০৭:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

ঈদের টানা ছুটিতে পর্যটনের স্বর্গরাজ্য খাগড়াছড়িতে উপচে পড়া ভিড়

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৭:৫০:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬
  • / ১১

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
ঈদের ছুটি মানেই প্রিয়জনকে নিয়ে কোথাও ঘুরতে যাওয়া, আর সেই তালিকায় এবার শীর্ষে উঠে এসেছে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি। সবুজ পাহাড়, নির্মল বাতাস আর অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে ঈদের টানা ছুটিতে খাগড়াছড়িতে নেমেছে পর্যটকদের ঢল। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার ভ্রমণপিপাসু মানুষ ভিড় জমিয়েছেন এই পাহাড়ি জনপদে।

জেলার অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র, আলুটিলা গুহা, তেরাং তৈকালাই ঝর্ণা, জেলা পরিষদ পার্ক, চেঙ্গী নদীর পাড়সহ বিভিন্ন স্পট এখন মুখরিত পর্যটকদের পদচারণায়। প্রতিটি স্থান যেন নিজস্ব সৌন্দর্যে হাতছানি দিয়ে ডাকছে দর্শনার্থীদের। বিশেষ করে রহস্য আর রোমাঞ্চে ঘেরা আলুটিলা গুহা ঈদ ভ্রমণে আসা পর্যটকদের কাছে হয়ে উঠেছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্য।

কুমিল্লা থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা মো. সজীব বলেন,
“ঈদের ছুটিতে পরিবারকে নিয়ে একটু ভিন্ন অভিজ্ঞতার জন্য এখানে এসেছি। আমার ছেলেমেয়েরা খুব আনন্দ পাচ্ছে। গুহার ভেতরে গিয়ে একেবারে অন্যরকম অনুভূতি হয়েছে—অন্ধকার, ঠাণ্ডা আর নীরবতা মিলিয়ে এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা।”

অন্যদিকে তেরাং তৈকালাই ঝর্ণার স্বচ্ছ ঠাণ্ডা পানি, ঝুলন্ত সেতুর দোল আর পাহাড়ি পথের সৌন্দর্য পর্যটকদের মুগ্ধ করছে প্রতিনিয়ত। ঝর্ণার কলকল শব্দ আর শীতল স্পর্শ যেন ক্লান্ত মনকে মুহূর্তেই সতেজ করে তোলে। ফেনী থেকে আসা পর্যটক নীলাদ্রী বড়ুয়া জানান, “পাহাড়ের সৌন্দর্য, এখানকার পরিবেশ—সবকিছু এক কথায় অসাধারণ। শহরের কোলাহল থেকে দূরে এসে এমন শান্ত পরিবেশ সত্যিই প্রশান্তি দেয়।”

পর্যটকদের বাড়তি চাপ সামাল দিতে প্রস্তুত রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও। খাগড়াছড়ি হর্টিকালচার পার্কের উপ-সহকারী হর্টিকালচার কর্মকর্তা কান্তি বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, “ঈদ উপলক্ষে প্রচুর পর্যটক আসছে। আমরা পর্যটকদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত আছি। পার্কের নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে সক্রিয় রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশও। খাগড়াছড়ি ট্যুরিস্ট পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর নিশাত রায় বলেন,
“এবার ঈদে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি পর্যটক এসেছে। প্রতিটি পর্যটন স্পটে আমাদের টিম সার্বক্ষণিক টহলে রয়েছে, যাতে পর্যটকরা নিরাপদে ঘুরে বেড়াতে পারেন।”

শুধু পর্যটন স্পটই নয়, জমজমাট হয়ে উঠেছে পাহাড়ি হস্তশিল্পের দোকানগুলোও। বাঁশ, বেত, কাঠ ও কাপড়ে তৈরি নান্দনিক পণ্যগুলো পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। স্থানীয় এক বিক্রেতা বলেন, “ঈদের এই সময়টাতে আমাদের বিক্রি সবচেয়ে বেশি হয়। পর্যটকরা এখানকার ঐতিহ্যবাহী জিনিস খুব পছন্দ করে, তাই ভালো ব্যবসা হচ্ছে।”

সব মিলিয়ে ঈদের এই ছুটিতে খাগড়াছড়ি যেন রূপ নিয়েছে এক প্রাণবন্ত উৎসবের নগরীতে। প্রকৃতি, সংস্কৃতি আর মানুষের আন্তরিকতায় ভরপুর এই পাহাড়ি জেলা পর্যটকদের কাছে হয়ে উঠেছে এক স্বপ্নপুরী।

প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটানো এই সময়গুলোই হয়ে উঠছে অমূল্য স্মৃতি—যা বারবার ডেকে নিয়ে যাবে মানুষকে পাহাড়ের এই অপার সৌন্দর্যের কাছে।

