০৮:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

আবু সাঈদ হত্যা ৩০ আসামির বিচার শুরু, ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিচ্ছেন প্রত্যক্ষদর্শী

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০১:১১:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ অগাস্ট ২০২৫
  • / ১১২

নিজস্ব প্রতিবেদক : বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলায় ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হয়েছে।

বুধবার (৬ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালেই মামলার গ্রেফতার ৬ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। একইসঙ্গে পলাতক ২৪ আসামির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা অব্যাহতির আবেদন করেছিলেন, তবে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠন করে সবাইকে অভিযুক্ত করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

আসামিদের মধ্যে রয়েছেন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী। তারা বর্তমানে ট্রাইব্যুনালের কারাগারে রয়েছেন।

এর আগে ৩০ জুন প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করা হয়, যা আদালত আমলে নেয়।

উল্লেখযোগ্যভাবে, মামলার বিচারিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বুধবার চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রিনা মুর্মু। তিনি আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের দিনের ঘটনার বর্ণনা দেন। এর আগে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, যিনি আসামি থেকে রাজসাক্ষীতে পরিণত হন, তাকেও ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণের তৃতীয় দিনের কার্যক্রমও একইদিনে সম্পন্ন হয়।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৬ জুলাই (২০২৪), রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে পুলিশ গুলিতে নিহত হন শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। ঘটনার পর এটি দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং পরে সেটিকে “জুলাই গণঅভ্যুত্থান” নামে আখ্যায়িত করা হয়। আবু সাঈদকে এই আন্দোলনের প্রথম শহীদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই মামলাটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বিচার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে উচ্চপদস্থ সাবেক সরকারি কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতারা অভিযুক্ত।

Please Share This Post in Your Social Media

আবু সাঈদ হত্যা ৩০ আসামির বিচার শুরু, ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিচ্ছেন প্রত্যক্ষদর্শী

আপডেট: ০১:১১:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ অগাস্ট ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক : বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলায় ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হয়েছে।

বুধবার (৬ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালেই মামলার গ্রেফতার ৬ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। একইসঙ্গে পলাতক ২৪ আসামির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা অব্যাহতির আবেদন করেছিলেন, তবে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠন করে সবাইকে অভিযুক্ত করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

আসামিদের মধ্যে রয়েছেন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী। তারা বর্তমানে ট্রাইব্যুনালের কারাগারে রয়েছেন।

এর আগে ৩০ জুন প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করা হয়, যা আদালত আমলে নেয়।

উল্লেখযোগ্যভাবে, মামলার বিচারিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বুধবার চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রিনা মুর্মু। তিনি আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের দিনের ঘটনার বর্ণনা দেন। এর আগে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, যিনি আসামি থেকে রাজসাক্ষীতে পরিণত হন, তাকেও ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণের তৃতীয় দিনের কার্যক্রমও একইদিনে সম্পন্ন হয়।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৬ জুলাই (২০২৪), রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে পুলিশ গুলিতে নিহত হন শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। ঘটনার পর এটি দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং পরে সেটিকে “জুলাই গণঅভ্যুত্থান” নামে আখ্যায়িত করা হয়। আবু সাঈদকে এই আন্দোলনের প্রথম শহীদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই মামলাটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বিচার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে উচ্চপদস্থ সাবেক সরকারি কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতারা অভিযুক্ত।