অভয়নগরে গুফরান বাহিনীর আতঙ্কে ৪ গ্রামের মানুষের ঈদ আনন্দ ম্লান
- আপডেট: ১০:০৯:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
- / ২

সাব্বির হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার :
রাত পোহালেই মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ। কিন্তু যশোরের অভয়নগর উপজেলার চারটি গ্রামের মানুষের কাছে এবারের ঈদ যেন আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। কুখ্যাত সন্ত্রাসী নাসির ওরফে গুফরান (৪০) এবং তার গড়ে তোলা বাহিনীর লাগাতার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে এসব এলাকার মানুষের ঈদ আনন্দ ফিকে হয়ে গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, গুফরান বাহিনীর সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের কাছে লাখ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছে। চাঁদা না দিলে বসতবাড়িতে হামলা, লুটপাট, মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে করে শত শত পরিবার রাতের পর রাত নির্ঘুম কাটাচ্ছে।
ইতোমধ্যে বাহিনী প্রধান গুফরান ও তার দুই সহযোগী গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতে থাকলেও থেমে নেই বাহিনীর বাকি সদস্যদের তৎপরতা। তোসরুল মোড়ল, ওজিয়ার, মফিজ শেখ, ইমলাক মোড়ল, মান্দার খাঁ ও আনোয়ার শেখসহ চিহ্নিত সদস্যরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তারা অস্ত্র প্রদর্শন, বোমাবাজি ও ফাঁকা গুলি ছোড়ার মাধ্যমে এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে।
বুধবার (১৮ মার্চ) রাতে সরেজমিনে ইছামতি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামবাসী পালাক্রমে রাতভর পাহারা দিচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দা দৈন্য বিশ্বাসসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, পরিবারের নিরাপত্তার জন্য তারা দলবদ্ধভাবে পাহারা দিচ্ছেন। নারী ও কিশোরীরাও সবসময় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে; স্কুল-কলেজে যেতেও ভয় পাচ্ছে তারা।
অভয়নগর উপজেলার ৭ নম্বর শুভরাড়া ইউনিয়নের গোপীনাথপুর, ধুলগ্রাম, ইছামতি ও ভাটপাড়া গ্রামের প্রায় ১২ হাজার মানুষ বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য সুবাস মেম্বার বলেন, “পুলিশ টহল দিলেও সন্ত্রাসীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।”
ভুক্তভোগীদের মধ্যে গোপীনাথপুর গ্রামের সোহেল শিকদার জানান, তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও একটি মোটরসাইকেল লুট করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি গত ১ মার্চ অভয়নগর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
এর আগে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে হিদিয়া গ্রামের সুশান্ত কুমার বিশ্বাস ও পবিত্র কুমার বিশ্বাসের বাড়িসহ অন্তত পাঁচটি বাড়িতে হামলা চালায় গুফরান বাহিনী। ভুক্তভোগী সুশান্ত কুমার বিশ্বাস বলেন, “বাড়িতে হামলার পাশাপাশি মোবাইল ফোনে বার্তা পাঠিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে।” তিনি জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে রাজধানীর মুগদা থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেছেন।
গোপীনাথপুর গ্রামের রাজু মণ্ডল বলেন, “গুফরান গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার সহযোগীরা আরও হিংস্র হয়ে উঠেছে। তারা বিত্তবানদের টার্গেট করে চাঁদা দাবি, গবাদিপশু ধরে নিয়ে যাওয়া এবং অস্ত্র দেখিয়ে খুন-জখমের হুমকি দিচ্ছে।”
এদিকে, স্থানীয়ভাবে গুঞ্জন রয়েছে, একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়ায় গুফরান বাহিনী এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে যশোর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ সার্কেল) মো. রাজিবুল ইসলাম জানান, “গুফরানকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজরদারি ও নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। বাহিনীর অন্যান্য সদস্যদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”
তিনি আরও জানান, ঈদ উৎসব নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় পুলিশি টহল বাড়ানোর জন্য অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।




















