০৭:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

নকল রিয়াল কাণ্ডে প্রতারণা, পুলিশের হাতে ৪ জন গ্রেফতার, উদ্ধার মোটরসাইকেল ও নগদ টাকা

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:৫৭:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫
  • / ১০৪

নিজস্ব প্রতিবেদক: সৌদি রিয়াল দেখিয়ে চটকদার প্রলোভন, আর সেই ফাঁদে পড়ে কাঁচামাল ব্যবসায়ীর কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হয় নগদ চার লাখ টাকা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি প্রতারক চক্রের—সাইবার গোয়েন্দা পুলিশের চৌকস অভিযানে গ্রেফতার হলো চক্রের চার সদস্য। উদ্ধার করা হয়েছে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ।

ভিকটিম মো. সিরাজুল ইসলাম, যিনি ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর থানার সলেমানপুর গ্রামের বাসিন্দা, পেশায় একজন কাঁচামাল ব্যবসায়ী। প্রায় এক মাস আগে কোটচাঁদপুর এলাকায় অজ্ঞাতপরিচয় চার ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় হয় তার। ধীরে ধীরে সখ্য গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তারা জানায়, তাদের কাছে বিপুল পরিমাণ সৌদি রিয়াল আছে, তবে তা ভাঙাতে পারছে না।

তারা সিরাজুলকে একটি আসল রিয়াল দেখিয়ে প্রস্তাব দেয়—প্রতি রিয়াল মাত্র ১৫ টাকায় কিনে নিতে। বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম দাম হওয়ায় লোভে পড়ে সিরাজুল রাজি হন সব রিয়াল কিনে নিতে।

এরপর গত জুনের মাঝামাঝি সময়ে চক্রটি সিরাজুলকে ফোন করে জানায়, টাকা নিয়ে যশোর জেলার অভয়নগর থানার নওয়াপাড়া বুইকারা পশু হাসপাতালের পাশে সকালবেলা যেতে। নির্ধারিত সময়ে সিরাজুল সেখানে উপস্থিত হলে চক্রের সদস্যরা তার কাছ থেকে নগদ চার লাখ টাকা নেয় এবং রিয়াল আছে বলে একটি কাপড়ে মোড়া বান্ডিল দিয়ে বলে—”নিরিবিলি জায়গায় গিয়ে খুলবেন।”

সিরাজুল নির্জন স্থানে গিয়ে বান্ডিলটি খুলে দেখতে পান, ভেতরে কিছু কাগজ ও একটি ভিম সাবান। তখনই তিনি বুঝতে পারেন, তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

পরবর্তীতে তিনি যশোর জেলা পুলিশের কাছে অভিযোগ করলে, সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ইউনিট তদন্তে নামে। এসআই দেবব্রত ঘোষের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস টিম খুলনার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার (৮ জুলাই-২০২৫) ভোর ৫টার দিকে চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন: আব্দুল হামিদ (১নং আসামি): তার নিকট থেকে উদ্ধার হয় দুটি মোবাইল ও চারটি সিমকার্ড।

ইমদাদুল শেখ (২নং আসামি): তার কাছ থেকে উদ্ধার হয় প্রতারণায় ব্যবহৃত ৩,৫০০ টাকা, একটি মোবাইল ও একটি সিমকার্ড।

রাজু শেখ (৩নং আসামি): তার কাছ থেকে উদ্ধার হয় একটি মোবাইল ও একটি সিমকার্ড।

পলাতক জাহিদ সর্দ্দারের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় নগদ ৮০,০০০ টাকা, একটি মোবাইল, একটি সিমকার্ড এবং একটি মোটরসাইকেল (এফজেড ভার্সন-৩)।

গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। পরবর্তীতে আদালতে সোপর্দ করা হলে ১নং আসামি আব্দুল হামিদ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

পুলিশ জানায়, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরেই এধরনের প্রতারণা করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

নকল রিয়াল কাণ্ডে প্রতারণা, পুলিশের হাতে ৪ জন গ্রেফতার, উদ্ধার মোটরসাইকেল ও নগদ টাকা

আপডেট: ১০:৫৭:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক: সৌদি রিয়াল দেখিয়ে চটকদার প্রলোভন, আর সেই ফাঁদে পড়ে কাঁচামাল ব্যবসায়ীর কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হয় নগদ চার লাখ টাকা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি প্রতারক চক্রের—সাইবার গোয়েন্দা পুলিশের চৌকস অভিযানে গ্রেফতার হলো চক্রের চার সদস্য। উদ্ধার করা হয়েছে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ।

ভিকটিম মো. সিরাজুল ইসলাম, যিনি ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর থানার সলেমানপুর গ্রামের বাসিন্দা, পেশায় একজন কাঁচামাল ব্যবসায়ী। প্রায় এক মাস আগে কোটচাঁদপুর এলাকায় অজ্ঞাতপরিচয় চার ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় হয় তার। ধীরে ধীরে সখ্য গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তারা জানায়, তাদের কাছে বিপুল পরিমাণ সৌদি রিয়াল আছে, তবে তা ভাঙাতে পারছে না।

তারা সিরাজুলকে একটি আসল রিয়াল দেখিয়ে প্রস্তাব দেয়—প্রতি রিয়াল মাত্র ১৫ টাকায় কিনে নিতে। বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম দাম হওয়ায় লোভে পড়ে সিরাজুল রাজি হন সব রিয়াল কিনে নিতে।

এরপর গত জুনের মাঝামাঝি সময়ে চক্রটি সিরাজুলকে ফোন করে জানায়, টাকা নিয়ে যশোর জেলার অভয়নগর থানার নওয়াপাড়া বুইকারা পশু হাসপাতালের পাশে সকালবেলা যেতে। নির্ধারিত সময়ে সিরাজুল সেখানে উপস্থিত হলে চক্রের সদস্যরা তার কাছ থেকে নগদ চার লাখ টাকা নেয় এবং রিয়াল আছে বলে একটি কাপড়ে মোড়া বান্ডিল দিয়ে বলে—”নিরিবিলি জায়গায় গিয়ে খুলবেন।”

সিরাজুল নির্জন স্থানে গিয়ে বান্ডিলটি খুলে দেখতে পান, ভেতরে কিছু কাগজ ও একটি ভিম সাবান। তখনই তিনি বুঝতে পারেন, তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

পরবর্তীতে তিনি যশোর জেলা পুলিশের কাছে অভিযোগ করলে, সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ইউনিট তদন্তে নামে। এসআই দেবব্রত ঘোষের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস টিম খুলনার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার (৮ জুলাই-২০২৫) ভোর ৫টার দিকে চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন: আব্দুল হামিদ (১নং আসামি): তার নিকট থেকে উদ্ধার হয় দুটি মোবাইল ও চারটি সিমকার্ড।

ইমদাদুল শেখ (২নং আসামি): তার কাছ থেকে উদ্ধার হয় প্রতারণায় ব্যবহৃত ৩,৫০০ টাকা, একটি মোবাইল ও একটি সিমকার্ড।

রাজু শেখ (৩নং আসামি): তার কাছ থেকে উদ্ধার হয় একটি মোবাইল ও একটি সিমকার্ড।

পলাতক জাহিদ সর্দ্দারের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় নগদ ৮০,০০০ টাকা, একটি মোবাইল, একটি সিমকার্ড এবং একটি মোটরসাইকেল (এফজেড ভার্সন-৩)।

গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। পরবর্তীতে আদালতে সোপর্দ করা হলে ১নং আসামি আব্দুল হামিদ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

পুলিশ জানায়, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরেই এধরনের প্রতারণা করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।