০৫:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

অভয়নগরে ব্যবসায়ী আনিছুর হত্যা: প্রধান আসামি শাহ মাহমুদ গ্রেফতার

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৫:৫৪:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
  • /

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের অভয়নগরে ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি শাহ মাহমুদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবার (১৮ মে ২০২৬) দুপুরে যশোর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. মিরাজুল ইসলাম।

এর আগে রোববার দিবাগত রাতে অভয়নগর থানা পুলিশ, ডিবি ও সাইবার ক্রাইম ইউনিটের যৌথ অভিযানে যশোর শহরের আরএন রোড এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। গ্রেফতার শাহ মাহমুদ নওয়াপাড়া পীরবাড়ি এলাকার শাহ জোনায়েদের ছেলে।

পুলিশ জানায়, মূলত দোকান ভাড়া নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। তবে এর বাইরে আরও কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্তের স্বার্থে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিরাজুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত আত্মগোপনে ছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে এবং ভারতে পালানোর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে।”

প্রসঙ্গত, গত ৬ মে অভয়নগর থানার গুয়াখোলা পীরবাড়ি মসজিদের পশ্চিম পাশে নিজের নির্মাণাধীন ছয়তলা ভবনের নিচতলায় অবস্থান করছিলেন ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান। এ সময় শাহ মাহমুদ, তার সহযোগী নাসিরসহ আরও ২-৩ জন সেখানে আসে। একপর্যায়ে শাহ মাহমুদ কোমরে থাকা ধারালো চাইনিজ কুড়াল দিয়ে আনিছুর রহমানের মুখের বাম পাশে কোপ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে ৭ মে রাত ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের পরই প্রধান আসামি শাহ মাহমুদ আত্মগোপনে চলে যান। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী নাহিদা ইমাম বাদী হয়ে অভয়নগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর আগে এ মামলায় মনির হোসেন নামে একজনকে আটক করা হয়েছিল।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ-সার্কেল) মো. মুন্না বিশ্বাস ও অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম।

Please Share This Post in Your Social Media

অভয়নগরে ব্যবসায়ী আনিছুর হত্যা: প্রধান আসামি শাহ মাহমুদ গ্রেফতার

আপডেট: ০৫:৫৪:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের অভয়নগরে ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি শাহ মাহমুদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবার (১৮ মে ২০২৬) দুপুরে যশোর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. মিরাজুল ইসলাম।

এর আগে রোববার দিবাগত রাতে অভয়নগর থানা পুলিশ, ডিবি ও সাইবার ক্রাইম ইউনিটের যৌথ অভিযানে যশোর শহরের আরএন রোড এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। গ্রেফতার শাহ মাহমুদ নওয়াপাড়া পীরবাড়ি এলাকার শাহ জোনায়েদের ছেলে।

পুলিশ জানায়, মূলত দোকান ভাড়া নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। তবে এর বাইরে আরও কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্তের স্বার্থে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিরাজুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত আত্মগোপনে ছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে এবং ভারতে পালানোর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে।”

প্রসঙ্গত, গত ৬ মে অভয়নগর থানার গুয়াখোলা পীরবাড়ি মসজিদের পশ্চিম পাশে নিজের নির্মাণাধীন ছয়তলা ভবনের নিচতলায় অবস্থান করছিলেন ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান। এ সময় শাহ মাহমুদ, তার সহযোগী নাসিরসহ আরও ২-৩ জন সেখানে আসে। একপর্যায়ে শাহ মাহমুদ কোমরে থাকা ধারালো চাইনিজ কুড়াল দিয়ে আনিছুর রহমানের মুখের বাম পাশে কোপ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে ৭ মে রাত ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের পরই প্রধান আসামি শাহ মাহমুদ আত্মগোপনে চলে যান। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী নাহিদা ইমাম বাদী হয়ে অভয়নগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর আগে এ মামলায় মনির হোসেন নামে একজনকে আটক করা হয়েছিল।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ-সার্কেল) মো. মুন্না বিশ্বাস ও অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম।