০৩:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

৮,৩৭০ কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা বেনাপোলে, আহরণে চ্যালেঞ্জ দেখছেন ব্যবসায়ীরা

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০১:৪৮:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ জুলাই ২০২৫
  • / ৩০০

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য বেনাপোল কাস্টমস হাউস থেকে ৮ হাজার ৩৭০ কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। যা গত অর্থবছরের তুলনায় ১ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা বেশি।

রোববার (২৭ জুলাই ২০২৫) সন্ধ্যায় বেনাপোল কাস্টমসের পরিসংখ্যান শাখার সহকারী মাসুম মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গত অর্থবছরেও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে রাজস্ব আহরণ হয়েছিল। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কাস্টমস কর্মকর্তাদের নিরলস পরিশ্রমের ফলে এবারও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব বলে তারা আশাবাদী।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টমসের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা। আর অর্জিত হয়েছে ৭ হাজার ২১ কোটি ৫১ লাখ টাকা, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩১৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা বেশি।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ওই অর্থবছরে ভারত থেকে আমদানি হয় প্রায় ১৪ লাখ ৯৮ হাজার মেট্রিক টন পণ্য। এসব পণ্য থেকেই রাজস্ব আহরণ হয় ৭ হাজার কোটির বেশি।

তবে চলতি অর্থবছরে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ৮ হাজার কোটির গণ্ডি পেরিয়ে গেলেও তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বেনাপোল বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

বেনাপোল বন্দর আমদানি-রফতানি সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক বলেন, ‘গত ৫ আগস্টের পর থেকে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আসছে। সুতা, গুঁড়া দুধ, তামাক, নিউজপ্রিন্ট, কাগজ ও পেপার বোর্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্য আমদানি বন্ধ রয়েছে। ফলে স্বাভাবিক আমদানি কার্যক্রম প্রায় ৬০ শতাংশ কমে গেছে। এই পরিস্থিতিতে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সত্যিই কঠিন হবে।’

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের বন্দর বিষয়ক সম্পাদক মো: মেহেরুল্লাহ বলেন, ‘কাস্টমসে পণ্য ছাড়করণ প্রক্রিয়া সহজ না হলে ব্যবসায়ীরা বৈধভাবে পণ্য আনতে নিরুৎসাহিত হবেন। এতে রাজস্ব আয়ও ব্যাহত হবে।’

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম বলেন, ‘আমরা ব্যবসায়ী হিসেবে রাজস্ব আহরণে সব সময় সহায়তা করে থাকি। কিন্তু কাস্টমস হাউসের অবকাঠামোগত সমস্যা এখনও প্রকট। পণ্য রাখার জায়গা, বর্ষায় জলবদ্ধতা, ইন্সপেকশন সুবিধা, পর্যাপ্ত স্ক্যানিং মেশিন না থাকায় আমরা প্রতিদিন দুর্ভোগে পড়ি। এনবিআর যদি এসব বিষয়ে নজর দেয়, তাহলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি রাজস্ব আদায় সম্ভব।’

বাণিজ্য সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নীতি সহায়তা এবং কাস্টমসের আধুনিকীকরণ না হলে উচ্চ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে।

Please Share This Post in Your Social Media

৮,৩৭০ কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা বেনাপোলে, আহরণে চ্যালেঞ্জ দেখছেন ব্যবসায়ীরা

আপডেট: ০১:৪৮:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ জুলাই ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য বেনাপোল কাস্টমস হাউস থেকে ৮ হাজার ৩৭০ কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। যা গত অর্থবছরের তুলনায় ১ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা বেশি।

রোববার (২৭ জুলাই ২০২৫) সন্ধ্যায় বেনাপোল কাস্টমসের পরিসংখ্যান শাখার সহকারী মাসুম মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গত অর্থবছরেও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে রাজস্ব আহরণ হয়েছিল। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কাস্টমস কর্মকর্তাদের নিরলস পরিশ্রমের ফলে এবারও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব বলে তারা আশাবাদী।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টমসের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা। আর অর্জিত হয়েছে ৭ হাজার ২১ কোটি ৫১ লাখ টাকা, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩১৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা বেশি।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ওই অর্থবছরে ভারত থেকে আমদানি হয় প্রায় ১৪ লাখ ৯৮ হাজার মেট্রিক টন পণ্য। এসব পণ্য থেকেই রাজস্ব আহরণ হয় ৭ হাজার কোটির বেশি।

তবে চলতি অর্থবছরে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ৮ হাজার কোটির গণ্ডি পেরিয়ে গেলেও তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বেনাপোল বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

বেনাপোল বন্দর আমদানি-রফতানি সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক বলেন, ‘গত ৫ আগস্টের পর থেকে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আসছে। সুতা, গুঁড়া দুধ, তামাক, নিউজপ্রিন্ট, কাগজ ও পেপার বোর্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্য আমদানি বন্ধ রয়েছে। ফলে স্বাভাবিক আমদানি কার্যক্রম প্রায় ৬০ শতাংশ কমে গেছে। এই পরিস্থিতিতে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সত্যিই কঠিন হবে।’

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের বন্দর বিষয়ক সম্পাদক মো: মেহেরুল্লাহ বলেন, ‘কাস্টমসে পণ্য ছাড়করণ প্রক্রিয়া সহজ না হলে ব্যবসায়ীরা বৈধভাবে পণ্য আনতে নিরুৎসাহিত হবেন। এতে রাজস্ব আয়ও ব্যাহত হবে।’

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম বলেন, ‘আমরা ব্যবসায়ী হিসেবে রাজস্ব আহরণে সব সময় সহায়তা করে থাকি। কিন্তু কাস্টমস হাউসের অবকাঠামোগত সমস্যা এখনও প্রকট। পণ্য রাখার জায়গা, বর্ষায় জলবদ্ধতা, ইন্সপেকশন সুবিধা, পর্যাপ্ত স্ক্যানিং মেশিন না থাকায় আমরা প্রতিদিন দুর্ভোগে পড়ি। এনবিআর যদি এসব বিষয়ে নজর দেয়, তাহলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি রাজস্ব আদায় সম্ভব।’

বাণিজ্য সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নীতি সহায়তা এবং কাস্টমসের আধুনিকীকরণ না হলে উচ্চ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে।