০৯:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

নাভারণ সরকারি খাদ্য গুদামে দুদকের অভিযান, কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:১৬:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫
  • / ৯৪

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের শার্শা উপজেলার নাভারণ সরকারি খাদ্য গুদামে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

নিম্নমানের চাল সংরক্ষণ এবং ধান ক্রয়ে ব্যাপক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামসেদ ইকবালুর রহমানকে কাগজপত্রসহ দুদক যশোর অফিসে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর ২০২৫) দুপুরে দুদক যশোর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আল-আমীনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, শার্শা উপজেলায় ১৭টি রাইস মিল থেকে ১২ হাজার ৬১৬ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব চাল সংগ্রহের সময় প্রতি কেজিতে ৬০ পয়সা করে কমিশন নিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামসেদ। শুধু চাল নয়, ১ হাজার ৫৬ মেট্রিক টন ধান ক্রয়ের সময়ও তিনি একইভাবে কমিশন আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযানে ৪, ৫ ও ৬ নম্বর গোডাউনে রাখা চালের মান যাচাই করে দেখা যায়, তা সরকার নির্ধারিত মানের চেয়ে অনেক নিম্নমানের। এছাড়া ধান ক্রয়ের সুনির্দিষ্ট কোনো হিসাবপত্রও দেখাতে পারেননি অভিযুক্ত কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে দুদক যশোরের সহকারী পরিচালক মো. আল-আমীন বলেন, “অভিযানে অনেক অনিয়ম ধরা পড়েছে। নিম্নমানের চাল পাওয়া গেছে এবং ধান ক্রয়ের হিসাবেও গরমিল রয়েছে। এজন্যই তাকে কাগজপত্রসহ হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

এদিকে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, জামসেদ ইকবালুর রহমান এবং উপ-খাদ্য পরিদর্শক ফারজানার নেতৃত্বে গঠিত একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরেই নাভারণ খাদ্য গুদামে নানা ধরনের দুর্নীতিতে জড়িত। সরকারি খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে ভেঙে পড়ার পেছনে এ চক্রেরই হাত রয়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।

স্থানীয়রা অভিযোগ জানিয়ে বলেন, “আমরা বহুদিন ধরেই এই অনিয়মের কথা শুনে আসছি। কিন্তু কেউ কিছু বললে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। এখন দুদকের এই অভিযান অন্তত কিছু সত্যকে সামনে আনবে বলে আশাবাদী।”

এ ব্যাপারে গুদামের অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

নাভারণ সরকারি খাদ্য গুদামে দুদকের অভিযান, কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ

আপডেট: ১০:১৬:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের শার্শা উপজেলার নাভারণ সরকারি খাদ্য গুদামে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

নিম্নমানের চাল সংরক্ষণ এবং ধান ক্রয়ে ব্যাপক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামসেদ ইকবালুর রহমানকে কাগজপত্রসহ দুদক যশোর অফিসে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর ২০২৫) দুপুরে দুদক যশোর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আল-আমীনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, শার্শা উপজেলায় ১৭টি রাইস মিল থেকে ১২ হাজার ৬১৬ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব চাল সংগ্রহের সময় প্রতি কেজিতে ৬০ পয়সা করে কমিশন নিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামসেদ। শুধু চাল নয়, ১ হাজার ৫৬ মেট্রিক টন ধান ক্রয়ের সময়ও তিনি একইভাবে কমিশন আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযানে ৪, ৫ ও ৬ নম্বর গোডাউনে রাখা চালের মান যাচাই করে দেখা যায়, তা সরকার নির্ধারিত মানের চেয়ে অনেক নিম্নমানের। এছাড়া ধান ক্রয়ের সুনির্দিষ্ট কোনো হিসাবপত্রও দেখাতে পারেননি অভিযুক্ত কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে দুদক যশোরের সহকারী পরিচালক মো. আল-আমীন বলেন, “অভিযানে অনেক অনিয়ম ধরা পড়েছে। নিম্নমানের চাল পাওয়া গেছে এবং ধান ক্রয়ের হিসাবেও গরমিল রয়েছে। এজন্যই তাকে কাগজপত্রসহ হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

এদিকে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, জামসেদ ইকবালুর রহমান এবং উপ-খাদ্য পরিদর্শক ফারজানার নেতৃত্বে গঠিত একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরেই নাভারণ খাদ্য গুদামে নানা ধরনের দুর্নীতিতে জড়িত। সরকারি খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে ভেঙে পড়ার পেছনে এ চক্রেরই হাত রয়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।

স্থানীয়রা অভিযোগ জানিয়ে বলেন, “আমরা বহুদিন ধরেই এই অনিয়মের কথা শুনে আসছি। কিন্তু কেউ কিছু বললে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। এখন দুদকের এই অভিযান অন্তত কিছু সত্যকে সামনে আনবে বলে আশাবাদী।”

এ ব্যাপারে গুদামের অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।