০৮:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সরঞ্জাম সরবরাহ শুরু

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৪:২১:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ১০০

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্রে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ধাপে ধাপে নির্বাচন ভবনে পৌঁছাতে শুরু করেছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইতোমধ্যে কয়েক দফায় এসব সামগ্রী এসে পৌঁছেছে। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি মাসের মধ্যেই সব সরঞ্জাম সংগ্রহ ও বিতরণ প্রক্রিয়া শেষ হবে।

নির্বাচন কমিশনের উপ-সচিব রাশেদুল ইসলাম জানান, লাল গালা, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের তালা, অফিসিয়াল সিল, মার্কিং সিল, বড় ও ছোট হেসিয়ান ব্যাগসহ কয়েকটি সামগ্রী আনা হয়েছে। বড় ও ছোট হেসিয়ান ব্যাগের পুরো সরবরাহ পাওয়া গেছে। অন্যান্য সরঞ্জামও ধাপে ধাপে আসছে।

সরবরাহ অগ্রগতির তথ্য অনুযায়ী, লাল গালার মোট ২৩ হাজার কেজি চাহিদার এক-চতুর্থাংশ ইতোমধ্যে পৌঁছেছে। স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের জন্য ৫০ লাখ লকের মধ্যে পাঁচ লাখ সরবরাহ করা হয়েছে। দাপ্তরিক সিলের চাহিদা ৮ লাখ ৪০ হাজার, এর মধ্যে পাঁচ লাখ সরবরাহ শুরু হয়েছে। মার্কিং সিলের ১৭ লাখ ৫০ হাজারের বিপরীতে দেড় লাখ সরবরাহ করা হয়েছে। তবে ব্রাস সিল ও গানি ব্যাগের দরপত্রে বিলম্ব হওয়ায় এখনও সেগুলো আসেনি।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ আগেই জানিয়েছিলেন, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব ধরনের নির্বাচনি সরঞ্জাম সংগ্রহ শেষ হবে। তার ভাষায়, “লোকাল পারসেজ প্রকিউরমেন্টে আটটি সামগ্রী ছিল। এর মধ্যে একটির জন্য পুনরায় দরপত্র দিতে হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরবরাহ পাওয়া যাবে।”

এবার ভোটার সংখ্যা দাঁড়াতে পারে প্রায় পৌনে ১৩ কোটির কাছাকাছি। সে হিসাবে প্রায় ৪৫ হাজার ভোটকেন্দ্র এবং দুই লাখের বেশি ভোটকক্ষ প্রস্তুত রাখতে হবে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছাতে কেন্দ্রভিত্তিক সুঁই-সুতা, দিয়াশলাই, আঠা, কলম থেকে শুরু করে প্লাস্টিকের পাত পর্যন্ত ২১ ধরনের সরঞ্জামও রাখা হবে।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অধিকাংশ সামগ্রী নির্বাচন কমিশন থেকেই সরবরাহ করা হবে। তবে কিছু ছোটখাটো উপকরণ স্থানীয়ভাবে রিটার্নিং অফিসারদের সংগ্রহ করতে হবে। তফসিল ঘোষণার পর এসব সরঞ্জাম ধাপে ধাপে আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা অফিসে পৌঁছে যাবে এবং পরবর্তীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ভোটের আগেই কেন্দ্রে কেন্দ্রে বিতরণ সম্পন্ন করা হবে।

অন্যদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ শুরু করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। রাজনৈতিক দল, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী, নির্বাচন পর্যবেক্ষক, বিশেষজ্ঞ এবং জুলাই আন্দোলনের আহত যোদ্ধাদের এ সংলাপে আমন্ত্রণ জানানো হবে। এক থেকে দেড় মাসব্যাপী এই সংলাপ কয়েক ধাপে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সরঞ্জাম সরবরাহ শুরু

আপডেট: ০৪:২১:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্রে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ধাপে ধাপে নির্বাচন ভবনে পৌঁছাতে শুরু করেছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইতোমধ্যে কয়েক দফায় এসব সামগ্রী এসে পৌঁছেছে। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি মাসের মধ্যেই সব সরঞ্জাম সংগ্রহ ও বিতরণ প্রক্রিয়া শেষ হবে।

নির্বাচন কমিশনের উপ-সচিব রাশেদুল ইসলাম জানান, লাল গালা, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের তালা, অফিসিয়াল সিল, মার্কিং সিল, বড় ও ছোট হেসিয়ান ব্যাগসহ কয়েকটি সামগ্রী আনা হয়েছে। বড় ও ছোট হেসিয়ান ব্যাগের পুরো সরবরাহ পাওয়া গেছে। অন্যান্য সরঞ্জামও ধাপে ধাপে আসছে।

সরবরাহ অগ্রগতির তথ্য অনুযায়ী, লাল গালার মোট ২৩ হাজার কেজি চাহিদার এক-চতুর্থাংশ ইতোমধ্যে পৌঁছেছে। স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের জন্য ৫০ লাখ লকের মধ্যে পাঁচ লাখ সরবরাহ করা হয়েছে। দাপ্তরিক সিলের চাহিদা ৮ লাখ ৪০ হাজার, এর মধ্যে পাঁচ লাখ সরবরাহ শুরু হয়েছে। মার্কিং সিলের ১৭ লাখ ৫০ হাজারের বিপরীতে দেড় লাখ সরবরাহ করা হয়েছে। তবে ব্রাস সিল ও গানি ব্যাগের দরপত্রে বিলম্ব হওয়ায় এখনও সেগুলো আসেনি।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ আগেই জানিয়েছিলেন, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব ধরনের নির্বাচনি সরঞ্জাম সংগ্রহ শেষ হবে। তার ভাষায়, “লোকাল পারসেজ প্রকিউরমেন্টে আটটি সামগ্রী ছিল। এর মধ্যে একটির জন্য পুনরায় দরপত্র দিতে হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরবরাহ পাওয়া যাবে।”

এবার ভোটার সংখ্যা দাঁড়াতে পারে প্রায় পৌনে ১৩ কোটির কাছাকাছি। সে হিসাবে প্রায় ৪৫ হাজার ভোটকেন্দ্র এবং দুই লাখের বেশি ভোটকক্ষ প্রস্তুত রাখতে হবে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছাতে কেন্দ্রভিত্তিক সুঁই-সুতা, দিয়াশলাই, আঠা, কলম থেকে শুরু করে প্লাস্টিকের পাত পর্যন্ত ২১ ধরনের সরঞ্জামও রাখা হবে।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অধিকাংশ সামগ্রী নির্বাচন কমিশন থেকেই সরবরাহ করা হবে। তবে কিছু ছোটখাটো উপকরণ স্থানীয়ভাবে রিটার্নিং অফিসারদের সংগ্রহ করতে হবে। তফসিল ঘোষণার পর এসব সরঞ্জাম ধাপে ধাপে আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা অফিসে পৌঁছে যাবে এবং পরবর্তীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ভোটের আগেই কেন্দ্রে কেন্দ্রে বিতরণ সম্পন্ন করা হবে।

অন্যদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ শুরু করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। রাজনৈতিক দল, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী, নির্বাচন পর্যবেক্ষক, বিশেষজ্ঞ এবং জুলাই আন্দোলনের আহত যোদ্ধাদের এ সংলাপে আমন্ত্রণ জানানো হবে। এক থেকে দেড় মাসব্যাপী এই সংলাপ কয়েক ধাপে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।