০৩:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কক্সবাজারে গ্যাস পাম্পে ভয়াবহ বিস্ফোরণে দগ্ধ ১৫, আগুনে পুড়ল গাড়ির সারি

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:৪০:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ২০

কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকায় একটি গ্যাস পাম্পে লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন দগ্ধ হয়েছেন। আগুনের তীব্রতায় প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তাপ ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে এবং পাশের আদর্শ গ্রাম এলাকায়ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বুধবার সন্ধ্যার দিকে গ্যাস পাম্পে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের পর পাম্পের পার্কিংয়ে থাকা কয়েকটি জিপে আগুন ধরে যায় এবং মুহূর্তেই তা আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের শব্দে এলাকায় চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যান।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর ১০টি ইউনিট খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে সেনাবাহিনীর দুটি অগ্নিনির্বাপক দলও উদ্ধার কার্যক্রমে যোগ দেয়। পাহাড়ের ওপর থেকে এবং বিভিন্ন দিক থেকে পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালানো হয়। রাত ২টা পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। অবশেষে ভোরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস এবং সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের দল ছাড়াও সেনা, বিমান ও নৌবাহিনীর লোকজন সহ মোট ১০টি ইউনিট কাজ করেছে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানা-এর ওসি ছমি উদ্দিন জানান, আগুন বিভিন্ন স্থানে ধিকিধিকি জ্বলতে দেখা গেছে এবং এখন পর্যন্ত ১৫ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

অগ্নিকাণ্ডে পাম্পে থাকা অন্তত ৭ থেকে ৮টি গাড়ি পুড়ে গেছে। বিস্ফোরণের পর পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং নিরাপত্তার স্বার্থে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

আগুন নেভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের চার সদস্যসহ মোট ১৫ জন দগ্ধ হন। আহতদের কক্সবাজার সদর হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আরও ৪ থেকে ৫ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ রেফার করা হয়েছে।

ঘটনার পর পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং আগুনের উৎস ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

কক্সবাজারে গ্যাস পাম্পে ভয়াবহ বিস্ফোরণে দগ্ধ ১৫, আগুনে পুড়ল গাড়ির সারি

আপডেট: ১০:৪০:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকায় একটি গ্যাস পাম্পে লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন দগ্ধ হয়েছেন। আগুনের তীব্রতায় প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তাপ ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে এবং পাশের আদর্শ গ্রাম এলাকায়ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বুধবার সন্ধ্যার দিকে গ্যাস পাম্পে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের পর পাম্পের পার্কিংয়ে থাকা কয়েকটি জিপে আগুন ধরে যায় এবং মুহূর্তেই তা আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের শব্দে এলাকায় চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যান।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর ১০টি ইউনিট খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে সেনাবাহিনীর দুটি অগ্নিনির্বাপক দলও উদ্ধার কার্যক্রমে যোগ দেয়। পাহাড়ের ওপর থেকে এবং বিভিন্ন দিক থেকে পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালানো হয়। রাত ২টা পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। অবশেষে ভোরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস এবং সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের দল ছাড়াও সেনা, বিমান ও নৌবাহিনীর লোকজন সহ মোট ১০টি ইউনিট কাজ করেছে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানা-এর ওসি ছমি উদ্দিন জানান, আগুন বিভিন্ন স্থানে ধিকিধিকি জ্বলতে দেখা গেছে এবং এখন পর্যন্ত ১৫ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

অগ্নিকাণ্ডে পাম্পে থাকা অন্তত ৭ থেকে ৮টি গাড়ি পুড়ে গেছে। বিস্ফোরণের পর পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং নিরাপত্তার স্বার্থে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

আগুন নেভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের চার সদস্যসহ মোট ১৫ জন দগ্ধ হন। আহতদের কক্সবাজার সদর হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আরও ৪ থেকে ৫ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ রেফার করা হয়েছে।

ঘটনার পর পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং আগুনের উৎস ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করেছে।