০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

মাগুরায় জোড়া খুনের বাদীর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ: ছাই হলো ঈদের আনন্দ

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:৩৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
  • / ২৮

বিশেষ প্রতিনিধি: ঈদের আনন্দ বিষাদে রূপ নিয়েছে মাগুরার মহাম্মদপুর উপজেলার নহাটা ইউনিয়নের পানিঘাটা গ্রামের একটি পরিবারে। গত ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর সংঘটিত আলোচিত জোড়া খুনের (ডাবল মার্ডার) মামলার বাদীর বাড়িতে ঈদের পূর্ব রাতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে ঘর ও ঘরে থাকা আসবাবপত্রসহ সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

​ঘটনার বিবরণ ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর সবুজ মোল্লা ও রেজা মোল্লা নামে দুই ভাইকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নির্জন মাঠে হত্যা করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ডের মামলার বাদী নিহতের পরিবার। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন এবং চার আসামি জামিনে মুক্ত রয়েছেন।

​গত বৃহস্পতিবার ১৯ মার্চ ২০২৬ সাল (ঈদের আগের রাতে) গভীর রাতে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা বাদীর বসতঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। মুহূর্তেই আগুনের লেলিহান অগ্নি শিখা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে মহাম্মদপুর ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে ঘরে থাকা পালঙ্ক, সাইকেল, সার এবং মজুদকৃত ধনে ও মসুর ডালসহ যাবতীয় মালামাল পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে যায়।
​পরিবারের আর্তনাদ নিহতদের ভাই আবুল কালাম মোল্লা এবং বাবা মঞ্জুর মোল্লা আক্ষেপ করে বলেন, “দুই ছেলেকে হারিয়েছি আগেই। এখন ঘরবাড়ি পুড়িয়ে আমাদের পথে বসিয়ে দেওয়া হলো। ওই রাতে ঘরে কেউ না থাকায় প্রাণে বেঁচে গেছি, কিন্তু আমাদের ঈদের আনন্দ এখন শুধুই কান্নায় পরিণত হয়েছে।”

​পরিবারের অন্য সদস্যরা অভিযোগ করেন, মামলা তুলে নেওয়ার ভয়ভীতি বা প্রতিশোধ নিতেই এই অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। তারা দ্রুত এই ঘটনার তদন্ত এবং জোড়া খুনের মামলার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
​বর্তমান অবস্থা ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অগ্নিকাণ্ডের ফলে প্রায় কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এবিষয়ে নহাটা পুলিশ তদন্ত ক্যাম্পের দায়িত্বরত এসআই কৃষ্ণ বাবুর নিকট জানতে চাইলে, তিনি জানান বিষয়টি মৌখিক ভাবে অভিযোগ করেছেন কালাম কিন্তু তাকে আমরা ওসি মহম্মদপুর থানাকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। ওসি সাহেব আমাদের কে যদি দায়িত্ব দিলে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নিবো। এই বিষয়ে মহম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জের সরকারি মোবাইল ফোন নম্বরে বার বার যোগাযোগ করা হলে ফোন রিসিভ না হওয়ায় ওসির মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

মাগুরায় জোড়া খুনের বাদীর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ: ছাই হলো ঈদের আনন্দ

আপডেট: ১১:৩৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি: ঈদের আনন্দ বিষাদে রূপ নিয়েছে মাগুরার মহাম্মদপুর উপজেলার নহাটা ইউনিয়নের পানিঘাটা গ্রামের একটি পরিবারে। গত ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর সংঘটিত আলোচিত জোড়া খুনের (ডাবল মার্ডার) মামলার বাদীর বাড়িতে ঈদের পূর্ব রাতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে ঘর ও ঘরে থাকা আসবাবপত্রসহ সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

​ঘটনার বিবরণ ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর সবুজ মোল্লা ও রেজা মোল্লা নামে দুই ভাইকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নির্জন মাঠে হত্যা করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ডের মামলার বাদী নিহতের পরিবার। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন এবং চার আসামি জামিনে মুক্ত রয়েছেন।

​গত বৃহস্পতিবার ১৯ মার্চ ২০২৬ সাল (ঈদের আগের রাতে) গভীর রাতে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা বাদীর বসতঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। মুহূর্তেই আগুনের লেলিহান অগ্নি শিখা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে মহাম্মদপুর ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে ঘরে থাকা পালঙ্ক, সাইকেল, সার এবং মজুদকৃত ধনে ও মসুর ডালসহ যাবতীয় মালামাল পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে যায়।
​পরিবারের আর্তনাদ নিহতদের ভাই আবুল কালাম মোল্লা এবং বাবা মঞ্জুর মোল্লা আক্ষেপ করে বলেন, “দুই ছেলেকে হারিয়েছি আগেই। এখন ঘরবাড়ি পুড়িয়ে আমাদের পথে বসিয়ে দেওয়া হলো। ওই রাতে ঘরে কেউ না থাকায় প্রাণে বেঁচে গেছি, কিন্তু আমাদের ঈদের আনন্দ এখন শুধুই কান্নায় পরিণত হয়েছে।”

​পরিবারের অন্য সদস্যরা অভিযোগ করেন, মামলা তুলে নেওয়ার ভয়ভীতি বা প্রতিশোধ নিতেই এই অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। তারা দ্রুত এই ঘটনার তদন্ত এবং জোড়া খুনের মামলার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
​বর্তমান অবস্থা ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অগ্নিকাণ্ডের ফলে প্রায় কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এবিষয়ে নহাটা পুলিশ তদন্ত ক্যাম্পের দায়িত্বরত এসআই কৃষ্ণ বাবুর নিকট জানতে চাইলে, তিনি জানান বিষয়টি মৌখিক ভাবে অভিযোগ করেছেন কালাম কিন্তু তাকে আমরা ওসি মহম্মদপুর থানাকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। ওসি সাহেব আমাদের কে যদি দায়িত্ব দিলে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নিবো। এই বিষয়ে মহম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জের সরকারি মোবাইল ফোন নম্বরে বার বার যোগাযোগ করা হলে ফোন রিসিভ না হওয়ায় ওসির মন্তব্য পাওয়া যায়নি।