Please Share This Post in Your Social Media

ঈদের টানা ছুটিতে পর্যটনের স্বর্গরাজ্য খাগড়াছড়িতে উপচে পড়া ভিড়

আপডেট: ০৭:৫০:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
ঈদের ছুটি মানেই প্রিয়জনকে নিয়ে কোথাও ঘুরতে যাওয়া, আর সেই তালিকায় এবার শীর্ষে উঠে এসেছে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি। সবুজ পাহাড়, নির্মল বাতাস আর অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে ঈদের টানা ছুটিতে খাগড়াছড়িতে নেমেছে পর্যটকদের ঢল। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার ভ্রমণপিপাসু মানুষ ভিড় জমিয়েছেন এই পাহাড়ি জনপদে।

জেলার অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র, আলুটিলা গুহা, তেরাং তৈকালাই ঝর্ণা, জেলা পরিষদ পার্ক, চেঙ্গী নদীর পাড়সহ বিভিন্ন স্পট এখন মুখরিত পর্যটকদের পদচারণায়। প্রতিটি স্থান যেন নিজস্ব সৌন্দর্যে হাতছানি দিয়ে ডাকছে দর্শনার্থীদের। বিশেষ করে রহস্য আর রোমাঞ্চে ঘেরা আলুটিলা গুহা ঈদ ভ্রমণে আসা পর্যটকদের কাছে হয়ে উঠেছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্য।

কুমিল্লা থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা মো. সজীব বলেন,
“ঈদের ছুটিতে পরিবারকে নিয়ে একটু ভিন্ন অভিজ্ঞতার জন্য এখানে এসেছি। আমার ছেলেমেয়েরা খুব আনন্দ পাচ্ছে। গুহার ভেতরে গিয়ে একেবারে অন্যরকম অনুভূতি হয়েছে—অন্ধকার, ঠাণ্ডা আর নীরবতা মিলিয়ে এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা।”

অন্যদিকে তেরাং তৈকালাই ঝর্ণার স্বচ্ছ ঠাণ্ডা পানি, ঝুলন্ত সেতুর দোল আর পাহাড়ি পথের সৌন্দর্য পর্যটকদের মুগ্ধ করছে প্রতিনিয়ত। ঝর্ণার কলকল শব্দ আর শীতল স্পর্শ যেন ক্লান্ত মনকে মুহূর্তেই সতেজ করে তোলে। ফেনী থেকে আসা পর্যটক নীলাদ্রী বড়ুয়া জানান, “পাহাড়ের সৌন্দর্য, এখানকার পরিবেশ—সবকিছু এক কথায় অসাধারণ। শহরের কোলাহল থেকে দূরে এসে এমন শান্ত পরিবেশ সত্যিই প্রশান্তি দেয়।”

পর্যটকদের বাড়তি চাপ সামাল দিতে প্রস্তুত রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও। খাগড়াছড়ি হর্টিকালচার পার্কের উপ-সহকারী হর্টিকালচার কর্মকর্তা কান্তি বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, “ঈদ উপলক্ষে প্রচুর পর্যটক আসছে। আমরা পর্যটকদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত আছি। পার্কের নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে সক্রিয় রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশও। খাগড়াছড়ি ট্যুরিস্ট পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর নিশাত রায় বলেন,
“এবার ঈদে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি পর্যটক এসেছে। প্রতিটি পর্যটন স্পটে আমাদের টিম সার্বক্ষণিক টহলে রয়েছে, যাতে পর্যটকরা নিরাপদে ঘুরে বেড়াতে পারেন।”

শুধু পর্যটন স্পটই নয়, জমজমাট হয়ে উঠেছে পাহাড়ি হস্তশিল্পের দোকানগুলোও। বাঁশ, বেত, কাঠ ও কাপড়ে তৈরি নান্দনিক পণ্যগুলো পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। স্থানীয় এক বিক্রেতা বলেন, “ঈদের এই সময়টাতে আমাদের বিক্রি সবচেয়ে বেশি হয়। পর্যটকরা এখানকার ঐতিহ্যবাহী জিনিস খুব পছন্দ করে, তাই ভালো ব্যবসা হচ্ছে।”

সব মিলিয়ে ঈদের এই ছুটিতে খাগড়াছড়ি যেন রূপ নিয়েছে এক প্রাণবন্ত উৎসবের নগরীতে। প্রকৃতি, সংস্কৃতি আর মানুষের আন্তরিকতায় ভরপুর এই পাহাড়ি জেলা পর্যটকদের কাছে হয়ে উঠেছে এক স্বপ্নপুরী।

প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটানো এই সময়গুলোই হয়ে উঠছে অমূল্য স্মৃতি—যা বারবার ডেকে নিয়ে যাবে মানুষকে পাহাড়ের এই অপার সৌন্দর্যের কাছে।