উপদেষ্টা হওয়ার লোভে সমন্বয়ককে ২০০ কোটি টাকার চেক! তদন্তে দুদক
- আপডেট: ০৬:৪৭:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৫
- / ২৩৮

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের— এনআইসিআরএইচ সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. শেখ গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে ২০০ কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনসহ দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য উপদেষ্টার পদ পাওয়ার আশায় তিনি একটি প্রভাবশালী সমন্বয়ক চক্রকে নগদ ১০ লাখ টাকা এবং চারটি চেকে ২০০ কোটি টাকা প্রদান করেন।
সূত্র জানায়, ঘটনাটি ঘটেছে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে। অধ্যাপক মোস্তফা অভিযোগ করেছেন, তাকে জোরপূর্বক এই চেকে স্বাক্ষর করানো হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, একটি চক্র নিজেদের ‘যমুনা থেকে আগত সমন্বয়ক গ্রুপ’ পরিচয় দিয়ে ডা. মোস্তফার সঙ্গে যোগাযোগ করে। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আরিফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি জড়িত ছিলেন, যিনি নিজেকে সমন্বয়ক আরেফিনের ভাই বলে দাবি করেন। ডা. মোস্তফার চেম্বার থেকে আরিফুল ইসলাম ওই চেকগুলো সংগ্রহ করেন। যদিও আরেফিন নিজে উপস্থিত ছিলেন না, তিনি মোবাইল ফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে লেনদেন নিশ্চিত করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে। সংস্থার একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, ডা. মোস্তফার ব্যাংক হিসাব, চেক লেনদেন, এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চেকগুলো বৈধ কিনা, সেগুলোর অর্থ কোথা থেকে এসেছে, এসব বিষয়ও যাচাই করা হচ্ছে।
দুদকের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এই অভিযোগ যদি সত্য হয়, তবে তা দেশের স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির একটি গুরুতর উদাহরণ হয়ে থাকবে। আমরা নিরপেক্ষ ও কঠোর তদন্ত করছি।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আমরা দুদকের তদন্ত শেষ হওয়ার অপেক্ষায় আছি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে ডা. শেখ গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘তারা আমাকে জোর করে উপদেষ্টা বানাতে চায় এবং মিথ্যা প্রলোভনে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে চেকে স্বাক্ষর নেয়। যেদিন তারা আমার অফিসে এসেছিল, সম্ভবত দুজনের কাছে অস্ত্র ছিল।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনা স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির গভীর সংকটের ইঙ্গিত দেয়। স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া, আর্থিক লেনদেনের উপর কঠোর নজরদারি এবং প্রশাসনিক সংস্কার ছাড়া এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়।
তাদের মতে, সংশ্লিষ্ট চক্র অস্ত্র দেখিয়ে চাঁদা আদায় বা প্রতারণায় জড়িত থাকলে সেটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও হুমকি। তদন্তে অস্ত্রধারীদের বিষয়টি অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।



















