০৩:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

রাজস্ব আদায়ে আইনের চেয়ে প্রয়োগই বড়: এনবিআর চেয়ারম্যান

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৫:২৬:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ অগাস্ট ২০২৫
  • / ১০৭

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেছেন, কাস্টমস ও আয়কর আইনে রেভিনিউ আনার সুযোগ প্রায় শেষ। এখন রাজস্ব আদায়ের প্রধান উপায় হবে এনফোর্সমেন্ট। আইনের জায়গা থেকে নয়, এখন সময় হয়েছে বাস্তবায়নের শক্তি দেখানোর।

সোমবার (৪ আগস্ট-২০২৫) আগারগাঁও এনবিআরের মাল্টিপারপাস হল রুমে অনুষ্ঠিত সেমিনার ও ২০২৫-২৬ করবর্ষের ই-রিটার্ন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দীন আহমেদ।

চেয়ারম্যান বলেন, “আইনের দিক থেকে আর তেমন কিছু বাকি নেই। এখন আপনাকে রেভিনিউ আনতে হবে এনফোর্সমেন্ট দিয়ে। বরং অনেক ক্ষেত্রে আইন করে রেভিনিউ কমে যাবে।”

তিনি বলেন, ১ কোটি ১৭ লাখ ই-টিআইএনধারী থাকলেও, অনেকেই রিটার্ন জমা দেন না। তাদের কমপ্লায়েন্সে আনার চেষ্টা চলছে। কর ফাঁকি দেওয়া ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন, “বিপুল পরিমাণ ব্যবসায়ী ভ্যাট কালেক্ট করেন ঠিকই, কিন্তু তা সরকারি কোষাগারে পৌঁছায় না। অনেক ভ্যাট কালেক্টর এখনও আমাদের সিস্টেমের বাইরে। তাদের সিস্টেমে আনতে হবে।”

সরকারি রাজস্ব হারানোর আরেক উৎস হলো লাগেজ পার্টির মাধ্যমে আসা মোবাইল ফোন, বিশেষ করে আইফোন। এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, “বিদেশ থেকে আসা আইফোনের প্রায় ৯০ শতাংশই লাগেজ পার্টিতে আসে, যার থেকে সরকার কোনো রেভিনিউ পায় না।”

এই বিষয়ে বিটিআরসি ও আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে ম্যানুফ্যাকচার করতে হবে, না হয় ডিউটি দিয়ে আনতে হবে। অবৈধ ফোন যদি নেটওয়ার্কে না চলে, তাহলে লাগেজ পার্টিতে আর ফোন আসবে না।”

ট্যোবাকো খাতকে উল্লেখ করে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, “এই খাতে ১০ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত রেভিনিউ আশা করেছিলাম। কিন্তু সেটা হয়নি। বরং প্রচুর অবৈধ সিগারেট বাজারে রয়েছে—যা ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে বিক্রি হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “যদিও টোব্যাকো খাতে আমরা সর্বোচ্চ ৮৩ শতাংশ পর্যন্ত রেট বাড়িয়েছি, কিন্তু রেভিনিউ সেভাবে বাড়েনি। এটা স্পষ্ট করে দেয়, আইন করে কিছু হবে না, যদি তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন না করা হয়।”

বন্ড সুবিধার অপব্যবহারে বিপুল রাজস্ব ক্ষতি:

চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান জানান, ২০২১ সাল থেকে দেশে বন্ডেড ওয়্যারহাউজ ব্যবস্থার অপব্যবহার চলছে। তিনি বলেন, “সবচেয়ে বেশি রেভিনিউ ফাঁকি হয় বন্ড অপব্যবহারের মাধ্যমে। এখানে রেভিনিউ আদায় করতে হবে অপারেশনাল ইফিসিয়েন্সি বাড়িয়ে।”

তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আইন করে কিছু হবে না, যতোক্ষণ না বাস্তবায়নের জায়গায় আমরা কঠোর হই।

