ইরান হামলায় ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৭৭৯ মিলিয়ন ডলার, প্রশ্নের মুখে মার্কিন কৌশল
- আপডেট: ০৪:৩৫:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
- / ২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার মধ্য দিয়ে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) শুরু হওয়া এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজন হলে অভিযান চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে।
অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রের মাধ্যমে চালানো এই হামলায় প্রথম ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে আনুমানিক ৭৭৯ মিলিয়ন ডলার। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ২০২৬ সালের পুরো মার্কিন প্রতিরক্ষা বাজেটের প্রায় ০.১ শতাংশের সমান।
অভিযানে বি-২ স্টিলথ বোম্বার, এফ-৩৫ ফাইটার জেট থেকে শুরু করে পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী এবং টমাহক ক্রুজ মিসাইলের ব্যাপক ব্যবহার এই আকাশচুম্বী ব্যয়ের প্রধান কারণ।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড নিশ্চিত করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের হোয়াইটম্যান বিমানঘাঁটি থেকে চারটি বি-২ স্টিলথ বোম্বার বিরতিহীন উড়ে এসে ইরানে হামলা চালিয়েছে। শুধুমাত্র এই বোম্বারগুলোর উড্ডয়ন ঘণ্টা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ব্যবহৃত ২০০০ পাউন্ডের জেডিএএম বোমার খরচ মিলিয়ে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩০.২ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া এফ-২২, এফ-৩৫ এবং এফ-১৬ এর মতো অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানগুলোর কয়েক দফা আক্রমণ ও সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে খরচ হয়েছে আরও ২৭১.৩৪ মিলিয়ন ডলার।
অভিযানে বিশেষায়িত বিমান যেমন ইএ-১৮জি গ্রাউলার, এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন এবং আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাঙ্কারের পাশাপাশি স্থলভিত্তিক হাইমার্স ব্যাটারি ব্যবহারের ফলে মোট আকাশ ও স্থল সম্পদের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৪২৩.৫৭ মিলিয়ন ডলারে। সমুদ্রে মোতায়েন থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ও ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড বিমানবাহী রণতরী দু’টির দৈনিক পরিচালনা ব্যয় ছিল প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডলার।
এর বাইরে ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নৌবাহিনী প্রায় ২০০টি টমাহক ক্রুজ মিসাইল ছুড়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩৪০.৪ মিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে একদিনে যুদ্ধের খরচ দাঁড়িয়েছে ৭৭৯.১৭৪ মিলিয়ন ডলারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আর্থিক ব্যয়ের চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো অস্ত্রভাণ্ডারের মজুত কত দিন টিকবে। স্টিমসন সেন্টারের জ্যেষ্ঠ ফেলো ক্রিস্টোফার প্রেবল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাজেট বড় হলেও প্যাট্রিয়ট বা এসএম-৬-এর মতো ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান হারে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার অভিযান দীর্ঘদিন চালানো সম্ভব নাও হতে পারে। এসব অস্ত্র দ্রুত উৎপাদন করা যায় না এবং এর কিছু অংশ ইউক্রেন ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য বরাদ্দ রয়েছে।
পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নির্ভর করছে সংঘাত কত দিন স্থায়ী হয় এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয় তার ওপর। আপাতত মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।





















