গুলশানে তানভীর ইমামের সাবেক স্ত্রীর বাড়িতে ভাঙচুর-লুটপাট চেষ্টার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ জন কারাগারে
নিজস্ব প্রতিবেদক : ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের ছেলে তানভীর ইমামের সাবেক স্ত্রীর গুলশানের বাসায় তল্লাশির নামে তছনছ, ভাঙচুর ও লুটপাটের চেষ্টার ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার বিকালে ঢাকা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই আদেশ দেন। এছাড়া এ ঘটনায় আরও অজ্ঞাত ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনজনকে আটকের তথ্য জানানো হয়। পরবর্তীতে তাদের নামে গুলশান থানায় মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠনো তিনজন হলেন- শাকিল খন্দকার (২৪), জুয়েল খন্দকার (৪৮) এবং শাকিল আহমেদ (২৮)। এর মধ্যে জুয়েল খন্দকার ও শাকিল খন্দকার সম্পর্কে বাবা-ছেলে।
প্রেস উইং থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তানভীর ইমামের সাবেক স্ত্রীর গুলশানের বাসায় বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ, অস্ত্র ও আওয়ামী লীগের দোসরদের লুকিয়ে রাখা হয়েছে- এমন তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার মধ্যরাতে দরজা ভেঙে ‘তল্লাশির’ নামে ২০-২৫ জন লোক ঢুকে পড়ে। তল্লাশির অজুহাতে সেখানে প্রবেশ করে বাসাটি তছনছ, ভাঙচুর ও লুটপাটের চেষ্টা করে তারা।
৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১২টায় ঘটনাস্থলে যান গুলশান জোনের ডিসি, গুলশান থানার ওসিসহ সেনাবাহিনীর সদস্যরা। সেখান থেকে তিনজনকে আটক করা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, শাকিল আহমেদ একসময় বাসাটিতে কেয়ারটেকারের কাজ করতেন। তিনিই মূলত জনতাকে ২০০-৩০০ কোটি টাকা পাওয়া যেতে পারে তথ্য দিয়ে বাসাটিতে তল্লাশি চালানোর জন্য উস্কানি দেন।
এর আগে গত সোমবার দিন রাত সাড়ে ১০টার দিকেও একই অজুহাতে একদল জনতা বাসাটিতে প্রবেশের চেষ্টা করে। পরবর্তী সময়ে পুলিশ এসে তাদের বুঝিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ মর্মে আবারও সতর্ক করছে যে, কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়। কোথাও কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে যেন সঙ্গে সঙ্গে নিকটবর্তী থানাকে অবহিত করা হয়।
সরকার দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সচেষ্ট রয়েছে এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে বদ্ধপরিকর বলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।