বাংলাদেশ ফার্স্ট”: তারেক রহমানের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি
- আপডেট: ০৫:৩৬:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫
- / ১২৯

ড. জিয়া উদ্দিন হায়দার : বিবিসি বাংলার সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—“বাংলাদেশ ফার্স্ট”। এই ধারণা কোনো রাজনৈতিক স্লোগান নয়; এটি এক রাষ্ট্রদর্শন, যার শিকড় গভীরভাবে প্রোথিত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে।
তারেক রহমানের মতে, “বাংলাদেশ ফার্স্ট” মানে হলো—রাষ্ট্রের প্রতিটি নীতি, প্রতিটি বিনিয়োগ, প্রতিটি সিদ্ধান্তে দেশের মানুষের স্বার্থই আগে আসবে। ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থ নয়, জনগণের কল্যাণই হবে সবকিছুর মাপকাঠি। এই নীতি তিনি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন বিএনপির ৩১ দফা রাষ্ট্র মেরামত কর্মসূচিতে, যেখানে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনকে একীভূত করে জাতীয় পুনর্গঠনের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে তারেক রহমানের বক্তব্যে আরেকটি দিক স্পষ্টভাবে উঠে আসে—মানুষ ও প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা। তিনি তাঁর কন্যা জাইমা রহমানের প্রিয় বিড়ালের কথা উল্লেখ করে বোঝান, প্রাণী ও প্রকৃতির প্রতি মমত্ববোধই আমাদের পরিবেশ ও জলবায়ু সচেতনতার সূচনা। তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন যে ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর একটি, যেখানে শিশু ও বৃদ্ধরা প্রতিদিন বিষাক্ত বাতাসে শ্বাস নিচ্ছে। তাঁর মতে, প্রকৃতি রক্ষাই মানব সভ্যতার রক্ষা; তাই জলবায়ু পরিবর্তন, বায়ু দূষণ ও নগর ব্যবস্থাপনা এখন জাতীয় অগ্রাধিকার হতে হবে।
তারেক রহমান জোর দিয়ে বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন ছাড়া কোনো উন্নয়ন টেকসই হবে না। জনগণের অর্থ ও আস্থা রক্ষা করাই সরকারের প্রথম দায়িত্ব। দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, স্বচ্ছ ব্যয় ও সৎ নেতৃত্ব—এই তিন স্তম্ভের ওপরই “বাংলাদেশ ফার্স্ট” ধারণা দাঁড়িয়ে আছে।
তিনি মনে করিয়ে দেন, “বাংলাদেশ ফার্স্ট” মানে আত্মমুখী রাজনীতি নয়; বরং এমন এক রাষ্ট্র যেখানে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত থেকে নিজেদের জনগণের কল্যাণকে সর্বাগ্রে রাখা হবে। তাঁর এই দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করে যে উন্নয়ন কেবল অবকাঠামো বা সংখ্যায় নয়—বরং মানুষের জীবনমান, ন্যায়, সততা ও পরিবেশের ভারসাম্যের মধ্যে নিহিত।
তারেক রহমানের এই বার্তা বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। দীর্ঘ দেড় দশকের স্বৈরাচার, দুর্নীতি ও বৈষম্যের পর তাঁর “বাংলাদেশ ফার্স্ট” দর্শন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—রাষ্ট্র তখনই শক্তিশালী হয়, যখন মানুষ, প্রকৃতি ও ন্যায় একসাথে এগিয়ে চলে।
লেখক: বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বিশ্ব ব্যাংকের সিনিয়র স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ।
সুত্র : দৈনিক মানব জমিন।

















