০৪:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মনিরামপুরে রানা প্রতাপ হত্যা মামলার দুই আসামি অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেফতার

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৭:৫১:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ২২

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের মনিরামপুরে আলোচিত বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির নেতা রানা প্রতাপ বৈরাগী হত্যা মামলার মূল আসামিকে অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্তে সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তৎপরতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত (৫ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যা আনুমানিক ৫টা ৪৫ মিনিটে মনিরামপুর থানার কপালিয়া বাজারে আলম সরদারের দোতলা ভবন ও হাবিবের মার্কেটের মাঝামাঝি কপালিয়া গ্রামের কাঁচা সড়কের পাশে ঝুম বিউটি পার্লারের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন রানা প্রতাপ বৈরাগী। এ সময় অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে মাথা ও বুকে গুলি করে। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে গলায় ছুরিকাঘাত করে জবাই করে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর মনিরামপুর থানায় হত্যা মামলা রুজু হলে তদন্তভার গ্রহণ করেন যশোর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের এসআই কামরুজ্জামান। দীর্ঘ তদন্ত শেষে বাগেরহাট জেলা থেকে সাদ্দাম নামে এক সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) নড়াইল জেলা থেকে অপর সহযোগী রাজীব মোল্লাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

রাজীব মোল্লার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ৭.৬৫ এমএম পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড তাজা গুলি, একটি ফোল্ডিং চাকু এবং যাতায়াতে ব্যবহৃত একটি পালসার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জবানবন্দিতে রাজীব দাবি করেন, রানা প্রতাপ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হলেও পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির নেতা শিপন আহমদ মুন্নার নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ঘের মালিক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত চাঁদাবাজি করতেন। একাধিকবার সতর্ক করার পরও তিনি তা বন্ধ না করায় তাকে হত্যার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশ মোতাবেক হৃদয়, সূর্য ও রাজীব মোল্লা পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ডটি ঘটায়।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন রানা প্রতাপের অবস্থান নিশ্চিত করতে আগে থেকে বাজার এলাকায় লোকজন অবস্থান নেয়। অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর মোটরসাইকেলে এসে হামলাকারীরা গুলি চালায় এবং পরে ছুরি দিয়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Please Share This Post in Your Social Media

মনিরামপুরে রানা প্রতাপ হত্যা মামলার দুই আসামি অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেফতার

আপডেট: ০৭:৫১:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের মনিরামপুরে আলোচিত বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির নেতা রানা প্রতাপ বৈরাগী হত্যা মামলার মূল আসামিকে অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্তে সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তৎপরতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত (৫ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যা আনুমানিক ৫টা ৪৫ মিনিটে মনিরামপুর থানার কপালিয়া বাজারে আলম সরদারের দোতলা ভবন ও হাবিবের মার্কেটের মাঝামাঝি কপালিয়া গ্রামের কাঁচা সড়কের পাশে ঝুম বিউটি পার্লারের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন রানা প্রতাপ বৈরাগী। এ সময় অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে মাথা ও বুকে গুলি করে। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে গলায় ছুরিকাঘাত করে জবাই করে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর মনিরামপুর থানায় হত্যা মামলা রুজু হলে তদন্তভার গ্রহণ করেন যশোর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের এসআই কামরুজ্জামান। দীর্ঘ তদন্ত শেষে বাগেরহাট জেলা থেকে সাদ্দাম নামে এক সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) নড়াইল জেলা থেকে অপর সহযোগী রাজীব মোল্লাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

রাজীব মোল্লার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ৭.৬৫ এমএম পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড তাজা গুলি, একটি ফোল্ডিং চাকু এবং যাতায়াতে ব্যবহৃত একটি পালসার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জবানবন্দিতে রাজীব দাবি করেন, রানা প্রতাপ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হলেও পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির নেতা শিপন আহমদ মুন্নার নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ঘের মালিক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত চাঁদাবাজি করতেন। একাধিকবার সতর্ক করার পরও তিনি তা বন্ধ না করায় তাকে হত্যার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশ মোতাবেক হৃদয়, সূর্য ও রাজীব মোল্লা পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ডটি ঘটায়।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন রানা প্রতাপের অবস্থান নিশ্চিত করতে আগে থেকে বাজার এলাকায় লোকজন অবস্থান নেয়। অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর মোটরসাইকেলে এসে হামলাকারীরা গুলি চালায় এবং পরে ছুরি দিয়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।