জ্বালানি তেলের ঘাটতি মেটাতে বাংলাদেশে আসছে আরও ১ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল
- আপডেট: ১১:৩৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
- / ১২

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের মধ্যে দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য বাংলাদেশ সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। হরমুজ প্রণালিতে আটকা থাকা ১ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল দ্রুত দেশে আনার জন্য ইরানের সঙ্গে নিবিড় কূটনৈতিক আলোচনায় রয়েছে।
একই সঙ্গে সরকার সৌদি আরব থেকে নতুন করে আরও ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল কিনেছে। এই তেল লোহিত সাগরের কাছে অবস্থিত সৌদি আরবের ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে সরাসরি চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড-এ আনা হবে। বাংলাদেশের শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, আগামী এক মাসের মধ্যে এই বিশাল পরিমাণ তেল দেশে পৌঁছালে চলমান জ্বালানি সংকট অনেকটা লাঘব হবে।
ইস্টার্ন রিফাইনারির সাবেক মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মনজারে খোরশেদ আলম জানিয়েছেন, এই পরিমাণ তেল দেশে পৌঁছালে সংকট অনেকটা কমবে, তবে বাড়তি চাহিদা মেটাতে বিদেশ থেকে আরও ডিজেল আমদানি প্রয়োজন হতে পারে। মার্চ মাসে বিকল্প উৎস থেকে অন্তত ৩৯টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসায় দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যক্রমের প্রতিফলন দেখা গেছে।
বর্তমানে ‘এমটি নরডিক পলুকস’ নামক একটি জাহাজ হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়ে আছে। সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে থাকা এই জাহাজটি ইরানের বিশেষ ছাড়পত্র না পাওয়ায় বাংলাদেশে আসতে পারছে না। তবে সরকারের কূটনৈতিক চ্যানেলগুলো সক্রিয় করা হয়েছে এবং অনুমতি পেলে জাহাজটি সরাসরি চট্টগ্রামে পৌঁছাবে।
নতুন ক্রুড অয়েল কেনার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালির রাজনৈতিক ও সামরিক জটিলতা এড়িয়ে সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ২০ এপ্রিল এই তেল জাহাজে লোডের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে দুই জাহাজ মিলিয়ে মোট ২ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধনের পর এই তেল থেকে পাওয়া যাবে প্রায় ৫২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল, ৩২ হাজার মেট্রিক টন পেট্রোল, ১৬ হাজার মেট্রিক টন অকটেন, ৪৮ হাজার মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল এবং ৪২ হাজার মেট্রিক টন কেরোসিন।

























