১২:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

“আমাদের সমাজের উল্লেখযোগ্য অংশ হলো নারীরা; জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৮:৪৪:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৫৪

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ॥
খাগড়াছড়িতে যথাযোগ্য মর্যাদা ও তাৎপর্যের সঙ্গে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস। দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে মানববন্ধন, র‍্যালি এবং “যৌন হয়রানি প্রতিরোধে হাইকোর্টের নির্দেশনার অর্জন, চ্যালেঞ্জ ও করণীয়” শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। মানববন্ধনে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, নারী নেত্রী এবং তরুণ কর্মীরা ব্যানার–প্ল্যাকার্ড হাতে অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে বর্ণাঢ্য র‍্যালিটি জেলা শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাপলা চত্বর হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।

পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ উদযাপন কমিটির আয়োজনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত এবং সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রুমানা আক্তার।

সভায় জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, “আমাদের সমাজের উল্লেখযোগ্য অংশ হলো নারীরা। তারা সকাল–দুপুর–সন্ধ্যা নিরলস পরিশ্রম করে দেশকে এগিয়ে নিচ্ছে। পুরুষ যেমন, নারীও তেমন—কোনো অংশে কম নয়। সমাজ ও রাষ্ট্রগঠনে নারী-পুরুষ উভয়ের সমান ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি আরও বলেন, নারীর জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টি করা রাষ্ট্র ও সমাজের নৈতিক দায়িত্ব। যৌন হয়রানি প্রতিরোধে হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নে সব প্রতিষ্ঠানে সেল সক্রিয় করতে হবে এবং অভিযোগ গ্রহণ-নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নোমান হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের, খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ পুলক বরন চাকমা, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সুষ্মিতা খীসা, জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা, নারী নেত্রী নমিতা চাকমা, তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থার সিনিয়র প্রকল্প কর্মকর্তা মিনুচিং মারমা–সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল ও সমাজ—সবখানে সচেতনতা এবং জবাবদিহিতা বাড়াতে হবে। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ শুধুমাত্র আইন দিয়ে নয়, সামাজিক পরিবর্তনের মাধ্যমেও সম্ভব।

উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন—এই মতবিনিময় সভা খাগড়াছড়িতে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে নতুন দিক উন্মোচন করবে এবং নারী-পুরুষ সমতার সামাজিক দর্শনকে আরও শক্তিশালী করবে।

Please Share This Post in Your Social Media

“আমাদের সমাজের উল্লেখযোগ্য অংশ হলো নারীরা; জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত

আপডেট: ০৮:৪৪:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ॥
খাগড়াছড়িতে যথাযোগ্য মর্যাদা ও তাৎপর্যের সঙ্গে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস। দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে মানববন্ধন, র‍্যালি এবং “যৌন হয়রানি প্রতিরোধে হাইকোর্টের নির্দেশনার অর্জন, চ্যালেঞ্জ ও করণীয়” শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। মানববন্ধনে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, নারী নেত্রী এবং তরুণ কর্মীরা ব্যানার–প্ল্যাকার্ড হাতে অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে বর্ণাঢ্য র‍্যালিটি জেলা শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাপলা চত্বর হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।

পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ উদযাপন কমিটির আয়োজনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত এবং সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রুমানা আক্তার।

সভায় জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, “আমাদের সমাজের উল্লেখযোগ্য অংশ হলো নারীরা। তারা সকাল–দুপুর–সন্ধ্যা নিরলস পরিশ্রম করে দেশকে এগিয়ে নিচ্ছে। পুরুষ যেমন, নারীও তেমন—কোনো অংশে কম নয়। সমাজ ও রাষ্ট্রগঠনে নারী-পুরুষ উভয়ের সমান ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি আরও বলেন, নারীর জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টি করা রাষ্ট্র ও সমাজের নৈতিক দায়িত্ব। যৌন হয়রানি প্রতিরোধে হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নে সব প্রতিষ্ঠানে সেল সক্রিয় করতে হবে এবং অভিযোগ গ্রহণ-নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নোমান হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের, খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ পুলক বরন চাকমা, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সুষ্মিতা খীসা, জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা, নারী নেত্রী নমিতা চাকমা, তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থার সিনিয়র প্রকল্প কর্মকর্তা মিনুচিং মারমা–সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল ও সমাজ—সবখানে সচেতনতা এবং জবাবদিহিতা বাড়াতে হবে। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ শুধুমাত্র আইন দিয়ে নয়, সামাজিক পরিবর্তনের মাধ্যমেও সম্ভব।

উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন—এই মতবিনিময় সভা খাগড়াছড়িতে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে নতুন দিক উন্মোচন করবে এবং নারী-পুরুষ সমতার সামাজিক দর্শনকে আরও শক্তিশালী করবে।