০৯:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

মাগুরা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে নিয়ে গুজব: প্রশাসনের সতর্কবার্তা

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৪:২০:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৬৪

বিশ্বজিৎ বসু, স্টাফ রিপোর্টারঃ মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহসিন উদ্দিন ফকিরকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্যকে ‘গুজব’ বলে আখ্যায়িত করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। যারফলে প্রশাসন সতর্ক বার্তা দিয়েছেন।

গত কয়েকদিন ধরে কয়েকটি ভুয়া ফেসবুক পোস্টে দাবি করা হয়, ডা. মোহসিন নাকি “সরকারি টাকায় ১০ তলা ভবন বানিয়েছেন, একাধিক ফ্ল্যাট কিনেছেন এবং কোটি টাকার গাড়ি ক্রয় করেছেন।” এসব দাবির সঙ্গে তার একটি ছবি যুক্ত করে হাসপাতালের নামে প্রচার করা হয়।

তদন্তে দেখা গেছে, ছবির সঙ্গে প্রচারিত ভবনটি তত্ত্বাবধায়কের নয়,বরং ফরিদপুর শহরের একজন ব্যবসায়ীর মালিকানাধীন সম্পত্তি। অভিযোগের সঙ্গে ভবনের কোনো সম্পর্ক নেই ডা. মোহসিনের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহসিন উদ্দিন ফকির বলেন,“আমি এখনো ফরিদ পুর ভাড়া বাসায় থাকি। কোনো বাড়ি বা ফ্ল্যাটের মালিক নই। যে ভবনকে আমার বলে প্রচার করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

তিনি আরও বলেন, “দুর্নীতির মতো গুরুতর বিষয়ে ভিত্তিহীন পোস্ট ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। মানুষের আস্থা নষ্ট করার এ ধরনের প্রচারণা হাসপাতালের সেবার মানকেও প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।”

‘মিথ্যাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা’ মাগুরা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, গুজব ছড়ানোর অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি ফেসবুক আইডি শনাক্ত করনে কাজ চলছে। সাইবার ইউনিট বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

আইয়ুব আলীঅফিসার ইনচার্জ মাগুরা সদর থানা বলেন, “সরকারি কর্মকর্তাকে নিয়ে মিথ্যা, বানোয়াট ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করা অপরাধ। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে কাজ চলছে।” তবে তিনি সাধারণ ডায়েরি করলেই মাগুরা থানা পুলিশ তদন্ত করবে বিষয়টি,তাছাড়া তিনি মামলাও করতে পারেন আদালতে।

মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালের সিনিয়র কর্মকর্তারা জানান, তত্ত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে প্রচারিত তথ্য পুরোপুরি অসত্য।

একজন কর্মকর্তা বলেন,“গত কয়েক বছরে হাসপাতালের সেবা উন্নয়নে ডা. মোহসিনের নেতৃত্বে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। ওষুধের সরবরাহ, পরিষেবা মনিটরিং, রোগীর নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই শৃঙ্খলা বেড়েছে। গুজব ছড়িয়ে এসব উন্নয়নকে বিতর্কিত করা হচ্ছে।”

শাশ্বতী শীল অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জানান, তিনি চাইলেই জেলা প্রশাসক মহোদয়কে লিখিত আকারে অভিযোগ দিতে পারেন“জনস্বাস্থ্য ও প্রশাসনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নিয়ে মিথ্যাচার ছড়ানো অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার করা অপরাধ।তিনি আরও বলেন,“সত্য নিশ্চিত না করে পোস্ট শেয়ার করলেও আইনগত দায় থাকতে পারে। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”

Please Share This Post in Your Social Media

মাগুরা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে নিয়ে গুজব: প্রশাসনের সতর্কবার্তা

আপডেট: ০৪:২০:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫

বিশ্বজিৎ বসু, স্টাফ রিপোর্টারঃ মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহসিন উদ্দিন ফকিরকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্যকে ‘গুজব’ বলে আখ্যায়িত করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। যারফলে প্রশাসন সতর্ক বার্তা দিয়েছেন।

গত কয়েকদিন ধরে কয়েকটি ভুয়া ফেসবুক পোস্টে দাবি করা হয়, ডা. মোহসিন নাকি “সরকারি টাকায় ১০ তলা ভবন বানিয়েছেন, একাধিক ফ্ল্যাট কিনেছেন এবং কোটি টাকার গাড়ি ক্রয় করেছেন।” এসব দাবির সঙ্গে তার একটি ছবি যুক্ত করে হাসপাতালের নামে প্রচার করা হয়।

তদন্তে দেখা গেছে, ছবির সঙ্গে প্রচারিত ভবনটি তত্ত্বাবধায়কের নয়,বরং ফরিদপুর শহরের একজন ব্যবসায়ীর মালিকানাধীন সম্পত্তি। অভিযোগের সঙ্গে ভবনের কোনো সম্পর্ক নেই ডা. মোহসিনের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহসিন উদ্দিন ফকির বলেন,“আমি এখনো ফরিদ পুর ভাড়া বাসায় থাকি। কোনো বাড়ি বা ফ্ল্যাটের মালিক নই। যে ভবনকে আমার বলে প্রচার করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

তিনি আরও বলেন, “দুর্নীতির মতো গুরুতর বিষয়ে ভিত্তিহীন পোস্ট ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। মানুষের আস্থা নষ্ট করার এ ধরনের প্রচারণা হাসপাতালের সেবার মানকেও প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।”

‘মিথ্যাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা’ মাগুরা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, গুজব ছড়ানোর অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি ফেসবুক আইডি শনাক্ত করনে কাজ চলছে। সাইবার ইউনিট বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

আইয়ুব আলীঅফিসার ইনচার্জ মাগুরা সদর থানা বলেন, “সরকারি কর্মকর্তাকে নিয়ে মিথ্যা, বানোয়াট ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করা অপরাধ। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে কাজ চলছে।” তবে তিনি সাধারণ ডায়েরি করলেই মাগুরা থানা পুলিশ তদন্ত করবে বিষয়টি,তাছাড়া তিনি মামলাও করতে পারেন আদালতে।

মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালের সিনিয়র কর্মকর্তারা জানান, তত্ত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে প্রচারিত তথ্য পুরোপুরি অসত্য।

একজন কর্মকর্তা বলেন,“গত কয়েক বছরে হাসপাতালের সেবা উন্নয়নে ডা. মোহসিনের নেতৃত্বে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। ওষুধের সরবরাহ, পরিষেবা মনিটরিং, রোগীর নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই শৃঙ্খলা বেড়েছে। গুজব ছড়িয়ে এসব উন্নয়নকে বিতর্কিত করা হচ্ছে।”

শাশ্বতী শীল অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জানান, তিনি চাইলেই জেলা প্রশাসক মহোদয়কে লিখিত আকারে অভিযোগ দিতে পারেন“জনস্বাস্থ্য ও প্রশাসনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নিয়ে মিথ্যাচার ছড়ানো অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার করা অপরাধ।তিনি আরও বলেন,“সত্য নিশ্চিত না করে পোস্ট শেয়ার করলেও আইনগত দায় থাকতে পারে। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”