৃত স্বর্ণ ও বৈদেশিক মুদ্রার মোট বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৯৩ লাখ ৪২ হাজার ১১ টাকা।

আটক ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া গেছে—ওয়াজিদ আলী আমিন আহমেদ (৩১)। তিনি ভারতের মুম্বাই সংলগ্ন ভিওয়ান্দি, থানে এলাকার বাসিন্দা। তার পিতা আমিন আহমদ আনসারী এবং মাতা সারওয়ারি বানো আনসারী।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-আফ্রিকা রুটে যাতায়াত করছেন। সর্বশেষ (২০ এপ্রিল ২০২৬) তিনি মুম্বাই থেকে বিমানে দুবাই যান। সেখান থেকে ঢাকায় এসে পরে সড়কপথে সাতক্ষীরা সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন এবং ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে পুনরায় ভারতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে স্বীকার করেন।

উদ্ধারকৃত স্বর্ণ ও বৈদেশিক মুদ্রা যশোর কোতোয়ালী মডেল থানা হয়ে ট্রেজারিতে জমা দেওয়া হয়েছে। আটক ব্যক্তিকেও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য যশোর কোতোয়ালী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক, স্বর্ণসহ সকল ধরনের চোরাচালানের বিরুদ্ধে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। এ ধরনের অপরাধ দমনে যশোর ব্যাটালিয়ন সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে।

উল্লেখ্য, “Gold paste” বা গোল্ড পেস্ট মূলত সোনা চোরাচালানের জন্য ব্যবহৃত মিশ্রণ সোনাকে পাউডার বা অন্য রাসায়নিকের সাথে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করা হয়, যাতে স্ক্যানারে ধরা না পড়ে। এই পেস্ট থেকে পরে কেমিক্যাল ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে খাঁটি সোনা আলাদা করা হয়।