Please Share This Post in Your Social Media

রাজস্ব আদায়ে আইনের চেয়ে প্রয়োগই বড়: এনবিআর চেয়ারম্যান

আপডেট: ০৫:২৬:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ অগাস্ট ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেছেন, কাস্টমস ও আয়কর আইনে রেভিনিউ আনার সুযোগ প্রায় শেষ। এখন রাজস্ব আদায়ের প্রধান উপায় হবে এনফোর্সমেন্ট। আইনের জায়গা থেকে নয়, এখন সময় হয়েছে বাস্তবায়নের শক্তি দেখানোর।

সোমবার (৪ আগস্ট-২০২৫) আগারগাঁও এনবিআরের মাল্টিপারপাস হল রুমে অনুষ্ঠিত সেমিনার ও ২০২৫-২৬ করবর্ষের ই-রিটার্ন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দীন আহমেদ।

চেয়ারম্যান বলেন, “আইনের দিক থেকে আর তেমন কিছু বাকি নেই। এখন আপনাকে রেভিনিউ আনতে হবে এনফোর্সমেন্ট দিয়ে। বরং অনেক ক্ষেত্রে আইন করে রেভিনিউ কমে যাবে।”

তিনি বলেন, ১ কোটি ১৭ লাখ ই-টিআইএনধারী থাকলেও, অনেকেই রিটার্ন জমা দেন না। তাদের কমপ্লায়েন্সে আনার চেষ্টা চলছে। কর ফাঁকি দেওয়া ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন, “বিপুল পরিমাণ ব্যবসায়ী ভ্যাট কালেক্ট করেন ঠিকই, কিন্তু তা সরকারি কোষাগারে পৌঁছায় না। অনেক ভ্যাট কালেক্টর এখনও আমাদের সিস্টেমের বাইরে। তাদের সিস্টেমে আনতে হবে।”

সরকারি রাজস্ব হারানোর আরেক উৎস হলো লাগেজ পার্টির মাধ্যমে আসা মোবাইল ফোন, বিশেষ করে আইফোন। এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, “বিদেশ থেকে আসা আইফোনের প্রায় ৯০ শতাংশই লাগেজ পার্টিতে আসে, যার থেকে সরকার কোনো রেভিনিউ পায় না।”

এই বিষয়ে বিটিআরসি ও আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে ম্যানুফ্যাকচার করতে হবে, না হয় ডিউটি দিয়ে আনতে হবে। অবৈধ ফোন যদি নেটওয়ার্কে না চলে, তাহলে লাগেজ পার্টিতে আর ফোন আসবে না।”

ট্যোবাকো খাতকে উল্লেখ করে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, “এই খাতে ১০ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত রেভিনিউ আশা করেছিলাম। কিন্তু সেটা হয়নি। বরং প্রচুর অবৈধ সিগারেট বাজারে রয়েছে—যা ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে বিক্রি হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “যদিও টোব্যাকো খাতে আমরা সর্বোচ্চ ৮৩ শতাংশ পর্যন্ত রেট বাড়িয়েছি, কিন্তু রেভিনিউ সেভাবে বাড়েনি। এটা স্পষ্ট করে দেয়, আইন করে কিছু হবে না, যদি তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন না করা হয়।”

বন্ড সুবিধার অপব্যবহারে বিপুল রাজস্ব ক্ষতি:

চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান জানান, ২০২১ সাল থেকে দেশে বন্ডেড ওয়্যারহাউজ ব্যবস্থার অপব্যবহার চলছে। তিনি বলেন, “সবচেয়ে বেশি রেভিনিউ ফাঁকি হয় বন্ড অপব্যবহারের মাধ্যমে। এখানে রেভিনিউ আদায় করতে হবে অপারেশনাল ইফিসিয়েন্সি বাড়িয়ে।”

তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আইন করে কিছু হবে না, যতোক্ষণ না বাস্তবায়নের জায়গায় আমরা কঠোর হই।