০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

এক সপ্তাহের ব্যবধানে লোহিত সাগরে দ্বিতীয় জাহাজ ডুবিয়েছে হুথিরা

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৭:৫৬:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই ২০২৫
  • / ২১৬

গ্রামের সংবাদ ডেস্ক : লোহিত সাগরে হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় একটি গ্রিস-পরিচালিত লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ ‘ইটারনিটি সি’ ডুবে গেছে। হামলার সময় জাহাজটিতে ২৫ জন নাবিক ছিলেন। ইউরোপীয় নৌ মিশন অপারেশন অ্যাসপাইডস জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ছয়জন ক্রুকে উদ্ধার করা হয়েছে, তবে কমপক্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন এবং বাকিরা এখনও নিখোঁজ।

হামলার পর অভিযান চালিয়ে অন্তত পাঁচজনকে পানির মধ্য থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, যারা ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় সমুদ্রে ভেসে ছিলেন বলে জানা গেছে। নাবিকদের অধিকাংশই ফিলিপাইনের নাগরিক, এছাড়া একজন রাশিয়ান নাবিক গুরুতর আহত হয়ে পা হারিয়েছেন।

হুথিরা দাবি করেছে, জাহাজটি ইসরায়েলে যাচ্ছিল বলেই তারা এটিকে আক্রমণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হুথিরা জীবন রক্ষা করা নাবিকদের অপহরণ করেছে এবং তাদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

শুধু এই ঘটনাই নয়, এর আগের রোববারও আরেকটি লাইবেরিয়ান-ফ্ল্যাগধারী, গ্রিস-পরিচালিত পণ্যবাহী জাহাজ ‘ম্যাজিক সিজে’ হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়। এই নিয়ে এক সপ্তাহের ব্যবধানে হুথিরা দ্বিতীয়বারের মতো একটি জাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে। তারা অভিযোগ করেছে, সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ বন্দরে পণ্য পাঠিয়ে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করেছিল।

হুথি গোষ্ঠী ২০২৩ সালের নভেম্বরে হামলা শুরু করার পর থেকে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে নৌপথে নিরাপত্তা হুমকির সৃষ্টি করেছে। এই সময়ের মধ্যে তারা অন্তত ৭০টি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৪টি জাহাজ ডুবে গেছে, ৫টি জব্দ করা হয়েছে এবং কমপক্ষে ৭ জন নাবিক নিহত হয়েছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ ধরনের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এসব হামলা আঞ্চলিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তারা নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সমুদ্র সংস্থার (IMO) মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ বলেছেন, দীর্ঘ কয়েক মাস শান্ত থাকার পর লোহিত সাগরে এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। তিনি আরও বলেন, এ হামলার প্রধান ভুক্তভোগী হচ্ছেন নিরীহ নাবিকরা ও উপকূলীয় সাধারণ জনগণ।

তথ্যসূত্র ও ছবি: বিবিসি

Please Share This Post in Your Social Media

এক সপ্তাহের ব্যবধানে লোহিত সাগরে দ্বিতীয় জাহাজ ডুবিয়েছে হুথিরা

আপডেট: ০৭:৫৬:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই ২০২৫

গ্রামের সংবাদ ডেস্ক : লোহিত সাগরে হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় একটি গ্রিস-পরিচালিত লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ ‘ইটারনিটি সি’ ডুবে গেছে। হামলার সময় জাহাজটিতে ২৫ জন নাবিক ছিলেন। ইউরোপীয় নৌ মিশন অপারেশন অ্যাসপাইডস জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ছয়জন ক্রুকে উদ্ধার করা হয়েছে, তবে কমপক্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন এবং বাকিরা এখনও নিখোঁজ।

হামলার পর অভিযান চালিয়ে অন্তত পাঁচজনকে পানির মধ্য থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, যারা ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় সমুদ্রে ভেসে ছিলেন বলে জানা গেছে। নাবিকদের অধিকাংশই ফিলিপাইনের নাগরিক, এছাড়া একজন রাশিয়ান নাবিক গুরুতর আহত হয়ে পা হারিয়েছেন।

হুথিরা দাবি করেছে, জাহাজটি ইসরায়েলে যাচ্ছিল বলেই তারা এটিকে আক্রমণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হুথিরা জীবন রক্ষা করা নাবিকদের অপহরণ করেছে এবং তাদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

শুধু এই ঘটনাই নয়, এর আগের রোববারও আরেকটি লাইবেরিয়ান-ফ্ল্যাগধারী, গ্রিস-পরিচালিত পণ্যবাহী জাহাজ ‘ম্যাজিক সিজে’ হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়। এই নিয়ে এক সপ্তাহের ব্যবধানে হুথিরা দ্বিতীয়বারের মতো একটি জাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে। তারা অভিযোগ করেছে, সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ বন্দরে পণ্য পাঠিয়ে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করেছিল।

হুথি গোষ্ঠী ২০২৩ সালের নভেম্বরে হামলা শুরু করার পর থেকে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে নৌপথে নিরাপত্তা হুমকির সৃষ্টি করেছে। এই সময়ের মধ্যে তারা অন্তত ৭০টি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৪টি জাহাজ ডুবে গেছে, ৫টি জব্দ করা হয়েছে এবং কমপক্ষে ৭ জন নাবিক নিহত হয়েছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ ধরনের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এসব হামলা আঞ্চলিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তারা নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সমুদ্র সংস্থার (IMO) মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ বলেছেন, দীর্ঘ কয়েক মাস শান্ত থাকার পর লোহিত সাগরে এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। তিনি আরও বলেন, এ হামলার প্রধান ভুক্তভোগী হচ্ছেন নিরীহ নাবিকরা ও উপকূলীয় সাধারণ জনগণ।

তথ্যসূত্র ও ছবি: বিবিসি